• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাত পোহালেই উৎসব, অলিগলিতে সাকরাইনের আমেজ

  জয়নুল হক

১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১৮
ঘুড়ি
রং-বেরঙের ঘুড়ি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

রাত পেরোলেই শুরু হবে সাকরাইন উৎসব। এ লক্ষ্যে পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। উৎসবকে ঘিরে বেড়েছে ঘুড়ি বেচাকেনার ধুম। তরুণ-তরুণীরা ছুটছে ঘুড়ি-নাটাই, সুতোর টানে।

ফলে পুরান ঢাকার শাখারী বাজার, লক্ষ্মী বাজার, গেন্ডারিয়া এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘুড়ি-নাটাই দোকানিরা। সাকরাইন উপলক্ষে বাজারে এসেছে রং-বেরঙের ঘুড়ি।

শাঁখারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে চিল ঘুড়ি, বাদুড় ঘুড়ি, ময়ূর, চানঁতারা, পাঞ্জাব, চোখদার, পানদার, কথাদার, মালাদার, পঙ্খিরাজ, চলনদার, পেটিদার, পাংদার, প্রজাপতি, দাপস, চিলসহ বিভিন্ন নকশা ও আকৃতির ঘুড়ি সাজানো রয়েছে। আকার ও দাম ভেদে বিভিন্ন রঙের ঘুড়ি রয়েছে। সাধারণত একটি ঘুড়ির সর্বোচ্চ দাম ৩৫০ টাকা, আর সর্বনিম্ন ৫ টাকা দামের ঘুড়ি মিলছে দোকানগুলোতে। এছাড়া বাদুড় ঘুড়ি ও বড় চিল ঘুড়ির দাম ২০০ টাকা। আর ছোট চিল ঘুড়ির দাম ১০০ টাকা।

ঘুড়ির পাশাপাশি দোকানগুলোতে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের সুতা। সাথে রয়েছে ক্যাঙারু, বিচ্ছু, ড্রাগন যা ঘুড়ি ওঠানোর জন্যে খুবই উপকারী। গজ হিসেবে সুতা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। সুতার মান অনুযায়ী ৬০০ গজ সুতা ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

ঘুড়ি ওঠানোর জন্যে রয়েছে বিভিন্ন আকারের নাটাই। সাধারণত একটি নাটাই ২ ইঞ্চি থেকে সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বাঁশের নাটাই দিয়ে তৈরি করা একটি নাটাইয়ের সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা। সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দামের নাটাই রয়েছে। এছাড়া রুপার ও লোহার নাটাইও মিলছে দোকানগুলোতে। সেগুলোর দাম আকারভেদে ৩০০ টাকার ওপরে।

শাঁখারী বাজারে ঘুড়ি কিনতে আসা গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা তপন কুমার ও তার বন্ধুরা জানায়, সাকরাইন উৎসব আমাদের অতি আনন্দের একটি উৎসব। পুরান ঢাকার উৎসবগুলোর মধ্যে আমরা তরুণেরা এই উৎসবটা বেশি উপভোগ করি। এইবার করোনার কারণে ফ্যামিলি থেকে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সীমিত পরিসরে বন্ধুরা মিলে বাসার ছাদে ঘুড়ি উড়াব। এই সময়ে ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি পৌষ সংক্রান্তির পিঠা উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে বলেও জানান তারা।

শঙ্খশ্রী দোকানের সত্ত্বাধিকারী রিপন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে এবার প্রতিবছরের তুলনায় ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। অর্ডার কমে গেছে তারপরও মোটামুটি চলছে। আমরা বছরের বারোমাসই ঘুড়ি-নাটাই ব্যবসা করি। সাকরাইন হিসেবে একটা অন্যরকম আমেজ সৃষ্টি হয় ব্যবসায়। আমাদের মূল আকর্ষণ তরুণ-তরুণীরা। তবে এইবার অর্থনৈতিক মন্দা হওয়ার কারণে ফ্যামিলি থেকে বাচ্চাদের হাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।’

শাখারী বাজারের ঘুড়ি-নাটাই ব্যবসায়ী নিগম প্রোপ্রাইটর বিষ্ণু সেন বলেন, প্রতিবছর সাকরাইন উপলক্ষে ঘুড়ি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে অন্যরকম একটি অনুভূতি সৃষ্টি হয়। ঘুড়ি বিক্রির সময় ছেলে-মেয়দের আনন্দ আমাদের শৈশবে নিয়ে যায়। ফলে আমি মাঝে মাঝেই অপেক্ষাকৃত কম দামে ঘুড়ি বিক্রি করে দেই।

আরও পড়ুন : সোনামণির ইন্টারনেট আসক্তি কমানোর উপায়

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) শুরু হবে পুরান ঢাকা বাসিন্দাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন বা পৌষ সংক্রান্তি। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি পুরান ঢাকার বাইরেও পালন করা হয়। বাঙ্গালি সংস্কৃতি হিসেবে সব ধর্মের মানুষ এটি পালন করে থাকে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড