• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক অর্থমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা নিবেদন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ মে ২০২২, ১৩:২০
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক অর্থমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা নিবেদন
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে (ছবি : সংগৃহীত)

নিজ জন্মস্থান সিলেটে গত মার্চ মাসেই গিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সে সময় তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। সিলেট এবং সেখানকার মানুষকে তিনি কতটুকু ভালোবাসেন তাও বারংবার বোলার চেষ্টা করেছিলেন। আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন নিজের জন্মস্থানে আবারও ফিরে যাওয়ার। তিনি সিলেটে ফিরলেন ঠিকই। তবে নিথর হয়ে। তার এমন আগমনে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী, সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ভাষাসৈনিক, বরেণ্য লেখক আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ এরই মধ্যে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রিয় নেতাকে শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারো মানুষকে ফুল হাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

রবিবার (১ মে) দুপুর ১২টার দিকে হাফিজ কমপ্লেক্স থেকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের মরদেহ। প্রথমে পুলিশের একটি সশস্ত্র দল তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সিলেটবাসীর পক্ষে সিলেট বিভাগের সংসদ সদস্যবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হয়।

প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি, হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি, আবেদুর রহমান আবেদ এমপি, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্যগণ, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ, মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ, জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আজ দুপুর দুইটায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে বর্ষীয়ান এ নেতার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নগরের রায় নগরের পারিবারিক গোরস্থানে বাবা-মার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

গত শনিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সিলেটে এসে পৌঁছায় সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এরপর তাকে নগরের ধোপাদিঘীরপাড়স্থ বাসভবন হাফিজ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এর আগে গেল শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

আরও পড়ুন : রাস্তা দখল করে অবৈধ পার্কিং, ইদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে। তার বাবার নাম মো. আবদুল হাফিজ এবং মা সৈয়দা শাহার বানু।

পঞ্চাশের দশকে নিজের শিক্ষা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন মুহিত। ছাত্রজীবনে সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সক্রিয় ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সঙ্গেও।

১৯৫৬ সালে মুহিত যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। সে সময় কূটনীতিকের দায়িত্বে তাকে পাঠানো হয় পাকিস্তানের ওয়াশিংটন দূতাবাসে। একাত্তরের জুন মাসে তিনি পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন।

১৯৭২ সালে পরিকল্পনা সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিবের হন মুহিত। ১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে ‘অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে’ কাজ শুরু করেন ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও আইএফএডিতে।

১৯৮২-৮৩ সালে তৎকালীন এইচ এম এরশাদ সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন মুহিত। দীর্ঘদিন বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পর দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় হন মুহিত।

তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় যাবত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেন; যার মধ্যে ১০টি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। মুহিত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন : ভাইয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে প্রাণ গেল আ. লীগ নেতার

মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ইতিহাস, জনপ্রশাসন এবং রাজনীতি নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৪০টির মতো বই লিখেছেন মুহিত। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মুহিতকে ২০১৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সরকার।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড