• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

না ফেরার দেশে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু

  অধিকার ডেস্ক

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৫১
ছবি
ছবি : ৫২-এর পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা প্রথম নারী ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা প্রথম নারী ভাষা-সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু আর নেই। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এরপর মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ভোর রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তাহমিদা বাচ্চু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মা বেশ কদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ শেষ রাতে ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।’

এ দিকে বাংলা একাডেমিতে বেলা সাড়ে ৩টায় এই ভাষা সৈনিকের মরদেহ আনা হবে। একাডেমির কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছাড়াও ভাষার জন্য লড়াই করা সহযোদ্ধা সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা রওশন আরা বাচ্চুর কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন বলে জানা যায়।

রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই স্লোগানে রাজপথে নেমে আসা অন্যতম নারী ছিলেন রওশন আরা বাচ্চু। তিনি ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। দর্শন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় যুক্ত হন ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে। ভাষার দাবিতে ছাত্রীদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন তিনি ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করে আমতলার সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসেন। 

এখান থেকেই ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। তারা ব্যারিকেড টপকিয়ে মিছিল নিয়ে এগুনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের বাধার মুখে ব্যারিকেড টপকানো বেশ কঠিন ছিল। রওশন আরা বাচ্চু তার দলের সবাইকে নিয়ে পুলিশ ব্যারিকেড ভাঙার দুঃসাহস দেখান। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অনেকের সঙ্গে তিনিও আহত হন।

রওশন আরা বাচ্চু মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স ও পরে ইতিহাসে এমএ পাস করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে বি এড, ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এম এ করেন। 

তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্টের সঙ্গে ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটন অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল (খণ্ডকালীন), নজরুল একাডেমি, কাকলি হাই স্কুল এবং পরে আলেমা একাডেমিতে শিক্ষকতা করেন। ২০০০ সালে বিএড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড