• রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সংবাদ পরিবেশনে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:৪৮
ড. হাছান মাহমুদ
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যত্নবান থাকতে হবে যাতে ভুল, অসত্য কিম্বা তথ্যনির্ভর নয় এমন কিছু উভয় দেশের সম্পর্কে অহেতুক বিরূপ প্রভাব না ফেলে।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত সেমিনারে এই আহ্বান জানান তিনি।

‘বঙ্গবন্ধু : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি করোনা টিকা নিয়েও কিছু ভুল, অসত্য সংবাদ আমাদের দেশে এবং ভারতেরও কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত হয়েছে, যা দু-দেশের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির উপক্রম করেছে। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনে তা নিরসন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ গভীর কৃতজ্ঞতাভরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শুধু আমাদের সহায়তাই করেনি, আমাদের মুক্তিকামী মানুষের সাথে ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করেছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যদের রক্তও মিশে আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এক কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের একটি বা দুটি কক্ষ শরণার্থীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ভারতের মানুষের এই অবদান, ভারতের অবদান, ভারতের সেনাবাহিনীর আত্মদান বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শুধুমাত্র বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ হবার পর বঙ্গবন্ধুকে যাতে ফাঁসি দেওয়া না হয়, সে জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে এমন করে ৩০টি দেশ সফর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করেছিল। এ অবদান কখনো ভোলার নয়।

‘বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি ছিল বিধায় তিনি ’৭৪ মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেকারণেই কিন্তু আমরা ছিটমহলগুলো আমাদের অধিকারে আনতে পেরেছি, যদিও অনেকদিন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আরও গভীরে প্রোথিত হয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে আন্ত:সংযোগ সেটি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি মনে করি এটি এখনও যথেষ্ট নয়। আমাদের দু-দেশের মানুষের মধ্যে যে আন্ত:সংযোগ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এটিকে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে যে পর্যায়ে ছিল আমাদের আস্তে আস্তে সেই পর্যায়ে যাওয়া প্রয়োজন। তাহলে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হবে, দুই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্বে প্রতিবেশী সম্পর্কের দিক দিয়ে একটা উদাহরণ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই দু-দেশের সম্পর্কের ভিত্তি গঠে উঠেছে। দুই দেশের ক্ষেত্রে যা করতে হবে তা বঙ্গবন্ধু আগেই দেখিয়ে গেছেন, আমাদের নতুন করে কোনো গাইডলাইনের দরকার নেই। উভয় দেশের আশা আকাঙ্ক্ষা এক, কোনো পার্থক্য নেই। জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক বাড়ে আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে, তাহলে সম্পর্ক টেকসই হবে।

আরও পড়ুন : টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ৭ এপ্রিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আমাদের অনেক পথ যেতে হবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, যা আমাদের জন্য ভালো তা আপনাদের জন্য ভালো। আবার যা আপনাদের জন্য ভালো তা আমাদের জন্য ভালো- এই নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে। সন্দেহের কোনো জায়গা নেই। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন দোরাইস্বামী।

ইমক্যাব সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।

সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবীব। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড