• রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯  |  
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সতর্ক সংকেত বহাল, বৃষ্টি ঝরবে দক্ষিণাঞ্চলে

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

১১ আগস্ট ২০২২, ১৬:০৪
সতর্ক সংকেত বহাল, বৃষ্টি ঝরবে দক্ষিণাঞ্চলে
মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টি ঝরছে (ফাইল ছবি)

ভারতীয় স্থলভাগে থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপ আরও দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। যদিও এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃহস্পতিবারও বায়ুচাপের পার্থক্য বিরাজ করছে। এ জন্য সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

অপর দিকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ১১টি জেলায় নদীবন্দরে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেতও বহাল রয়েছে। উপকূলীয় ১৫ জেলায় ৪ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে লঘুচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকালে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রতিবেদনে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

লঘুচাপ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ০২-০৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

দেশের উত্তরাঞ্চল এখন প্রায় বৃষ্টিহীন। বৃষ্টি নেই ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলেও। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি, সেখান মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুটা রোদ থাকলেও বেলা ১১টার পর বাড়তে মেঘ বেড়ে হারিয়ে যায় রোদ। তবে আবার ধীরে ধীরে মেঘ সরে যায়।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ (৭৬ থেকে শতভাগ অঞ্চল) জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু/এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সিলেটে। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুতুবদিয়ায়, ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড