• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আজ বিশ্ব এইডস দিবস

বিশ্বে প্রতিদিন এইডসে আক্রান্ত হয় ৫০০ শিশু 

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৯
এইডস
এইডস (ছবি : সংগৃহীত)

বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বেড়ে চলা অ্যাকোয়ার্ড ইমমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস) রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশেও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধীরে ধীরে ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাওয়া এ রোগে বিশ্বে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। 

এইডসে আক্রান্ত হওয়া ৫ হাজারের মধ্যে ৫০০ জনেরই বয়স ১৫ বছরের নিচে। এছাড়া আক্রান্ত ৩২ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের নিচে, যার ২০ ভাগ নারী। আক্রান্তদের ৬১ ভাগই সাব-সাহারা আফ্রিকান অঞ্চলে বসবাসকারী। 

জাতিসংঘের এসটিডি/এইডস বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএন এইডসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক লোক ৩৬ দশমিক ২ মিলিয়ন। মোট আক্রান্তের ১৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন নারী এবং ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন শিশু।

শুধু ২০১৮ সালে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন, যার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন। এ সময়ে এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার মানুষের। যার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৬ লাখ ৭০ হাজার এবং শিশু ১ লাখ।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৬ হাজার ৬০৬ জন। এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার।

আজ বিশ্ব এইডস দিবস। বিশ্বের অন্য দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এইচআইভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার প্রকাশ ও আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে, ১৯৮৮ সাল থেকে এ দিবসটি সারা পৃথিবীতে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তিনি বলেন, দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশের নিচে। এ হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০-এর মধ্যে এইডস নির্মূলে জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এখনো সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ ভাগের নিচে।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এইডস/এসটিডি কর্মসূচি সম্প্রতি ইউএন এইডসের ৯০-৯০-৯০ লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। যার অর্থ সম্ভাব্য ২০২০ সালের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের ৯০ শতাংশকে শনাক্তের আওতায় আনা।

শনাক্তকৃতদের মধ্যে ৯০ শতাংশকে চিকিৎসা সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং চিকিৎসা সেবায় থাকা ৯০ শতাংশের ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখা।

যদিও প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম। তবে বর্তমানে বিদেশ ফেরত কর্মীদের মাধ্যমে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর এ জন্য বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন নারীরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ প্রবাসী স্বামী বা স্বজনদের কারণে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের নানা কর্মসূচির কারণে এখনো দেশে সংক্রমণের হার ০.১ এর নিচে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি অধিদপ্তরের।

ওডি/এসআর/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড