• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের সিংহভাগই যাচ্ছে নেতাকর্মীদের পকেটে : টিআইবি  

  অধিকার ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০২০, ১৭:২৫
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে সংসদ সদস্যদেরকে যেসব থোক বরাদ্দের প্রকল্প দেওয়া হয় তাতে জবাবদিহিতার চর্চা নেই বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলছে, নজরদারি না থাকায় এসব প্রকল্পের টেন্ডার, ঠিকাদারি, নির্মাণ, প্রকৌশল ও অর্থছাড়সহ সর্বত্র অবারিত অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে।

সংসদ সদস্যরা এই প্রকল্পের সর্বেসর্বা হওয়ায় একদিকে যেমন স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি জনগণের টাকা খরচ করে নেওয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে।

বুধবার (১২ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে দৈবচয়ন করা ৫০টি সংসদীয় আসনের থোক বরাদ্দের প্রকল্প পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনের এসব দাবি করেছে টিআইবি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্যরা উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কিন্তু প্রকল্পে তারা বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ফলে অবশ্যম্ভাবীভাবেই এখানে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। জনগণের টাকায় জনগণের জন্য উন্নয়নের প্রকল্পগুলো রাজনীতিকীকরণ ও দলীয়করণ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্পে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কৃষি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অনেকগুলো স্কিম থাকলেও মূলত বাস্তবায়নের সময় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অধিক লাভজনক রাস্তাঘাট নির্মাণকে। এগুলো দেখভালের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সেভাবে এগুলোর মূল্যায়ন করেনি। ফলে এখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা পূর্ব প্রস্তুতিই দেখা যাচ্ছে না। দুর্নীতির একটা অবারিত চর্চা হচ্ছে এসব প্রকল্পে।

গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা তাদের স্থানীয় রাজনীতি পাকাপোক্তকরণের কাজ এগিয়ে নিয়ে থাকেন। সর্বপরি জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নের পরিকল্পনার সঙ্গে রাজনীতিকে একাকার করে দেওয়ার একটা চিত্র আমরা খুঁজে পেয়েছি।

এই প্রকল্পে থেকে সংসদ সদস্যদের দূরে রাখা অথবা এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নীতিগত ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই বিতর্কিত স্কিমগুলো চালু আছে। আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা বাঞ্ছনীয়, সবচেয়ে ভালো হয় যদি এসব প্রকল্প থেকে সংসদ সদস্যদের দূরে রাখা যায়। কিন্তু এটা এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে তাই গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করে একটি প্রতিষ্ঠানিক নীতিকাঠামো তৈরি করা উচিত।

টিআইবি বলছে, কিছু কিছু এলাকায় সংসদ সদস্য স্বপ্রণোদিত হয়ে এলাকায় থাকাকালীন স্কিম বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে অথবা ফোন করে খোঁজখবর নেন। স্কিম বাস্তবায়নকালীন কাজ সম্পর্কিত অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো কোনো সংসদ সদস্য নিজে এসে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কাজের মান ভালো করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। তবে সংসদ সদস্যরা কাজ চলাকালীন মাঠে গিয়ে সব স্কিমের পর্যবেক্ষণ করতে না পারলেও কাজের শুরুতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা শেষে উদ্বোধন করতে আসেন। আবার কোনো কোনো সদস্য স্কিম বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারকির তুলনায় এর থেকে তার লভ্যাংশ প্রাপ্তির প্রতি বেশি আগ্রহী হন।

এ গবেষণায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন টিআবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি। টিমের সদস্যরা হলেন- মো. খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, জাফর সাদেক চৌধুরী, মো. আলী হোসেন, মো. গোলাম মোস্তফা, ইশরাত জাহান সাথী, সালমা ইয়ারাব।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড