• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধান পোড়ানোর ঘটনাটি পরিকল্পিত : খাদ্যমন্ত্রী 

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

১৫ মে ২০১৯, ১৪:০৫
খাদ্যমন্ত্রী
সিরাজগঞ্জে খাদ্য বিভাগ আয়োজিত অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

টাঙ্গাইলে কৃষকের ধান পোড়ানোর ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, ধানের দাম দুইশত টাকা হলেও কৃষক পোড়াবে না। মনে ক্ষোভ হবে। কারণ একজন পিতা তার সন্তান বিকলাঙ্গ হোক না কেনো গলাটিপে মেরে ফেলতে পারবে না। 

বুধবার (১৫ মে) সকালে সিরাজগঞ্জে খাদ্য বিভাগ আয়োজিত অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি এমনই পরিকল্পিত যে, প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্টাররা সকালেই চলে গেল। টিভি সকাল বেলাই চলে গেল। তার পরে ধানে আগুন দেয়া হলো। এটি সরকারকে পর্যুদস্ত করার একটা পরিকল্পনা।’

প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক ছাড়া ধান একটি কেজিও বাইরে কিনতে দেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করে খাদ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে শপথ নেওয়া কথা জানান। 

তিনি বলেন, সরকারকে পর্যুদস্ত করার জন্য নানা ভবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। আমিও একজন কৃষক। ধান বিক্রি করি। আমারও কষ্ট আছে। 

কৃষিমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। এছাড়া তিনি বলেন, প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনা পর্যন্ত আমরা কিন্তু কৃষকদেরকে ঠিক মতো মূল্যায়ন করতে পারবো না। কারণ যে লক্ষ টন ধান কেনা তা এক্কেবারে কম বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, ‘১০ লক্ষ টন সিদ্ধ চাউল, দেড় লক্ষ টন আতপ চাউল কেনা সম্ভব। কিন্তু ধান এবং চাউল যদি একই গোডাউনে রাখা যায় তাহলে ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাউলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা ধান নিয়ে আসার পরে ১৪ শতাংশ ময়েশ্চার যেন না থাকে তখন ওসি এল এস ডিও মনে করে এ ধান নেয়া যাবে না। যতই ঘোরানো যায় ততই মজা পাওয়া যায়। তার ওপর লেবারদের একটি খবরদারি দিয়ে দেয় তোরা অত্যাচার করবি যাতে কৃষকরা চলে যায়। এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের উৎপাদিত চাউল বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সরকারিভাবে প্রান্তিক কৃষক এবং মিলারদের নিকট থেকে ধান চাল ক্রয়ের যে বরাদ্দ দিয়েছি, তা যেন জোরে শোরে ক্রয় করা হয় যাতে বাজারে প্রভাব পরে। 

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য যে সকল এলাকায় বোরো ধান বেশি উৎপাদন হয়, সেখানে প্যাডিক সাইস্লো ডাই মেশিন এবং ফ্যানি মেশিন সাথে দিয়ে আমরা যাতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনতে পারি সে ব্যবস্থা করা হবে। 

খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার উদ্দিন শামীম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কে.এম হোসেন আলী হাসান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মোতালেব, কাজীপুর উপজেলার চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী। 

চলতি বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫ হাজার ৮ শত ৮৩ মেট্রিক টন ধান, ২২হাজার ১ শত মেট্রিক টন বোরো চাল, আতপ চাউল ৫হাজার ৮ শত ২২ মেট্রিক টন এবং ২২ শত ৫১ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা কেজি, চাউল ৩৬ টাকা, আতপ চাউল ৩৫ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড