• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

নতুন কাঠামোতে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কমেছে ২৬ শতাংশ : টিআইবি

  অধিকার ডেস্ক    ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৫৬

পোশাক খাত

তৈরি পোশাক খাতের নতুন কাঠামোতে শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে - এমনটি দেখানো হলেও বাস্তবিক অর্থে তারা ২৬ শতাংশ বেতন কম পাচ্ছেন। এ খাতের মজুরি নিয়ে মালিকপক্ষ মূলত শ্রমিকদের সঙ্গে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে। এমনটি দাবি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)।

রাজধানীর টিআইবি কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

টিআইবির সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা ও মো. মোস্তফা কামাল গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ।

টিআইবি জানায়, ২০১৩ সালের ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত প্রথম গ্রেডে নতুন মজুরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। কিন্তু ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ মজুরি হওয়ার কথা ছিল ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। সেই হিসেবে মজুরি ২৮ শতাংশ বা ২ হাজার ৪০৫ টাকা বা কমেছে। এভাবে নতুন কাঠামোতে মজুরি সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। এ হিসেবে মজুরি বাড়েনি, বাস্তবিক অর্থে সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি পর্যাপ্ত দৃষ্টি পাচ্ছে না। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। বাস্তবে মজুরি কমে গেছে বলে ধারণা করা হতো। আমাদের প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে। আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। এমনকি যারা আন্দোলন করেছে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী প্রধান। আর মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে, যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত বলেও মনে করেন তিনি।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করায় পাঁচ হাজার শ্রমিককে আসামি করে ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ১৬৮টি কারখানায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার থেকে রপ্তানি এবং মালিকদের মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল গঠনের মাধ্যমে বিচারের দাবিও জানায় টিআইবি।

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড