• রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গাজীপুরের ব্রিতে প্রধানমন্ত্রী

‘মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতির পিতা সংগ্রাম করেছিলেন’

  আব্দুল মালেক, স্টাফ রিপোর্টার (গাজীপুর)

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:২২
‘মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতির পিতা সংগ্রাম করেছিলেন’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি : অধিকার)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে এটাই চিল তার জীবনের লক্ষ্য। শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষকদের সুবিধার জন্য ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দেন, পাকিস্তানের আমলে দেয়া ১০ লক্ষ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্ত করে দেন।

তিনি আরও বলেন, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ করা শুরু করেন, গৃহহীনদের জন্য ঘর বাড়ি তৈরি করা শুরু করেন এবং বাজেটে কৃষিকে সব থেকে তিনি বেশি অবদান রাখেন এবং সেই সাথে সাথে বিদেশ থেকে সেচের ব্যবস্থা করার জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয় করার শুরু করে কৃষিকে যান্ত্রিকী করণ করার পরিকল্পনাও তিনি হাতে নেন, কৃষি উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় তার জন্য উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও বীজ বিতরণ করা শুরু করেন। তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন এবং এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান ও বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন- কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। এতে বক্তব্য রাখেন- কানাডার গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব ফুড সিকিউরিটির (সিইইউ) নির্বাহী পরিচালক ড. স্টেভিন ওয়েব, ফিলিপাইনের ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিচার্স ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল ড. জেইন বালিই, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর প্রমুখ।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, সিমিন হোসেন রিমি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্যাহ মণ্ডল, সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, ধান ও কৃষি বিজ্ঞানীসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের যুব সমাজকে কৃষি কাজে আরও সম্পৃক্ত করার দরকার। আমার মনে হয় স্কুল জীবন থেকে সম্পৃক্ত করার দরকার। মাঠে কাজ করা বা ফসল ফলানো এটা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়, লজ্জার বিষয় নয়। সেই ভাবেই আমাদের দেশের মানুষকে গড়ে তুলতে হবে। অনেক ছেলে মেয়ে লেখাপড়া শিখে মাঠে যেতে চায় না। এমনকি বাবা কৃষক সেটা বলতেও লজ্জা পেতো। আজকে কিন্তু সেই লজ্জাটা আর নাই। সে লজ্জাটা আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি। করোনা কালীন সময়ে যখন আমাদের কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না ধান কাটতে আমি যখন আমাদের ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনের সকল ছেলে-মেয়েকে নির্দেশ দিলাম তোমরা মাঠে যাও, ধান কাটো কৃষকের পাশে। তারা কিন্তু ধান কেটেছে।

প্রধানমন্ত্রী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ব্রি’র গৌরব ও সাফল্যের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পায়রা ও বেলুন উড়ান। তিনি বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। পরে ব্রির ইনোভেশনস পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ৫টি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধরণের কৃষি প্রযুক্তি যন্ত্রাংশ ও কৃষির বিভিন্ন ব্রিডিং প্লান্ট ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান উৎপাদনের গুরুত্ব কে বেশি প্রাধান্য দেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দুনিয়া ভরে চেষ্টা করেও আমি চাউল কিনতে পারছি না যদি চাউল কিনতে হয় তাহলে আপনাদের চাউল পয়দা করে খেতে হবে। আপনারা জানেন, ১৯৭৪সালে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। নগদ অর্থ দিয়ে কেনার খাদ্য বাংলাদেশের প্রবেশ হয় নাই। কৃত্রিমভাবে একটা দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। জাতির পিতা চেয়েছিলেন আমাদের খাদ্য আমরা উৎপাদন করবো। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এটাকে আইন করে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গবেষণার উপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন তখনকার মানুষের যতটুকু চাহিদা মেটানো তার ব্যবস্থা তিনি করতে পেরেছিলেন, ১৯৭৫ সালে সব থেকে বেশি ফসল উৎপাদন হয়েছিল বাংলাদেশে, প্রবৃদ্ধি ৯ভাগের উপরে উঠেছিল। দুভার্গ্যের বিষয় ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের চিন্তা ভাবনা ধ্যান ধারনা আলাদা ছিল। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলবে এটা তারা চায় নি। বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করতে চেয়েছিল।

তিনি বলেছেন, তাই ৯৬ সালে ২১বছর পর আওয়ামীলীগ যখন সরকার গঠন করে তখন আমরা কি পেয়েছিলাম, ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল বাংলাদেশে। খাদ্যের জন্য হাহাকার ছিল, উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সবসময় মঙ্গা লেগেই থাকতো। মানুষের পেটে খাবার ছিল না, শরীর হাড় এবং চামড়া ছাড়া কোনো মাংস ছিল না, এটা আমার নিজের চোখে দেখা। ৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে যখন সমস্ত বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াই তখন মানুষের দুরবস্থা আমি নিজে দেখি।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আমাদেরও উদ্যোগ ছিল, এদেশের মানুষের জন্য খাদ্যের উপর বেশি কাজ করতে হবে। তাই ৯৬ সালে আমরা নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ১৯৯৬ প্রদান করি এবং খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আমরা হাতে নিই। কৃষকদের সব ধরণের প্রণোদনা দেই, এমনকি বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ বিতরণও আমরা শুরু করেছিলাম।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড