• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা গ্রেফতার 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৭
অমিত সাহা গ্রেফতার
ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ অমিত সাহাকে গ্রেফতার করেছে। 

জানা যায়, শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহা বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ছিল অমিত সাহা। তবে মামলার এজাহারে অমিত সাহার নাম না থাকায় এই নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম নেয়।

বুধবার আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্ অভিযোগ করেন, ‘অমিত সাহা নামের একজনের কক্ষে আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার নামটা এজাহারে আসে নাই। গতকাল (মঙ্গলবার) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তাকে বলেছি অমিত সাহাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উনি (তদন্ত কর্মকর্তা) বলেছেন, তদন্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

বুয়েটের হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী। যার নাম পরিচয় জানা যায়নি। 

বুয়েটের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অমিত সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল ২০১১ নম্বর কক্ষটি। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। ওই কক্ষ থেকে পুলিশ রক্তমাখা স্টিক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এই রুমে শুধু আবরারকেই নয়, আরো অনেককেই এনে নির্যাতন করা হতো। যার কক্ষে এ ঘটনা ঘটল তাকে আসামি না করা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের পাশে থাকা এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক অধিকারকে জানান, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন এর মধ্যে তিনজন পলিটিক্যাল আর একজন নন পলিটিক্যাল। এরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনের কয়েকদিন আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। পরীক্ষার জন্য এক মাসের ছুটি উপলক্ষেই ওই ছাত্র বাড়িতে রয়েছেন। পূজার ছুটিতে বাড়িতে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূলত পরীক্ষার পূর্বে দেওয়া ছুটিটাই মুখ্য।

অমিত সাহার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্র বলেন, ঘটনার দিন অমিত সাহা কক্ষে ছিল কি না এই বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অমিত সাহা ছাত্রলীগ করে। সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ছুটিতে বাড়ি গেছে সে অমিত সাহা নন।  

এ দিকে অমিত সাহাকে নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। তাকে উগ্রহিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের খেতাবও দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে তার উগ্রধর্মীয় মতাদর্শই আবরার ফাহাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ আছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

তার বিষয়ে জানতে দৈনিক অধিকার থেকে অমিত সাহার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্য দিকে গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্র ইশতিয়াক মুন্না এ হত্যার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, ফাহাদ শনিবার (৫ অক্টোবর) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে ফাহাদকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন। এরা প্রত্যেকে ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দুইজন রবিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফাহাদকে ডেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নেন। ওই কক্ষে ফাহাদের কাছ থেকে মুঠোফোন নেওয়া হয়। এ সময় তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাহাদ জ্ঞান হারালে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫ নম্বর) নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় নিয়ে যান তারা। পরে হল প্রভোস্ট এবং চিকিৎসককে সংবাদ দেওয়া হয়। চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে ফাহাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তখনই বুয়েট কর্তৃপক্ষ পুলিশে সংবাদ দেয়।  

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ফাহাদ হত্যার দায় স্বীকার করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ও গ্রেফতার ১০ নেতাকর্মী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব হোসেন বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে কেবল তাদের নামেই মামলা হয়েছে। এরপরও তদন্ত হবে। তদন্তে যদি অমিতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তার কক্ষে তো আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে কি তার আসামির হওয়ার কথা না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহরাব হোসেন বলেন, বললাম তো, তদন্তে প্রমাণ পেলে তাকেও আসামি করা হবে। তাকে বাঁচাতে পুলিশের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড