• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ

রাশিয়া-বাংলাদেশ বৈঠক
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ডানে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বামে (ছবি : সংগৃহীত)

নিরাপত্তা জনিত সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করতে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ। এবার রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।  

আগামী ৩০ এপ্রিল রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রোহিঙ্গা ইস্যু, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। 

রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্পের মোট ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার খরচের ৯০ শতাংশই দেবে রাশিয়া। বাকি ১০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের। এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিক পথেই এগুচ্ছে। প্রথম ধাপের ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আমরা চার মাসের মতো পিছিয়ে আছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সাক্ষাতে গোটা কাজটি আরও দ্রুত শেষ করার জন্য রাশিয়াকে অনুরোধ করা হবে। কারণ, প্রতিদিনের জন্য এই প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি।’

এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম বাংলাদেশে কাজ করছে এবং দেশের প্রায় ৮ ভাগ গ্যাস এই কোম্পানি সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে আরও সাতটি গ্যাস কূপ করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করে খুশি এবং এই খাতে আমরা আরও রাশিয়ান বিনিয়োগ চাই। বাপেক্স রাশিয়ান কোম্পানির অংশীদার হিসাবে কাজ করে থাকে এবং তারাও জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করে।

রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্থান, কিরগিজস্তান ও আর্মেনিয়া মিলে ইউরেশিয়া ইউনিয়ন জোট গঠন করেছে এবং ওই দেশগুলিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা চায়। এই বিষয়ে অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই জোটের কোনও একটি দেশে বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার জন্য ইউরেশিয়া ইউনিয়ন সচিবালয়ের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হবে। এই দর কষাকষি শুরু করার জন্য আমরা একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছি এবং আশা করছি, এটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষর হবে।

এছাড়া রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গভীর। তাই রাশিয়ার সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাদের সহায়তা চাবো, যাতে করে রোহিঙ্গারা নিরাপদে রাখাইনে ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের জাতীয় স্বার্থ আছে, আমাদের চেষ্টা থাকবে রাখাইনে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য, তাদের সমর্থন আদায়।’ 

এর আগে গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশের ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রকেও অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কটন আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রযুক্তি হস্তান্তর করে সহায়তা করুক এটা বাংলাদেশ চায়। জ্বালানী ও গ্যাস খাতেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মিয়ানমারকে এই বিষয়ে জোরালো চাপ প্রয়োগের ও আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদকে বাংলাদেশ কখনই প্রশ্রয় দেয় না, এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স দেখায় বলে বৈঠকে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।    

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড