• রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধর্ষণের বিচারে আইন সংশোধনের দাবি

  নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৫৫

ব্লাস্ট
ছবি : সংগৃহীত

সময় অনুপযোগী সংজ্ঞাসহ নানা কারণে ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে অনেক ক্ষেত্রে বিচার পাওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই আইনের সংশোধন প্রয়োজন মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা উল্লেখ করেন, ১৮৯০ সালের আইনেই চলছে ধর্ষণের বিচার। ওই আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ১২৮ বছর পরও তা একই রেখে করা হচ্ছে ধর্ষণের বিচার।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এক সম্মেলনে এই ধর্ষণ আইনের সংশোধন চাওয়া হয়।

সম্মেলনে বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান, বিচারপতি মো. নিযামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ডিরেক্টর তৌহিদা খন্দকার, জাতীয় মানভাধিকার কমিশনের নারী অধিকার কমিটির প্রধান নুরুন নাহার ওসমানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের সংজ্ঞা সংশোধন না হওয়ার ফলে কি কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত একটি গবেষণার কিছু অংশ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় যৌন সম্ভোগের কথা উল্লেখ করা আছে, কিন্তু এটি ছাড়াও অনেকভাবে ধর্ষণ হতে পারে। এসময় তিনি ভারতের আইনের উল্লেখ করে বলেন ২০১৩ সালে তারাও এই আইনটি সংশোধন করেছে।’

‘আইনের সংজ্ঞায় ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী উল্লেখ আছে ধর্ষণ শুধু নারী ও মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে হতে পারে কিন্তু আমাদের সমাজেই ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আইনে উল্লেখ না থাকার তাদের ক্ষেত্রে ৩৩৭ ধারায় অস্বাভাবিক আক্রমণ হিসেবে দেখানো হয়’, তাসলিমা ইয়াসমিন এটাকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই আইনের সবচেয়ে দুর্বল দিক হিসেবে তাসলিমা চিহ্নিত করেন, বাল্য বিবাহে ১৩ বছরের কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে স্বামীর শারীরিক সম্পর্ক হলে তা ধর্ষণ বলে উল্লেখ হবে। কিন্তু আইনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্মত হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিপন্থি। সম্প্রতি ভারত এই আইনটি সংশোধন করে ১৫ বছর করলেও বাংলাদেশে এর সংশোধন হয়নি।

বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ধর্ষণের আইনটি ১৮৯০ সালে তৈরি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সমাজ এবং জীবন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এরপরে ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন হয় যা ২০০০ ও ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়, যেখানে ধর্ষণের সংজ্ঞায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন আইনের সংশোধন চাই, তখন আইন প্রণেতারা ভাবেন বুঝি শাস্তি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আইনের এই ত্রুটির ফলে ধর্ষিতা সঠিক বিচার পায় না।’ এসময় তিনি এসিড অপরাধ প্রতিরোধ আইনের উল্লেখ করে বলেন, ‘আইন এমন হতে হবে যেন তার ফলে অপরাধ কমে, বিচার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং অপরাধী শাস্তি পায়।’

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির ডিরেক্টর তৌহিদা খন্দকার বলেন, ‘এই আইনে স্পষ্টভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলা হলেও, এটা মানা হয় না। এ ছাড়াও যে মামলাগুলো পুলিশ নেয় না, কোর্টে গিয়ে করতে হয় সেই সময়ক্ষেপণে যখন শারীরিক প্রমাণ হারিয়ে যায় তখন এ কথাটা উল্লেখ হয় না যে ঘটনার কতদিন পরে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল।’ এছাড়াও আসামির সঙ্গে বিবাহের মাধ্যমে আইন খারিজের বিষয়টিকেও আইনকে নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া সংশোধিত আইনে প্রতিবন্ধীদের জন্যেও বিশেষ বিধানের সুপারিশ করা হয়।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড