• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আজ ঐতিহাসিক ৩ ডিসেম্বর

বিজয়ের নিশান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা

  আল মামুন জীবন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:১৩
অপরাজেয়-৭১
শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ অপরাজেয়-৭১ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ-উল্লাস করে এ অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে হানাদারমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও।

এই দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে পতন হয় পাকবাহিনীর। পাকসেনাদের পতনের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দ উদ্বেলিত কণ্ঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের পতাকা নিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে তরুণ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ।

যে মানুষগুলোর আত্মত্যাগে দেশ শত্রুমুক্ত হয়েছিল তাদের স্মরণে হানাদারমুক্ত দিবস পালনে প্রতিবারের ন্যায় এবারও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি পালনে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন সবাই।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশিদের ওপর। তাদের বিরুদ্ধে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঠাকুরগাঁওবাসীও গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন।

ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন পাকবাহিনীর স্কোয়াড্রেন লিডার খাদেমুল বাশার। সমগ্র সেক্টরে ১ হাজার ১২০টির মতো গেরিলা বেইস গড়ে তোলা হয়। ৮ মের আগ পর্যন্ত এর দায়িত্বে ছিলেন সুবেদার কাজিম উদ্দিন। ৯ মে কাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন ক্যাপ্টেন নজরুল। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে স্কোয়াড্রেন সদরু উদ্দিন ও ১৭ জুলাই ক্যাপ্টেন শাহারিয়া সাব সেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। ২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। এরপর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁও জেলায়।

৩০ নভেম্বর পাকসেনারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে ইক্ষু খামারে মাইন পুঁতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভুল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

১ ডিসেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে প্রবেশ করেন। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ওই রাতেই শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ-উল্লাস করে এলাকার মুক্তিকামী মানুষ।

কিন্তু স্বাধীনতার পর কেউ দিবসটি পালনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বেশ কয়েক বছর ধরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মুক্তি শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শন, নাটক, সম্মাননাসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানমালার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে আসছে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আকবর হোসেন ও ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরোদ্দোজা বদর বলেন, জেলায় জেলায় যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। এটা দীর্ঘদিনের দাবি। এবারের বিজয় দিবসে রাজাকারের তালিকা প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। আশা করছি এ তালিকা প্রকাশ হলে তরুণ প্রজন্ম নতুন ধারণা পাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি সম্পর্কে। জানতে পারবে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস।

ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মান্নান বলেন, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি অন্যান্য সকল সরকারি-বেসরকারি সংগঠনকে এগিয়ে আসা উচিত দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য। সবাই এগিয়ে না আসলে কিছুদিন পর ঠাকুরগাঁও পাক হানাদারমুক্ত দিবস শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তরুণ প্রজন্ম কিছুই জানতে পারবে না। 

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও সংসদের সভাপতি সেতারা বেগম বলেন, দিনটিকে উদযাপনের জন্য এবারও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনব্যাপী কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। 

ঠাকুরগাঁও উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠান প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক জানান, প্রথম প্রহরে অপরাজেয় ৭১-এ শহিদ স্মরণে আলোক প্রজ্জ্বলন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, এরপর সকাল ১০টায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ, সাধারণ পাঠাগার চত্বরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা,  সকাল সাড়ে ১০টায় শোক প্রস্তাব, সম্মাননা স্মারক প্রদান, শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি, মুক্তি শোভাযাত্রা, শহিদ বেদি ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং শোভাযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে যুদ্ধদিনের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে পালন করা হবে দিবসটি।

এছাড়া দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিকাল ৩টায় কবিতা আবৃত্তি, গণসঙ্গীত, স্বাধীনতার গান পরিবেশন করবেন ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারবর্গের সম্মাননা দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৭টায় থাকবে কলকাতা লালন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতির বিশেষ পরিবেশনা।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর আয়োজনে দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করতে আমরা সকলেই সেখানে উপস্থিত থাকব।

ওডি/এসসা 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড