• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে

বুলবুল তাণ্ডবে নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ঘরবাড়ি 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৩১
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে এক বৃদ্ধাকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডব বাংলাদেশে বড় ধরনের আঘাত না আনলেও প্রচণ্ড ঝড়ে দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। আর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উপকূলীয় জেলাগুলোর পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। গণমাধ্যমে চারজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হলেও সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবরই পাওয়া গেছে। 

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপকূলীয় ১৪ জেলায় ৫ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটে কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতি এবং গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভোলার লাল মোহনের লর্ডহান্ডিন্সে ঝড়ে ৫/৬টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ঘরবাড়ি ভেঙেছে, বরগুনার পাথরঘাটার একটি বিদ্যালয়ের চাল উড়ে গেছে। পটুখালীতে ৮৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফেনী, বরিশাল, লক্ষীপুর, পিরোজপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। খুলনা বিভাগে কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। সব মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পাঁচ হাজারের মতো ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

তবে কৃষির তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পটুয়াখালী জেলায় আমন ধান বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। আমন পানি সহনীয় ফসল বলে, ক্ষতি নিরূপণ করা হয়নি। তবে শীতের সবজি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি কমে এলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ 

ডা. এনামুর রহমান জানান, ৫ হাজার ৫৮৭ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ লাখ ৬ হাজার ৯১৮ জনকে সরিয়ে নেওয়া গেছে। যে কারণে মানুষের জানমাল রক্ষা পেয়েছে। এটা বড় সফলতা। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার চিকিৎসাসেবা দিতে পেরেছেন সফলভাবে। ঘুর্ণিঝড় আঘাত করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে শুরুতেই উপকূলীয় ১৪ জেলায় পাঁচশ মেট্রিকটন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং প্রতি জেলায় ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দরবন বারবার আমাদের রক্ষা করছে বলে জানিয়ে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের যেন আরও যত্ন নেওয়া হয়, নতুন নতুন গাছ লাগিয়ে বনকে শক্তিশালী করা হয়। সুন্দরবনের প্রতি কেউ যেন অযত্ন-অবহেলা করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। তবে সেটা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ায় আজ বিকালের মধ্যেই আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আর কালকে (সোমবার) আমরা একটা রৌদ্রোজ্জ্বল দিন পাব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৫ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে রূপান্তিরত হয়। তারপর ৮ নভেম্বর ৪ নম্বর সর্তক সংকেত দেওয়া হয়। ৯ নভেম্বর সকাল ৬টায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হয়। তারপর আমরা ঝড়ের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেছি। এটা ৯ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে ৮৮ দশমিক ১ দ্রাঘিমাংশ এবং ২১ দশমিক ৩ অক্ষাংশ বরাবর আসার সময় পশ্চিম বাংলায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড