• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুরাদের বাসায় গিয়ে যা জানল পুলিশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০১
মুরাদের বাসায় গিয়ে যা জানল পুলিশ
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান (ছবি : সংগৃহীত)

গেল কয়েকদিন যাবত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ মানসিক নির্যাতন চালানোর পর বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতে যান সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। যদিও হাত তোলার আগেই জরুরি সেবা ৯৯৯ -এ কল করেন তার স্ত্রী। মূলত এরপরই মুরাদের ধানমন্ডি ২৮ নম্বরের (পুরাতন) বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।

যদিও তখন পর্যন্ত পুলিশের মুখোমুখি হননি ডা. মুরাদ। বাড়িতে পুলিশ ঢোকার মিনিট চারেক আগেই নিজ গাড়িতে বাসা ত্যাগ করেন তিনি।

কেন স্ত্রীর সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যের এমন আচরণ- জানতে মুরাদের বাসায় উপস্থিত হন ধানমন্ডি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম। প্রথমে প্রবেশ করেই যখন নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন কিছুক্ষণ আগেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান ডা. মুরাদ।

এরপর বাড়ির ডি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে যান সাইফুল ইসলাম, ধানমন্ডির এসআই রাজিবসহ মোট ছয় থেকে সাতজন কর্মকর্তা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, তারা ভেতরে সবকিছু স্বাভাবিকই পেয়েছেন। বাসায় সে সময় ছিলেন ডা. মুরাদের স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান, তার ও-লেভেল পড়ুয়া ১৬ বছরের মেয়ে এবং ফাইভ পড়ুয়া ১১ বছরের ছেলে। পুলিশ সদস্যদের পেয়ে তারা তাদের কথাগুলো বলতে থাকেন। তারা বলেন, ‘সম্প্রতি চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং নায়ক ইমনের সঙ্গে একটি অডিয়ো ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এক পর্যায়ে মুরাদ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে কানাডায় গিয়ে থাকবেন বলে জানান। কিন্তু কানাডার ইমিগ্রেশন থেকে ব্যর্থ হয়ে আবারও দেশে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে।

মুরাদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, মুরাদ ও তার স্ত্রীর সংসার গেল ১৯ বছরের। যদিও গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ যাবত তাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। অডিয়ো ফাঁসের পর থেকেই এর সূত্রপাত ঘটে। মুরাদ সবসময় তার স্ত্রীকে ছোট করে কথা বলতেন। সন্তানরা কিছু বললে (মুরাদ) ভাবতেন স্ত্রী শিখিয়ে দিয়েছেন। এসব বিষয়ে স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন এই সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুন : এবার করোনার নতুন ধরন ‘আইএইচইউ’ শনাক্ত

মুরাদের স্ত্রীর দাবি, মন্ত্রিত্ব হারানোর পর প্রায়ই উন্মাদের মতো আচরণ করেন ডা. মুরাদ। সবাইকে ‘দেখে নেব, মেরে ফেলব’ বলেও হুমকি দিতেন। বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে তিনি সন্তানদের গালিগালাজ করেন, এমনকি স্ত্রীকে মারার জন্য তেড়ে যান। নিজেকে বাঁচিয়ে ৯৯৯-এ কল দেন স্ত্রী। সর্বশেষ রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মুরাদ বাড়িতে ফেরেননি।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অভিযোগ শুনে বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। ডা. জাহানারার কাছ থেকে সব কথা শুনে তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। অভিযোগে তিনি বলেন, ডা. মুরাদের এমন আচরণ আগে ছিল না, এটা সম্প্রতি হয়েছে। এখন তুচ্ছ বিষয় নিয়েই স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দেন তিনি। আজ তার সন্তানরাও হুমকি শুনে ভয় পেয়েছে; তাই পুলিশকে বলেছে।

মুরাদের বাসার পাশেই নিয়মিত ডিউটিতে ছিলেন ধানমন্ডি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রাজীব। তিনি মিডিয়া কর্মীদের বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে আমিও ঘটনাস্থলে যাই। তারা পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ দিকে ডা. মুরাদের স্ত্রী ধানমন্ডি থানায় বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব। তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে কিছুক্ষণ আগেই থানা থেকে জানানো হয়েছে যে আমি তদন্ত কর্মকর্তা। আমি জিডির কপিটি এখনো হাতে পাইনি। কপি পেলে আমি আমার তদন্তকাজ শুরু করব।

আরও পড়ুন : ভবিষ্যতের সমরাস্ত্র-যুদ্ধের কৌশল কেমন হবে?

বিএনপি নেতা তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে ফোনে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। এরপর তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। বিতর্কের মুখে দেশ ত্যাগ করলেও কানাডায় ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন তিনি। মূলত এরপর থেকেই আড়ালে রয়েছেন ডা. মুরাদ হাসান।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড