• বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বঙ্গবন্ধুর চিঠি পাওয়া সেই পরিবারটি চায় শহিদের স্বীকৃতি

  সারাদেশ ডেস্ক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩২
রাশ চৌধুরীর
শহিদ রাশ চৌধুরীর পরিবার (ছবি : সংগৃহীত)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বহস্তে লেখা সেই চিঠি পাওয়া ভাগ্যবানরা আজ নিজেদের দুর্ভাগা মনে করছেন। এই শহিদ পরিবারটি শহিদের স্বীকৃতির জন্য এখনো ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। তারা চায় বঙ্গবন্ধুর চিঠির মর্যাদা। চায় রক্তবিন্দুর মর্যাদা। যা দেশের জন্য এই মাটির জন্য ঝরিয়ে ছিলেন রাশ চৌধুরী।

১৯৭১ সালে ১ এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহিদ হন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দশআনি ঋষিপাড়ার রাশ চৌধুরী। তিনি একা নন। এ পথ ধরে পাশের মহল্লার শহিদ প্রবাস দাস পাকহানাদারদের হাতে নিহত হয়েছিলেন ১৫ এপ্রিল।

এই দুটি পরিবারই স্বীকৃতি পায়নি আজও। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না পেলেও মানুষের স্বীকৃতি তারা ঠিকই পেয়েছেন। তবে তাও এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। আগে স্থানীয়রা বিভিন্ন দিবসে খোঁজ-খবর রাখত এখন তারাও কমিয়ে দিয়েছে। বছরে দু-একবার শহিদদের বাড়িতে যায়। ফুল দিয়ে দায় শেষ করে।

গত ৪৮ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ নেয়াই হইনি, করা হয়নি কোনো সহযোগিতা। তারপরও এই পরিবার দুটি চায় একটু স্বীকৃতি। তাহলে দুই শহিদের মর্যাদা থাকবে অটুট।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দশআনি ঋষিপাড়া মহল্লায় শহিদ রাশ চৌধুরীর পরিবার থাকেন। কষ্টে দিনাতিপাত করছে পরিবারটি। 

জানা গেছে, শহিদ রাশ চৌধুরী পরিবারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২০ নভেম্বর একটি পত্র পাঠান। সেই চিঠিতে রাশ চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বঙ্গবন্ধু। পাশাপাশি ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নগদ এক হাজার টাকা পাঠানো হয় অনুদান হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বহস্তে লিখিত চিঠি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে আজও। এটাই যেন তাদের শেষ সম্বল। পরিবারটি এখন চায় শুধু স্বীকৃতি, শহিদের স্বীকৃতি।

শহিদ রাশ চৌধুরীর পরিবার থাকছেন উপজেলার দশআনি ঋষিপাড়া মহল্লা একটি আধপাকা ঘর ও তিনটি কাঁচা ঘরে। যার দেয়াল খসে খসে পড়ছে। পরিবার পরিজনের মধ্যে রয়েছেন- শহিদ রাশ চৌধুরীর বড় ছেলে রতন চৌধুরী (৫৮), স্ত্রী পলি চৌধুরী (৪৫), ছেলে রানা (১৯), অর্ক (৯), মেজ ছেলে জীবন চৌধুরী (৫০), স্ত্রী মাধুরী চৌধুরী (৪০), একমাত্র মেয়ে মন্দিরা (২০), ছোট ছেলে স্বপন চৌধুরী (৪৫), স্ত্রী রিতা চৌধুরী (৩৫), এক ছেলে রিক (১০)।

রাশ চৌধুরীর স্ত্রী শেফালী চৌধুরী ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর মারা গেছেন। আর তিন মেয়ে- ছবি চৌধুরী (৭০), বেবি চৌধুরী (৫৫), বিথি চৌধুরী (৪৮) স্বামীর সংসারে থাকেন। 

শহিদ রাশ চৌধুরীর বড় ছেলে রতন চৌধুরী বলেন, আমার বাবা তার জীবন দিয়েছেন এই দেশের জন্য। অথচ সেই স্বীকৃতি তিনি পেলেন না আজও। আমরা অনেক জায়গায় গিয়েছি। কোথাও আমাদের জন্য কিছু করেনি। বর্তমান সরকার চাইলে তা করতে পারে। অনেক কিছুর তালিকা হয়, আবার সেই তালিকা সংশোধন হয়। তাহলে কেন আমার বাবা শহিদের স্বীকৃতি পাবেন না। প্রশ্ন রতনের।

এখন তিনি চান স্বীকৃতিটুকু। তার বাবার আত্মা প্রশান্তি পাবে।

অন্যদিকে শহিদ প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস থাকেন ছোট ছোট টিনের ছাপড়া ঘরে, আরেক ঘরে থাকেন ছেলে সুনীল দাস। ঘরের চারদিকে দেওয়া খড়ের বেড়াগুলো ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

ছেলে সুনীল দাস (৩৯), স্ত্রী মুক্তি দাস (৩৫), দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে দীপ্তি (১৭), বিক্রম (১৮), বিথিকে (৯) নিয়ে চলছে তাদের টানাটানির সংসার।

সুনীলের বড় ভাই অনিল দাস (৪৫) ১০ বছর পূর্বে মারা গেছে বিনা চিকিৎসায়। তার স্ত্রী বাসনা দাস (৪২), দুই ছেলে অর্ণব (১৯), ও সনদকে (১৫) নিয়ে কোনোরকম দিন পার করছে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে।

শহিদ প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস বলেন, স্থানীয়ভাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ফুল নিয়ে আসে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। কিন্তু এতে তো আর আত্মা তৃপ্ত হবে না। দেশ যদি স্বীকৃতি দেয় তবেই আত্মা শান্তি পাবে। যার রক্তে এই দেশ স্বাধীন হলো, সেই দেশেই আমরা থাকছি খেয়ে না খেয়ে। সেই খবরতো কেউ রাখছে না। আক্ষেপ নিয়ে বলছেন গীতা দাস।

আরও পড়ুন : কোটি টাকার পাজেরো পাচ্ছেন ইউএনওরা

স্থানীয় সরকারি মনোমোহিনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, আওয়ামী লীগ কেন কোনো সরকার এই দুইটি শহিদ পরিবারের খবর রাখে না। তবে আমরা প্রতিষ্ঠনের পক্ষ থেকে ভাষার মাস এলেই অনুষ্ঠান করি। দুই শহিদ পরিবারের উত্তরসূরিদের হাতে ফুল তুলে দেই। শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করি।

ওডি/এএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড