• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আদালতের রায় শুনে যা বললেন দিয়ার বাবা

  অধিকার ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৬
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দিয়া ও তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দিয়া ও তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু (ছবি : সংগৃহীত)

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী আসাদ (পলাতক)।

আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহত দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু। রায়ের পর তিনি বলেন, আমিও তো ড্রাইভার। ১৭ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। আমার দ্বারা তো কখনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। জাবালে নূরের দুই চালক ছিলেন অদক্ষ। তারা ড্রাইভার নামের কলঙ্ক। তাদের সাজা পাওয়া উচিত ছিল। আদালত তাদের যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ায় আমি ও আমার পরিবার খুশি। 

তিনি আরও বলেন, চালকের অদক্ষতার কারণে আজ আমি সন্তানহারা। রাস্তায় রাস্তায় কান্না করে ঘুরছি। কোনো মালিক যেন কখনো অদক্ষ ড্রাইভারদের গাড়ি চালাতে না দেন। মালিকদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল। আজ আমি আদালতের রায়ে অনেক খুশি।

এ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের প্রতি বিচারক ইমরুল কায়েশ বলেছেন, এ মামলাটি পেনাল কোডের ৩০৪ ধারায় হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এর চেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আপনারা সংবাদগুলো এমনভাবে প্রচার করবেন যাতে ছাত্রসমাজ ও জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না থাকে।

আদালত বলেন, পরিবহন সেক্টরে অনেক খামখেয়ালিপনা দেখা যায়। বাসের বেপরোয়া চলাচলের কারণে চাকার নিচে পিষ্ট হওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরাও। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশকে সচেতন হতে হবে। মালিকরা চালকদের একটা নির্দিষ্ট জমা টাকা টার্গেট দেন। যেটা তাদের জটিল হয়। এ কারণে মালিকদের খুশি করতে বেপরোয়া চালায়। মালিকদেরও সচেতন হতে হবে।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে এমন অপরাধে ছাড় নেই। কেউ এ ধরনের অপরাধ করে পার পাবে না। এ রায়ের মাধ্যমে আরও প্রমাণ হয়েছে, এ ধরনের অন্যায়ের শিকার হয়ে আদালতে প্রতিকার পাওয়া যায়। 

মামলায় দুজনের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রায় পড়ব এবং বিশ্লেষণ করব। রায় পড়া শেষে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে সার্বিকভাবে রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। তখন জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নেমে সেখানে দাঁড়ায়। এসময় পেছন থেকে জাবালে নূরের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাজীব ও দিয়া। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়।

ওডি/কেএসআর/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড