• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

দখলদারদের কাছ থেকে উচ্ছেদের খরচ নেয়া হবে : বিআইডাব্লিউটিএ 

  নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৯

ছবি : সংগৃহীত

বুগিড়ঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যে ব্যয় হয়েছে, দখলদারদের কাছ থেকে সে টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া বিআইডাব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন।

বিগত দিনের মধ্যে বিআইডাব্লিউটিএর সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান এটি। এসময় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৪৯টি স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি দোতালা ভবন, নয়টি একতলা ভবন, পাঁচটি আধাপাকা, দুইটি টিনসেড, ৩০টি (তিন হাজার ফুট) বাউন্ডারি ওয়াল, ১৩টি ইটের স্তূপ উচ্ছেদ করা হয়।

গতকাল ও আজ এই দুই দিনে বসিলা অংশে প্রায় ১১ একর অবৈধ ভরাটকৃত জায়গা অবমুক্ত করার পর সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা বলেন বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক।

তিনি বলেন, ‘উচ্ছেদকৃত স্থানে এক্সেভেশন ও ড্রেজিং করে পুনরায় নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের কাছ থেকে উচ্ছেদ ও অপসারণ ব্যয় আদায়ের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

জানুয়ারির শেষ থেকে বুড়িগঙ্গার তীরে উচ্ছেদ অভিযান ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের অভিযান এর আগে হয়নি। এখানে তালিকা করে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে সব স্থাপনা। এমনকি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের তিনটি স্থাপনাও বাদ যায়নি। অভিযানের সময় ৪৩টি মসজিদ সাময়িক সময়ের জন্য ভাঙ্গা বা উচ্ছেদ করা হয়নি। তবে এগুলোও ভবিষ্যতে স্থানান্তর করা হবে। বিকল্প জায়গার মসজিদ নির্মানের পর নদীর তীরের এসব মসজিদ ভাঙ্গা হবে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ।

টানা ১১ দিন চলার পর মঙ্গলবার বসিলায় একটি অবৈধ আবাসন ভেঙে দিতে বাধার মুখে পড়ে অভিযানকারী দল। আমিন মোমেন হাউজিং নামে ওই প্রকল্পটি উচ্ছেদের সময় ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে একজন বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আটক করা হয় তাকে। এরপর অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এতে এই অভিযান নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠে।

বুধবার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর বসিলা, আমিন-মোমেন হাউজিং ও বসিলা দক্ষিণমুড়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে চার পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানে ১২ দিনে ছোট-বড় স্থাপনা মিলিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭০৮টি অবৈধ স্থাপনা।

উচ্ছেদের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার আমিন মোমেন হাউজিং এর উচ্ছেদ অসমাপ্ত থাকার পর বুধবার সকালে ওই জায়গা থেকেই উচ্ছেদ শুরু করা হয়। দুপুরের মধ্যে ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর বসিলা দক্ষিণমুড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দুই পর্যায়ে উচ্ছেদ করা হয় এক হাজার ১৯৯ টি স্থাপনা। তৃতীয় পর্যায় অভিযান শেষে উচ্ছেদের পরিমাণ দেড় হাজার। চতুর্থ পর্যায়ের প্রথম দিন ১২০ টি স্থাপনা উচ্ছেদ, দ্বিতীয় দিন ৩৯টি ও তৃতীয় দিনে উচ্ছেদ হয়েছে ৪৯টি অবৈধ স্থাপনা। মোট এক হাজার ৭০৮টি স্থাপনা উচ্ছেদের পর থামল বিআইডাব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান।

বিআইডাব্লিউটিএর পরিচালিত অভিযানের প্রস্তাবনায় রয়েছে, বুড়িগঙ্গার দখল উচ্ছেদের পর নদীর সীমানা পুনঃনির্ধারন করতে ১০ হাজার পিলার বসানো হবে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগকে তার সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদীতে ড্রেজিং করা হবে। এরপর পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বনায়ন, লাইটিং ও ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এসব কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

ওডি/ এজেড

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড