• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রুশদী ভালোবাসত মটু-পাতলু

  অধিকার ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:৩৯
রুশদী
মা জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের সঙ্গে রুশদী (ছবি : সংগৃহীত)

মগবাজারের দিলু রোডের ৪৫/এ বাড়ির নিচ তলায় আগুন লাগার পর তিন তলার বাসা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টাকালে মায়ের কোল থেকে আগুনে পুড়ে মারা যায় রুশদী। আদরের একমাত্র চার বছরের ছেলে একেএম রুশদীর বই পড়ার আগ্রহ দেখে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বেক্সিমকো ফার্মার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত। এতে ছেলে রুশদী ‘মটু-পাতলু’ খুব ভালোবাসতো বলে জানা যায়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জান্নাতুল ফেরদৌস লিখেন- “রুশদী নানু বাসায় থাকে। সেদিন যখন ওকে নিয়ে আসব দেখি ও বই পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী পড়ছ মা? ‘নটু পানতু’ (মটু-পাতলু)। তারপর আমাকে গল্প শুনিয়েছে। ‘এনে ওই নটু এলিয়েন আছে! দেখছাও (দেখেছ)। ‘নটু-পানতু কালার করছে আমি মুছেছি তো।’ পরদিন আমি খুশি হয়ে আসার সময় বইটা নিয়ে আসতে চাইলাম কিন্তু সে আনবে না। ওর একটাই কথা, নানু বাসায় পড়বে তো!”

জানা যায়, আগুনে ঝাঁপ দিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বাসনালিসহ ৯৫ শতাংশ পুড়েছে মা জান্নাতের শরীর। একই সঙ্গে আগুন লাগার পর ছেলে ও স্ত্রীকে বাঁচাতে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে বাবা শহিদুল কিরমানি রনিরও শ্বাসনালিসহ শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর মা-বাবাও এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

জান্নাত দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রোডাকশন ম্যানেজার একেএম শহীদুল্লার পুত্রবধূ ও ভিআইভিপি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের হিসাব ব্যবস্থাপক ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রভাষক শহিদুল কিরমানি রনির স্ত্রী।

জান্নাত-রনি দম্পতির একমাত্র ছেলে রুশদী। জান্নাত বেক্সিমকো ফার্মায় যোগ দেওয়ার আগে কাজ করতেন সিমেন্ট কোম্পানি হোল সিমে। ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে রুশদী। তাকে চেনার কোনো উপায় নেই।

এই বছরই রুশদীকে স্কুলে প্লেগ্রুপে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বনাশা আগুন তাকে বাঁচতে দেয়নি।

শহিদুলের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার শীবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামে। একেএম শহীদুল্লাহ বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন হাসপাতালে। অনেক আত্মীয়স্বজনও ছিলেন সেখানে। রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত রুশদীর লাশ কেউ গ্রহণ করেনি। লাশ মর্গের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শহিদুলের শরীরের ৪৩ শতাংশ ও জান্নাতুলের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের শ্বাসনালিও পুড়ে গেছে। দুজনই জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই অবস্থা থেকে রিকভারি করার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। তবুও আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। তাদের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

৪৫/এ, দিলু রোডের পাঁচতলা ওই বাড়িতে বৃহস্পতিবার ভোরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে শিশু রুশদীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন আফরেন জাহান যুথি ভিকারুননিসা নুন স্কুলের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আব্দুল কাদের ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি বায়িং হাউসের অফিস সহকারী। আগুনে রুশদীর মা-বাবা ছাড়াও আরও দুজন সামান্য দগ্ধ ও লাফিয়ে পড়ে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সময় ভবনটি প্রায় অর্ধশত বাসিন্দা ছিলেন। তারা সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। কিছু লোকজনকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে। 

ওডি/নূর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড