• রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ই-অরেঞ্জ কেলেঙ্কারি

বনানী থানার বিতর্কিত পরিদর্শক সোহেল রানা বরখাস্ত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫১
বনানী থানার বিতর্কিত পরিদর্শক সোহেল রানা বরখাস্ত
সদ্য বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার বিতর্কিত পরিদর্শক সোহেল রানা (ছবি : সংগৃহীত)

কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ রিপোর্টে এমন চাঞ্চল্যকর পাওয়ার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হলো। এরই মধ্যে তার স্থানে নতুন কর্মকর্তাকেও বদলি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের কাছে সোহেল রানাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি বলেন, গতকালই তার স্থানে নতুন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলাও ছিল। তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন, গুলশান পুলিশের পক্ষ থেকে এমন রিপোর্ট আসার পর বনানীর পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক আটক হন বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে বদলী করা হয়।

রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ২১ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। মূলত এদের মধ্যেই সোহেল রানাকে সরিয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে একই পদে বনানী থানায় বদলি করা হয়। কর্তৃপক্ষের এ আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

এ দিকে একই দিন বিকালে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বনানী থানার ওসি তদন্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যেহেতু ভারতে বিএসএফ কর্তৃক আটক রয়েছেন, সেখানেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ জন্য তাকে সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাকে সেখানে বদলি করা হয়েছে। সোহেল রানার বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্টের অপেক্ষা করছি। প্রতিবেদন হাতে পেলেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন : রিকশাচালক-হকার-ফেরিওয়ালাও পাবেন জামানতবিহীন ঋণ

এর আগে রবিবার দুপুরে তিনি বলেছিলেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতে যেহেতু মামলা হয়েছে এ কারণে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি-না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ফিরিয়ে আনার রাস্তা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএসএফকে চিঠি দিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি অনেক সময় করা হয়। আমরা চেষ্টা করছি ফিরিয়ে আনার জন্য। যদি এ মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয় তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, তার (পরিদর্শক সোহেল রানা) ব্যাপারে গুলশান বিভাগ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রিপোর্ট পেলে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় কোচবিহার জেলার চ্যাংরা বান্ধা সীমান্ত থেকে সোহেল রানা নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করে বিএসএফ। পরবর্তীকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

বিএসএফের হাতে গ্রেফতার সোহেল রানা গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বনানী থানার এই পুলিশ পরিদর্শকের বোন ও ভগ্নীপতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ই-অরেঞ্জ’ পরিচালনা করতেন।

গেল ১৭ আগস্ট অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রতারণার শিকার গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম। মূলত ওই সময় তার সঙ্গে প্রতারণার শিকার আরও ৩৭ জনও উপস্থিত ছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি হয়।

মামলায় আসামিরা হলো- ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ এবং পুলিশের বনানী থানার পরিদর্শক সোহেল রানা।

অপর দিকে বিতর্কের শুরু থেকেই ই-অরেঞ্জের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আসছিলেন সোহেল রানা। যদিও অরেঞ্জ বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠান খুলতে নেওয়া টিআইএন সনদে পরিচালক হিসেবে সোহেল রানার নাম লেখা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি থেকে আড়াই কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন : করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যু কমল বিশ্বে

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা অপরাধমূলক একাধিক কাজে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। ভারতীয় ওই মিডিয়া বলছে, সম্ভবত গা ঢাকা দেওয়ার জন্যই তিনি ভারতে প্রবেশ করেছেন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড