• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুই বছরেও হয়নি রামচন্দ্রপুর খালের দখলদারের তালিকা 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:১০
দুই বছরেও হয়নি রামচন্দ্রপুর খালের দখলদারের তালিকা 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিজেদের আওতাধীন ২৯টি খাল ও ১টি জলাধারের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু দুই বছরেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় অবস্থিত রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ দখলদারদের তালিকা করতে পারেনি সংস্থাটি।

গত শুক্রবার থেকে রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত খালের জায়গা দখলে নিয়ে তৈরি করা ছয়টি ভবন ও স্থাপনার অবৈধ অংশ ভেঙে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি ১০তলা বহুতল ভবনসহ দুটি দোতলা ভবন ও তিনটি একতলা টিনের ছাউনির আধাপাকা স্থাপনা রয়েছে।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রামচন্দ্রপুর খালের জায়গায় অনেক অবৈধ স্থাপনা আছে। অভিযানে পর্যায়ক্রমে এসব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ দখলদারের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দখলদারের তালিকা করা হয়নি বলে জানানো হয়। সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরুর দুই বছর পরেও তালিকা না করার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম গতকাল সোমবার মুঠোফোনে বলেন, ২৯টি খালের সীমানা পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপরই অবৈধ যারা আছে, তাদের তালিকা করা হবে।

টানা তিন দিন ধরে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত খালের জায়গা দখল করে বানানো ছয়টি ভবন ও স্থাপনার অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

রামচন্দ্রপুর খালে বছিলা গার্ডেন সিটি সেতুসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। ভবনটির প্রায় ৭০ ভাগই খালের জায়গায় বলে জানায় সংস্থাটি।

ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের একজন সার্ভেয়ার জানান, ভবনটির সামনের দিকে প্রায় ৩৫ ফুট রক্ষা পাচ্ছে। আর পেছনের দিকে রক্ষা পাচ্ছে মাত্র ৪ ফুট। এর বাইরে নির্মাণাধীন ভবনের সবই খালের জায়গায়। অভিযানে অবৈধ অংশের কিছুটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাকি অবৈধ অংশ ভাঙতে মালিকদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।

খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের অভিযান চালাচ্ছে ডিএনসিসি ভেঙে ফেলা ছয়টি ভবনের ৭০ ভাগই খালের উপর নির্মিত ১টি দশতলা, ২টি দোতলা, ৩টি একতলা আধাপাকা স্থাপনা উচ্ছেদ

নির্মাণাধীন ওই ভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনকারী শরিফ উদ্দিন নামের এক কর্মচারী জানান, চারজন মালিক মিলে ভবনটি নির্মাণ করছেন। এরা হলেন- নূর সোলায়মান, মোহাম্মদ জাফর, জাহাঙ্গীর আলম ও অরবিন্দু। তাদের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে। মালিকেরা সবাই একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা।

গতকাল নির্মাণাধীন ওই ভবনের নিচে মালিকদের একজন মোহাম্মদ জাফরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। যদিও তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। শুধু জানান, তারা ৭ কাঠার প্লট কিনেছেন। এর মধ্যে দুই কাঠা সড়ক উন্নয়নের জন্য ছেড়েছেন। আর নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনটি পৌনে ৪ কাঠার মধ্যে। খালের পাড়ে আরও এক কাঠা জায়গা আছে। সিটি জরিপ অনুযায়ী, ভবন খালের মধ্যে পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, রামচন্দ্রপুর খালে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের পাশ দিয়ে খালটির কিছু অংশ ময়লা-আবর্জনা ও মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। বছিলা স্বপ্নধারা হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত মসজিদ ও ইসলাহুল মহিলা মাদ্রাসার পেছনের খালেও একই চিত্র। এসব জায়গায় স্থানীয় লোকজন সবজি চাষ করছেন।

এছাড়া বছিলা গার্ডেন সিটি অংশে আধা কিলোমিটারের বেশি এলাকায় খালের মধ্যে ইটের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল বানানো হয়েছে। এর মধ্যে বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। খালের যে অংশে এভাবে ইটের দেয়াল বানিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে, এর প্রায় ২০-২৫ ফুট উজানে খালের সীমানাখুঁটি দেখা গেছে।

খাল দখল করে বালু ফেলে প্লট তৈরির বিষয়ে বছিলা গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, আমরা কোনো খালের জায়গা ভরাট করিনি। খাল খালের জায়গায় আছে, আমাদের জায়গা আমাদের জায়গায় আছে। তাদের জায়গায় ভুল করে খালের সীমানাখুঁটি বসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ দিকে ঢাকা উত্তর সিটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো অংশে ভাসমান খননযন্ত্র দিয়ে খননকাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুটি এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে বছিলা গার্ডেন সিটি সেতুসংলগ্ন খালের মোহনায় গত শনিবার থেকে খনন চলছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড