• রোববার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঢাকায় মাত্র ২ শতাংশ সবুজ অবশিষ্ট আছে : সবুজ আন্দোলন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৫১
ঢাকায় মাত্র ২ শতাংশ সবুজ অবশিষ্ট আছে : সবুজ আন্দোলন
সবুজ আন্দোলনের সদস্যরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘বাসযোগ্য ঢাকা’ এ যেন এক কল্পকাহিনী। ঢাকা শহরে বসবাসরত সকল নাগরিক খুঁজে ফেরেন একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার জায়গা। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঢাকা শহর আজ বসবাসের অনুপযোগী শহরে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটি শহর গড়তে জলাশয় ও খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এমনটাই বলেছেন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার।

তার মতে, বিগত ২০ বছরে ঢাকা শহরে স্থাপত্য নির্মাণ বৃদ্ধি পেলেও কমেছে জলাশয় ও ফাঁকা জায়গা। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠনের তৎপরতায় শহরের জনগণ পরিবেশের বিপর্যয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ায় সবুজায়নের প্রতি দিনদিন গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবুজ আন্দোলন তথ্য ও গবেষণা পরিষদের সমীক্ষা অনুযায়ী ২০০০ সাল হতে ঢাকা শহরের প্রায় ৭০ ভাগ পাকা ঘরবাড়ি আচ্ছাদিত ছিল। ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮৩ ভাগ। বিগত সময়ে জলাশয় ও খোলা জায়গা প্রায় ১৫ ভাগ থেকে কমে ৬ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। তবে সবুজায়ন বেড়েছে ৫ ভাগ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০৫.৮৭১ বর্গ কিলোমিটারের ১৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবুজ এলাকা জলাশয় খোলা উদ্যান এবং স্থাপনা নির্মাণ বিবেচনায় রিমোট সেন্সিং ইমেজ বিশ্লেষণ ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রমনা পার্ক, মগবাজার, লালবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বসিলা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, দুয়ারীপাড়া, রাজাবাজার, ইন্দিরা রোড, শেরে বাংলা নগর ও মিরপুর সেনানিবাস এলাকায় সবুজায়নের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো।

যে কোনো শহরকে বসবাসের উপযোগ্য রাখতে মোট ভূমির ১৫-২০ শতাংশ সবুজ ভূমি, ১০-১৫ ভাগ জলাশয় এবং হাঁটা দূরত্ব বজায় রাখতে পার্ক কিংবা খোলা জায়গা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে রাজধানীতে ৮৩ শতাংশই দালানকোঠা মাত্র ২ শতাংশ সবুজ অবশিষ্ট রয়েছে।

আরও পড়ুন : মৃত মায়ের টিপসই জাল করে ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রি

বাপ্পি সরদার ঢাকা শহরের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

১. সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে ঢাকার চারপাশে বহমান নদী ও খালের পাড় জুড়ে, রেলের পতিত জমি ও রেললাইনের দুই ধারে ও অনুমোদিত সকল আবাসন প্রকল্পে ২৫% বনায়ন নিশ্চিত করা।

২. নদী ও খালের পানিকে দূষণ মুক্ত রাখতে ইটিপি ফর্মুলা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শহরের সকল মার্কেট ও দোকানের সামনে নূন্যতম ২টি করে গাছের টব ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ছাদ-কৃষি ও ছাদ-বাগান বৃদ্ধি করণ।

৪. বায়ু দূষণ সংক্রান্ত আইন-২০১৯ বাস্তবায়ন এবং বায়ু দূষণ কমাতে শহরের চারপাশে অবস্থিত সকল ইটভাটা বন্ধ, শহরের রাস্তাকে দিনে দুইবার ঝাড়– ও সপ্তাহে একদিন পানি দিয়ে ধৌত নিশ্চিত করা।

৫. ঢাকার শহরের সকল খাল দখল মুক্ত করা, খাল খনন এবং শহরের চার পাশের নদীর ব্যবহার বাড়াতে বেসরকারিভাবে নৌযান চলাচল বাড়াতে হবে।

৬. বর্জ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ই-বর্জ্য রাখার জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইনসিনেরেটর ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন : সবার আগে ভ্যাকসিন নিলেন সৌম্য, এরপর তামিম

৭. শিক্ষাক্ষেত্রের সর্বস্তরে পাঠ্যসূচিতে পরিবেশ শিক্ষা ও আইন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৮. ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মানসম্পন্ন গণপরিবহণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড