• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কেমন যাচ্ছে সারাদেশে ইদ

  অধিকার ডেস্ক

২৫ মে ২০২০, ১১:৪৯
ইদ
মসজিদের চার দেয়ালের মাঝে জেলায় জেলায় নিষ্প্রাণ ইদ (ছবি : সংগৃহীত)

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পালিত হচ্ছে পবিত্র ইদুল ফিতর। অন্যান্য বছর ইদের জামাত ইদগাহে হলেও এবার মসজিদে নামাজের আয়োজন করা হয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক দূরত্ব রেখে নামাজ আদায়। একই কারণে বিরত থাকতে বলা হয়েছে নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হাত না মেলাতে। সবমিলিয়ে জেলায় জেলায় এবার পালিত হচ্ছে নিষ্প্রাণ ইদ।

শোলাকিয়া হয়নি উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ইদুল ফিতরের জামাত

করোনা ভাইরাসে কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন মসজিদে ইদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ দিন ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে সকাল ৮টায় ইদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৯টা ও ১০টায় সেখানে আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আশরাফ আলী।

শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ওই জামাতে নামাজ পড়ান শহীদী মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শামসুল ইসলাম। এতে জীবাণুনাশক টানেলের ভেতর দিয়ে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষকে করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।

এ দিকে, সরকারের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনার কারণে এবারই প্রথম কিশোরগঞ্জের ২৭০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ইদগায় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ইদুল ফিতরের জামাত হয়নি।

যশোরে নেই ইদের আমেজ

সারা দেশের মতো এবার যশোরেও অন্যরকমভাবে উদযাপন হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইদুল ফিতর। ইদের জামাত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি অন্য বছরের ইদ জামাতের মতো ছিল না বললেই চলে। ছিল না নামাজ শেষে অতি পরিচিত কোলাকুলির দৃশ্য। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এবার ইদের জামাত আদায় করা হয় মসজিদে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজ আদায়ের আগে মুসল্লিরা নিজেদের জায়নামাজ সাথে নিয়ে আসেন পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর তারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধ হয়ে বসেন। খুতবা শোনেন এবং নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে করোনা থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উপকূলবাসীর ইদ আনন্দ নেই

ইদ আনন্দ নেই সাতক্ষীরা উপকূলের লাখো পরিবারে। করোনাকালে এবারের ইদ ঘরে বসে উদযাপনের সুযোগটুকুও পাবে না উপকূলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ তাদের সেই সুযোগটুকু থেকেও বঞ্চিত করেছে। উপকূলবাসীর এবারের ইদ কাটছে খেয়ে না খেয়ে, নৌকায় ভেসে অথবা সাইক্লোন শেল্টারে। 

গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা উপকূলীয় এলাকা। এতে উপকূলের নদনদীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদর এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এখনো সংস্কার করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের সময় নদীর লোনা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। আগে থেকেই সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণে বাঁচলেও ভেসে গেছে উপকূলীয় জনপদের ঘরবাড়ি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ। বাঁচার তাগিদে এখন পানিতে ডুবে থাকা নিজ ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন উপকূলের মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। কেউ কেউ কোনোমতে নৌকায় জীবনযাপন করছেন। এসব কারণে জেলায় নেই ইদের আমেজ।

সংক্রমণ ঠেকাতে বান্দরবানে সামাজিক দূরত্ব মেনে ইদের জামাত

সময়ের সঙ্গে মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পবিত্র ইদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বান্দরবান স্টেডিয়াম জামে মসজিদে ইদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টায় বান্দরবান কেন্দ্রীয় মসজিদ, জর্জ কোর্ট মসজিদ, বাজার মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদে ইদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজ শেষে করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষা পেতে এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনাও আল্লাহ সন্তুষ্টি লাভের আশায় মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

দিনাজপুরেও ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে হয়নি ইদের জামাত

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে এবার অনুষ্ঠিত হলো না ইদের জামাত। করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বৃহৎ এই জামাতের পরিবর্তে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুর জেলার ৬ হাজার ৮০৮টি মসজিদে।

এবারই প্রথম মুসল্লিরা ইদগাহ বা খোলা মাঠের পরিবর্তে নামাজ আদায় করলেন মসজিদের চার দেয়ালের মধ্যে। তবে করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে আবারও এই বৃহৎ জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পারবেন- এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

রাজশাহীতে ইদের জামাতে মহামারি থেকে পরিত্রাণে দোয়া

রাজশাহীতে ইদুল ফিতরের প্রধান জামাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি থেকে সবাইকে পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জীবনের সব পাপ মোচন, এক মাসের সিয়াম সাধনা কবুল ও নাজাতের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

এছাড়া হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি আর কূপমণ্ডুকতার বিপরীতে মানবিক মূল্যবোধ আর পরমতসহিষ্ণুতার বারতা ছড়িয়ে দিয়ে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান এসেছে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর প্রধান ইদ জামাত থেকে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। 

নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে গিয়ে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিরা সারিবদ্ধ হয়ে ইদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইদের জামাত শেষে সোমবার পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি বা করমর্দন করেননি কেউ। তবে দূর থেকেই কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সবাই। নামাজকে ঘিরে এ সময় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে ইদ জামাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ মোনাজাত

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চট্টগ্রামে হয়েছে ইদের জামাতের নামাজ। উদযাপিত হচ্ছে ইদুল ফিতর।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদে। ইমামতি করেন মসজিদের খতিব ক্বারী সাইয়েদ মাওলানা আবু তালেব মো. আলাউদ্দীন।

ইদ জামাত শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর দোয়া ও মোনাজাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশ-জাতিকে রক্ষায় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করার পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত ও নিহতদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড