• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রথম আলোর অবহেলায় আবরারের মৃত্যু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

  অধিকার ডেস্ক

০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫৩
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি : ফাইল ফটো)

প্রথম আলোর আয়োজকদের অবহেলার কারণে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। 

শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম আলোর আয়োজকদের অবহেলার কারণে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যু অবশ্যই গর্হিত অপরাধ, বরদাশত করা হবে না। 

তিনি বলেন, যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করে তাদের একটা দায়িত্ব থাকে। প্রথম আলোর আয়োজকদের দেখা উচিত ছিল, কারণ অনুষ্ঠানে ছোট ছোট বাচ্চারা এসেছে। আয়োজকরা এটাকে এতটা নেগলেক্ট করেছে! বাচ্চাটা মারা গেছে, এরপরও ঘটনাটা চাপা দিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। 

ধানমন্ডিতে এতগুলো হাসপাতাল থাকতে মহাখালীতে নিয়ে গেল কেন এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কীভাবে ঘটায়? তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই? ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের নিরাপত্তা না দেখা এটাও তো গর্হিত অপরাধ। এটা তো বরদাশত করা যায় না।

গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার (১৫)। পরে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিস কুমার চক্রবর্তী জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার স্কুলের মাঠেই মারা গিয়েছিল।

তার সঙ্গে কিশোর আলোর দুজন স্বেচ্ছাসেবীও ছিল। তাকে মেডিকেল ক্যাম্পেই চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে কিশোর আলোর যে স্বেচ্ছাসেবীরা ছিলেন, তারা তা জানত। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তখন তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিল কিনা, তা আমরা জানি না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন চিকিৎসক মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ফোন দিয়ে জানান কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। তবে একজনকে মৃত ঘোষণা করতে হলে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন করতেই সেখানে থাকা দুজন চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। 

ডা. আশিস বলেন, পরে হাসপাতালে পৌঁছালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তার হার্টবিট পাচ্ছিল না, পালস পাচ্ছিল না। তারপরও সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে ছেলেটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি জানান, ‘পরে গীতিকার কবীর বকুল আমাকে ফোন দেন। আমি তাকে বিষয়টি জানাই। এরপর প্রথম আলোর আনিসুল হকের সঙ্গেও আমার কথা হয়। তারা সাড়ে ৬টার দিকে ছেলেটিকে দেখতে হাসপাতালে আসেন।’

নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে না নিয়ে তাকে কেন মহাখালী নেওয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আশিস বলেন, ‘সেখানে চিকিৎসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল।’

এ দিকে গত বুধবার (৬ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলো ও সাময়িকী কিশোর আলোর প্রকাশক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা মো. মজিবুর রহমান। মামলা গ্রহণ করে আবরারের মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড