• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আনিসুল হকের স্বপ্নের সেই সড়কে ফের ট্রাকস্ট্যান্ড

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৪
ট্রাকস্ট্যান্ড
সাবেক মেয়রের স্বপ্নের সড়কটি এখন আগের মতো ট্রাকস্ট্যান্ডে রূপ নিয়েছে (ছবি: সংগৃহীত)

রাজধানীর সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেললাইন পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক এক সময় পুরোটাই দখল করে গড়ে উঠেছিল ট্রাকস্ট্যান্ড। সড়কটি থেকে স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে নিজের স্বপ্নের মতো সাজিয়ে ছিলেন তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক। এজন্য তাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। তবে সাবেক মেয়রের সেই স্বপ্নের সড়কটি এখন আবার আগের মতো ট্রাকস্ট্যান্ডে রূপ নিয়েছে।

প্রায় সময়ই মূল সড়কের ওপর রাখা হয় সারি সারি ট্রাক কাভার্ডভ্যান। সড়কের দুই পাশে কোথাও এক লাইন, কোথাও দুই লাইনে পার্কিং করে রাখা থাকে এসব যানবাহন। প্রায় ১০০ ফুট চওড়া এই সড়কে কখনো কখনো একসঙ্গে দু’টি যানবাহন চলা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধভাবে দখল হওয়া জায়গা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলে আসছে অবৈধভাবে দখল হওয়া স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সাতরাস্তা থেকে রেললাইন পর্যন্ত সড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহু বছরের ট্রাকস্ট্যান্ডটি ২০১৫ সালে উচ্ছেদ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক। যে কারণে সে সময় বিক্ষুব্ধ চালক ও শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। হয়েছেন অবরুদ্ধ।

তখন দখলদারদের ইটপাটকেল আর পুলিশের টিয়ারশেলের মধ্য দিয়ে সড়কটিকে ‘পার্কিংমুক্ত’ করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেন তিনি। পরে রাস্তাটির সংস্কার করে আরো প্রশস্ত করেন। তার সময়ে ঢাকার সবচাইতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সড়ক হিসেবে এটিকেই বিবেচনা করা হতো। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর থেকে ফের দখলদারদের হাতে চলে যায় সড়কটি।

আওলাদ হোসেন নামের এক ট্রাক চালক জানান, সাবেক মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর থেকেই সড়কটিতে গাড়ি রাখছেন। ট্রাক ভাড়া না হলে এই সড়কেই সবাই পার্কিং করে রাখেন। গাড়ির কাজ থাকলেও এখানেই সারানো হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সব সময়ই আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা নেয়া হয়। পুলিশ মাঝেমধ্যে সড়ক থেকে গাড়ি সরানোর চেষ্টা করলেও নেতারা ওসব ম্যানেজ করে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান বলেন, সাবেক মেয়র আনিসুল হক এই সড়ক থেকে ট্রাক-কভার্ডভ্যান উচ্ছেদের পর থেকে আমরাও চাই না জায়গাটা বেদখল হোক। এখন সড়কে মাঝেমধ্যে ট্রাক-কভার্ডভ্যান থাকে। তবে ইদের সময় ও ছুটির দিনে কিছু গাড়ি এখানে অবস্থান করে।

প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালামাল নিয়ে ঢাকায় ঢুকছে। মালামাল লোড-আনলোডের জন্য মাঝেমধ্যে সড়কে ট্রাক থাকে। তবে আমরা সবাইকে বলে রাখছি, এখানে কোনো ট্রাক দীর্ঘ সময় যেন না থাকে। এছাড়া ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। যেটা আছে, তাও রেলওয়ের জায়গা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির ফুটপাথ ও সড়কে কিছু পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিলামে দেওয়া হবে। ফুটপাথ ও সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে মোবাইল কোর্ট ও নিলাম কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড