• রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকারিভাবে যে আইনগত সহায়তা পাওয়া যায়, বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা কম: বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন

  রফিক খন্দকার

০১ মে ২০২৩, ১৮:৫৮
বিচারপতি

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান বলেছেন, উচ্চ আদালতে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, সরকারিভাবে আইনগত যে সহায়তা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা কম। এ ছাড়া বিনা খরচে বিনা পয়সায় যে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়, এ বিষয়ে সুবিধাভোগিদের, এখানে খুব উচুমানের আইনজীবিরা কাজ করেন না, যেসব আইনজীবিদের কাজ কম, তারাই এখানে কাজ করেন বলে মানুষের মধ্যে এখনও এমন ধারণা থাকতে পারে।

শুক্রবার জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গাইবান্ধা শহরের পৌরপার্ক চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিচারপতি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ভাল ভাল আইনজীবিরা যাতে এ কার্যক্রমে প্যানেলভুক্ত থাকেন এবং তারা মাসে একটা-দুইটা করে আইনগত সহায়তার কেসগুলো করেন। তাহলে যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের মধ্যে আস্তা আসবে যে, সরকার যে বিনা খরচে আমাদের আইনগত সহায়তা দিচ্ছে। তারা জানবে এখানে ভাল আইনজীবি আছে।

এ ছাড়া খারাপ লোকের পরামর্শে নারীদের পারিবারিক সমস্যাগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল কোর্টে চলে যায়। ফলে শতকরা ৯০ ভাগ মামলা থেকে আসামিরা খালাস পায়। এর কারণ হিসেবে দেখা যায়, অনেকে মামলা করতে চান না, সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু ভাল আইনজীবির পরামর্শের অভাবে একটা মামলায় হয়ে যায়। তারপর দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি এবং শেষ পযন্ত কিছুই প্রমাণ করতে পারেন না। তাদের তথ্য জানার অভাব আছে।

তাই আমি অনুরোধ করবো, এ ধরণের ঘটনায় কেউ আদালতে আসলে তাদেরকে লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে পাঠাবেন এবং এসব তথ্যের বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে কিভাবে পৌছানো যায়, এজন্য লিগ্যাল এইড কমিটিকেও সচেতনতামূলক কাজ বাড়াতে হবে। আমার ধারণা, ভাল পরামর্শ পেলে অনেকেই আর কোর্টে যাবে না। কারণ আমাদের অধিক জনসংখ্যার একটা দেশ, এখানে এমনিতে আমরা মামলায় জর্জরিত। তারমধ্যে যেসব মামলা যাবার প্রয়োজন নেই কোর্টে, সেগুলোও যদি নিয়ে যায়, তাহলে কোন মামলায় খুব সহজে আমরা বিচার পাচ্ছি না, অনেকদিন সময় লাগছে।

একই সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মিঞা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা যদি না করা যায়, তাহলে সমাজে উন্নতি লাভ করতে পারবে না। আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করবো, যাতে কোন মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হন। তিনি লিগ্যাল এইড কমিটির সচেতনতামুলক কাজ বাড়ানো হবে বলেও জানান।

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আবুল মনসুর মিঞা। বক্তব্য দেন, গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুনতাসির আহমেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপেন্দ্র চন্দ্র দাস, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ইবনে মিজান, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি ফারুক আহমেদ, সহকারি জজ মোঃ ওবায়দুল হক, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মতলুবর রহমান, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মাসুমা খানম প্রমুখ।

এ ছাড়া পৌরপার্কে লিগ্যাল এইড মেলা, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, গণস্বাক্ষর অভিযান, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রোজেক্টরে বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনগণকে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম বিষয়ে অবগত করা হয়। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড