• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা, আইনের ঢিলেঢালা প্রয়োগ

  অধিকার ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৯
সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা
সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা (ছবি : সংগৃহীত)

নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। তারপরও ঢাকার সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা। সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় হরহামেশা দুর্ঘটনা ঘটছে। 

সড়কে লেন মেনে গাড়ি চালানোর দৃশ্য নেই, আছে শুধু প্রতিযোগিতা করে গণপরিবহন তথা বাস চালানোর দৃশ্য। সেই সঙ্গে সড়কের মাঝখানে যাত্রী উঠা-নামাও বন্ধ হয়নি।

তবে নতুন সড়ক আইনে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকে উল্টোপথে চলাচলকারী কয়েকটি মোটরসাইকেলকে মামলা করতে দেখা যায়। এজন্য ডকুমেন্ট হিসেবে পুলিশ ভিডিও ধারণ করে রাখে। এতে জরিমানা করা হয় পাঁচ হাজার টাকা করে।

গত বছর আইনটি প্রণয়ন করা হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার কারণে তা বাস্তবায়ন করতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, প্রথমদিনের মতো- যারা উল্টো পথে চলাচল করেছে এবং যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পিকআপের ওপর নতুন সড়ক আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই পাল্লা দিয়ে বাস চালাতে গিয়ে বিমানবন্দর সড়কে নির্মমভাবে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করে জাবালে নূর পরিবহনের চালক। বাসচাপায় শিক্ষার্থীদের এ হতাহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওইদিনই রাস্তায় নামেন রমিজ উদ্দিনসহ আশপাশের কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এ আন্দোলনের ঢেউ। সারাদেশের রাস্তায় নামেন লাখো লাখো শিক্ষার্থী। সেখান থেকে সূত্রপাত হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের।

এরপর গত বছরের ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভায় একটি খসড়া ট্রাফিক আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যুদণ্ড ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কারও প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে কয়েকটি পূরণ ও বাকিগুলো পূরণের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ২ সিটি করপোরেশনের তরফে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালেই ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। চলে ৫ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।

সেপ্টেম্বরজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পালন করা হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। এসব উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব বেশি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছর আবার নতুন করে ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচি হাতে নেয় পুলিশ। ১৫ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পালন করা হয় ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয় ট্রাফিকের বিশেষ অভিযান, চলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এরই মধ্যে ২৪ মার্চ থেকে ঢাকায় নামে স্পেশাল টাস্কফোর্স। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে কাজ করে ১০ মে পর্যন্ত।

এই বিশেষ উদ্যোগ চলাকালে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভিং কিংবা নবায়ন না করা, হেলপারের গাড়ি চালানো, অর্থাৎ ট্রাফিক আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে ৩ জন আরোহী, চালকের পাশাপাশি যাত্রীর হেলমেট ব্যবহার, সিগন্যাল না মানা, উল্টোপথে যাওয়া এবং প্রভাবশালীদের আইন না মানার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারপরও সড়কে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেলপারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেওয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতাসহ ১০টি কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সবচেয়ে বড় অংশীদার গণপরিবহনের মালিক ও চালকরা। তাদের আন্তরিকতায় ঘাটতি আছে। তাদের যে ভূমিকা রাখার কথা, সেটা দেখা যায় না। আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সরকারের এ সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পথচারী চলাচল ও চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনাটাই এই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চালক ও পথচারীদের সচেতন করতে ক্যাম্পেইন করছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া। ক্রমে অবস্থার উন্নতি হবে।

ওডি/এসআর/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড