• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছয় হাসপাতালে ঘুরেও বাবাকে বাঁচাতে পারল না মেয়ে 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২০, ০১:৫৪
ছবি : সংগৃহীত

নাম মো. আলমাছ উদ্দিন। হঠাৎ করেই তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। আলমাছ উদ্দিন বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললে ও  ছবি পাঠালে তারা জানায়, লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। এর আগেও আলমাছ উদ্দিনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে ছিল। 

এ ঘটনা ঘটে শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৮টায়। বাবা আলমাছ উদ্দিনকে নিয়ে  ছয়টি হাসপাতালে ঘুরেছেন সন্তানেরা। অবশেষে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিকিৎসা না পেয়ে রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে মারা যান তিনি। 

আলমাছ উদ্দিনের মেয়ে বলেন, শুক্রবার ভীষণ ডায়রিয়া ও জ্বর ছিল বাবার। কিছুক্ষণ পর তার কথা জড়িয়ে যেতে থাকে। পরে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। এমনিতেই দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা করাতেন তিনি (আলমাছ উদ্দিন)। জ্বর-ডায়রিয়া শুনে করোনার আতঙ্কে তারা নিতে চাননি। পরদিন শাহবাগের একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে বুকের এক্স-রে করে নিউমোনিয়া মতো মনে হচ্ছিল। করোনা ভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিলে আছে বলে তারাও রাখেননি। পরে বাবাকে (আলমাছ উদ্দিন) ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। ওই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ রাখতে রাজি হলেও, চিকিৎসকেরা আসেননি। 

তিনি বলেন, পরে বাবাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ভর্তি নেয় তারা। কিন্তু জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পাঠানোর সময় চিকিৎসকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য না পেলে রোগী রাখবেন না বলে জানান তারা। তারা বাবাকে (আলমাছ উদ্দিন) কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। যাওয়ার আগে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে বলেন। সন্ধ্যার দিকে বাবাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে  কুয়েত মৈত্রীর গেটে পৌঁছাই। লক্ষণ দেখে তারা  বলেন, রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগী থাকলে বিপদ।

তিনি আরও বলেন, বাবাকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে থাকি আমরা। বাবার এ অবস্থা জানতে পেরে এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে আসেন। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এই পরিচয় দিয়ে কোনো সুবিধা নেওয়া পছন্দ করতেন না তিনি। তাই আমরাও কোনো হাসপাতালে গিয়ে এই পরিচয় দিইনি। পরে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড আছে। মুক্তিযোদ্ধারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাবাকে (আলমাছ উদ্দিন) ভর্তির ব্যবস্থা করি। কিন্তু সেখানেও সমস্যা। হাসপাতালের সিটিস্ক্যান, এমআরআই মেশিন নষ্ট। পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নেই। সেখানে বাবাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল শুধু। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন বাকি পরীক্ষার পর চিকিৎসা শুরু হবে। সেই সুযোগ আর বাবা দেননি। সকাল সোয়া ৭টায় মারা যান তিনি।

আলমাছ উদ্দিনের মেয়ে বলেন, এভাবে ছয় হাসপাতালে গিয়েও বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না। বলতে গেলে আমার বাবা বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আমিনুল হাসান সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে গিয়ে রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি।  কীভাবে রোগীদের কষ্ট কমানো যায়,  সে বিষয়ে আমরা ভাবছি। আগামী বুধবার আমরা সবপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসবো। 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড