• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন শনিবার

  ঈশ্বরদী প্রতিনিধি, পাবনা

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪৬
নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন (ছবি : সংগৃহীত)

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার প্রচারণার শেষ দিনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম ব্যস্ত সময় কাটান। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তারা শহর-গ্রামের অলিগলি চষে বেড়ান। তাদের পক্ষে নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও প্রচারণা চালান।

এই আসনে ৮৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টিকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৭ জন করে সদস্য মোতায়েন করা হবে। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবেন ১৬ জন করে। এখানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় দুই হাজার পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কার কথা প্রকাশ করছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীরা। তারা নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও একই কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।

ঈশ্বরদীতে প্রচারণার শেষ দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর দুজনই নির্বাচনী পথসভা করে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাসের উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আজিজুল তলা ও সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামে নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর, ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২৫ বছর আসনটি রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে। অপরদিকে, দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে আসনটি বারবারই অধরা থেকে গেছে বিএনপির। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে নেমেছে দলটি। সেই লক্ষ্যে ভোটারদের মন জয় করতে প্রচারণায় ব্যস্ত দলীয় নেতাকর্মীরা। উপনির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপির নতুন অভিযাত্রা শুরু হবে বলে মনে করেন বিএনপির প্রার্থী।

অন্যদিকে বরাবরের মতো আসনটি ধরে রাখতে একাট্টা আওয়ামী লীগ। তবে ভোটের আগেই দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দল দু’টির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তারপরও ভোটারদের সরব উপস্থিতির মধ্য দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ভোটাররাই তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন বলে জানান আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও মাঠে দেখা মিলছে না খুব একটা। নৌকার প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাস বুধবার গভীর রাতে নৌকার দুটি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও গুলির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে গুলির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আগামী ২৬ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে এই বুলেটের জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, হায়রে বাংলাদেশ, হায়রে গণতন্ত্র। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ডিবি পুলিশ, আর ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া থানা পুলিশ রাতের ঘুম হারাম করে সরকারের ইচ্ছা পূরণের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। তাদের পরিবারের সাথে দূর্ব্যবহার করছে, মামলায় ছাড়াই তাদের গ্রেপ্তার করছে।

ইসি সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনটি ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া— এই দুই উপজেলা, দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৪টি, মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ জন।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনে মনোননয়পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হয় ৩ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল ছিল ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়পত্র বাতিলের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ৮ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকেই তিন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা যাওয়ায় পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ২ এপ্রিল তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে ইসি আরও ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে পারবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবারে সেই পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত যাচ্ছে নির্বাচন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তবে সেটি কঠোরভাবে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেই লক্ষ্যে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পয়েন্টে র‌্যাব ও পুলিশের তল্লাশি ও টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি।

পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড