• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব পাওয়া ৭ মুক্তিযোদ্ধা

নাবিলা বুশরা  
২৬ মার্চ ২০১৯, ১২:১৫

'বীরশ্রেষ্ঠ'
'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব পেয়েছিলেন ৭ মুক্তিযোদ্ধা (ছবি: সম্পাদিত)

যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া হয় 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে। দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাঁরা জীবন বিলিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। আজকের আয়োজন এই সাত বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে। 

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান 

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয় তাঁদের মাঝে অন্যতম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের "মোবারক লজ"-এ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

মতিউর

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান 

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমান বিধ্বস্তে নিহত হন মতিউর রহমান। 

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন 

মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।  ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

রুহুল

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন 

যুদ্ধের সময় যোগ দেন ২ নং সেক্টরে। মেজর শফিউল্লাহের নেতৃত্বে ২ নং সেক্টরে তিনি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং স্থলযুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানে যোগ দেন। 

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর পাড়ে আহত রুহুলকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পাকিস্তানীরা। 

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ 

'বীরশ্রেষ্ঠ' স্বীকৃতি পাওয়া সাতজনের মাঝে অনন্য এক নাম মুন্সি আব্দুর রউফ। ১৯৪৩ সালের ১ মে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার (পূর্বে বোয়ালমারী উপজেলার অন্তর্গত) সালামতপুরে (বর্তমান নাম রউফ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

মুন্সী

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ 

তিনি ১৯৬৩ সালের ৮ মে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত পদাতিক সৈন্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বুড়িঘাট গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল মর্টারের আঘাতে শহীদ হন রউফ। তাঁকে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় একটি টিলার ওপর সমাহিত করা হয়। 

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর  

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব প্রদান করা হয়। 

জাহাঙ্গীর

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর  

মুক্তিবাহিনীর ৭নং সেক্টরের একজন কর্মকর্তা ছিলেন মহিউদ্দিন। মহানন্দা নদীর তীরে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভাঙার প্রচেষ্টার সময় তিনি শহীদ হন। তাঁর উদ্যোগে মুক্তিবাহিনী ঐ অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়। এর ফলে শত্রুমুক্ত হয় ওই এলাকা। 

তাঁর সম্মানে ঢাকা সেনানিবাসের প্রধান ফটকের নাম 'শহীদ জাহাঙ্গীর গেট' নামকরণ করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ 

'বীরশ্রেষ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত করা সাত নামের মাঝে এক নাম নূর মোহাম্মদ শেখ। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

নূর

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ 

১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ যোগদান করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন। যুদ্ধ চলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা'র নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নূর মোহাম্মদ। 

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানী শত্রুপক্ষের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করায় ক্ষিপ্ততার ফলস্বরূপ তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। 

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল 

মুক্তিযুদ্ধে অবদানে সাত বীরশ্রেষ্ঠর মাঝে অপর এক নাম মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল।  ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

কামাল

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল 

১৯৬৭-র ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে চাকরি গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। ১৯৭১-এর প্রথম দিকে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়। আখাউড়ায় অবস্থিত চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দক্ষিণ দিক থেকে নিরাপত্তার জন্য দরুইন গ্রামের দুই নম্বর প্লাটুনকে নির্দেশ দেয়। সেই প্লাটুনেই ছিলেন সিপাহী মোস্তফা কামাল। 

৭১'র ১৬ এপ্রিল শত্রু পক্ষের সাথে গোলাগুলির এক পর্যায়ে তাঁর রাইফেলের গুলি শেষ হয়ে গেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোস্তফা কামাল। 

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান 

মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাত জন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদানিন্তন যশোর জেলার (বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা) মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

হামিদুর

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান 

১৯৭০ সালে হামিদুর যোগ দেন সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে। তাঁর প্রথম ও শেষ ইউনিট ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। ৭১'র ২৮ অক্টোবর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে ধলই সীমানা ফাঁড়ি দখল করতে সমর্থ হন। কিন্তু বিজয়ের সে স্বাদ নিতে পারেননি হামিদুর রহমান। শত্রুপক্ষের সাথে হাতাহাতি লড়াইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। 

সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখন্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় এক পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয় হামিদুরের মরদেহ। কবরটি নীচু স্থানে অবস্থিত থাকায় এক সময় পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারের সিদ্ধান্তে ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর হামিদুরের দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাথে তাঁকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড