• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জানা গেছে আদাবর থেকে তিন বোনের পালানোর রহস্য

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ নভেম্বর ২০২১, ১০:২০
বোন
আদাবর থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩ বোন (ছবি : সংগৃহীত)

রাজধানীর আদাবর থেকে হঠাৎ পালিয়ে যাওয়া তিন বোনের খোঁজ মিলেছে যশোরে, সেসঙ্গে জানা গেছে তাদের পালানোর রহস্যও। এই তিন বোনের দুজনের এসএসসি পরীক্ষা চলছিল। অন্যজন একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকা থেকে যশোর চলে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

এসএসসি পরীক্ষা চললেও, বাবার অসুস্থতার খবরে তারা নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আর এ কারণেই যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। র‍্যাবের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন এই তিন বোন।

তিন বোন হলেন, বড় বোন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকেয়া (১৮), মেজো বোন জয়নব আরা (১৭) ও ছোট বোন খাদিজা আরা (১৬)।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের ধারণা ছিল, বাবাকে দেখতে যাওয়ার কথা খালাকে জানানো হলে তিনি যেতে দেবেন না। আর তাই কাউকে না বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায় তারা।

তিন কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেহেতু দুজনের পরীক্ষা রয়েছে তাই আগামী রবিবার তারা ঢাকায় চলে আসতো। তার আগেই আদাবর থানায় নিখোঁজের জিডি করেন তাদের খালা সাজিয়া নওশীন। খবরটি দ্রুত গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ফলে তদন্তে নামে র‍্যাব। যশোরে তাদের বাবার বাড়িতে অবস্থানও শনাক্ত করে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, তিন বোনকে যশোর কোতোয়ালি থানায় পুলিশি হেফাজত থেকে রাজধানীর আদাবর থানা পুলিশের একটি টিম ঢাকায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, অসুস্থ বাবাকে দেখতে তারা বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলও ছিল না তাদের সঙ্গে। তাদের খালা সাজিয়ার ধারণা ছিল টিকটকের সম্পৃক্ততার কারণে তারা বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। তবে এ ধরনের কোনও তথ্য-প্রমাণ পাইনি। তাদেরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে আদাবরের খালার বাসা থেকে কাউকে না বলে বেরিয়ে যায় তিন কিশোরী। সঙ্গে নিয়ে যান এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড। এ ঘটনায় সেদিন আদাবর থানায় জিডি করলেও সাজিয়া নওশীন তার পরিবারের অন্য কাউকে বিষয়টি জানাননি। শুক্রবার ১৯ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাজিয়া নওশীনের খিলগাঁওয়ের বোনের বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা অবহিত হন বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।

সাজিয়ার ভাষ্যমতে তিন কিশোরী টিকটক আসক্ত হলেও যশোর পুলিশের দাবি, তারা টিকটকে আসক্ত নয়। এমনকি তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নেই।

এ বিষয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রুপণ কুমার বলেন, শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আনসারুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পশ্চিমপাড়া হতে ভিকটিম রোকেয়া, জয়নব ও খাদিজাকে উদ্ধার করেছে। তাদের পিতা রফিকুজ্জামান ও মাতা মৃত তাসনিম আরা চৌধুরী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কিশোরীরা তাদের বাবা মায়ের সঙ্গে উত্তরা লেকসিটি কনকর্ডে ভাড়া বাসায় থাকত। ২০১২ সালের দিকে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হলে তাদের বাবা যশোর চলে আসেন এবং তারা মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থেকে যায়।

ভিকটিমদের বাবা রফিকুজ্জামান পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট তাদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ভিকটিম রোকেয়া আরা চৌধুরীকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন তার খালা সাজিয়া নওরিন চৌধুরী এবং ভিকটিম জয়নব আরা চৌধুরী ও খাদিজা আরা চৌধুরীর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন আরেক খালা সামিয়ারা চৌধুরী।

ভিকটিমদের লালন-পালনের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদাবরের বাসা থেকে তিনজন ভিকটিম নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সাজিয়া নওরিন আদাবর থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।

ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাসের পর হতে ২০১২ সালের পর তাদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া তাদের ওপর অত্যাচার করা হতো। তাই ভিকটিম তিনবোন পরামর্শ করে আদাবর থেকে পালিয়ে যশোরে বাবার বাড়ি চলে আসে।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, ভিকটিমদের বাবা এখন প্যারালাইজড ও শয্যাশায়ী। তার বাসায় এই তিন বোন এসে অবস্থান করছিলেন। তারা টিকটক আসক্ত; এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নেই।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড