• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ কে?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০৯
খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া
যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া (ছবি : ফাইল ফটো)

অবৈধ জুয়ার ব্যবসা (ক্যাসিনো) চালানোর অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কের বাসা থেকে  বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

খালেদ মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকার রেলওয়ে কলোনিতে। অভিযোগ রয়েছে খালেদ মাহমুদ রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরেরপুল এলাকার কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন। এগুলোর মধ্যে ১৬টি ক্লাব সে তার নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবটি তিনি সরাসরি পরিচালনা করেন। প্রতিদিন ১০টা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ক্লাবগুলোতে চলে জুয়ার আসর। জুয়া ছাড়া ক্লাবগুলোতে আরও চলে মাদকের করবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খিলগাঁও-শাহজাহানপুর রুটে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন গুলোকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় এই খালেদ মাহমুদকে। তারা অভিযোগ করেন, প্রতি কুরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনির মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুরহাট নিয়ন্ত্রণ করেন খালেদ মাহমুদ। এছাড়া খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের হাট বসান বিতর্কিত এই নেতা। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজার সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন নিজের দখলে রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রীয় ও মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) যুবলীগের এক শ্রেণির নেতাদের ছত্রছায়ায় রাজধানীর ৬০টি স্পটে এমন অবৈধ জুয়ার ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। দেশীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানা যায়, ইতোমধ্যেই এসব অবৈধ জুয়ার আড্ডাগুলো সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণসহ গোয়েন্দা রিপোর্ট সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়ার পর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সম্প্রতি কার্যনির্বাহী সংসদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন- আমার কাছে আরও তথ্য রয়েছে রাজধানীর সব সুউচ্চ ভবনের ছাদগুলো দখলে নিয়েছে যুবলীগের নেতারা। সেগুলোতে চলছে অবৈধ জুয়ার ব্যবসা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। ইতোমধ্যেই আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।

এ দিকে, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের এক বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায়  গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই বৈঠকের একটি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছেন। অপরজন বর্তমানে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন সদলবলে । এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল, কেউ  তখন অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
    
শেখ হাসিনা বলেন, টানা তিন বার ক্ষমতায় আছি। এ সময়ের মধ্যে অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের অবস্থা রয়েছে একই। এ সময় অস্ত্রবাজ-চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান। এসব বন্ধ করুন। না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, শীঘ্রই একইভাবে তাদেরও দমন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন কঠোর অবস্থানের পর বুধবার রাজধানীর ফকিরেরপুলে ইয়ংমেনস ক্লাব নামে একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে নারীসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি ওই ক্লাব থেকে নগদ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রায় একই সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিতর্কিত নেতা  সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করতে তার গুলশানের বাড়ি ঘেরাও করে র‌্যাব সদস্যরা। এর প্রায় ৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়।

অভিযানের ব্যাপারে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে ১৪২ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,  সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ক্লাবটিতে অভিযান চালাই।অভিযানে ক্লাবের ভেতর থেকে নগদ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের ছয় মাস থেকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ক্যাসিনোর আড়ালে ক্লাবটিতে মাদক কারবার চলত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড