• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মিরপুরে হত্যাকাণ্ড : বাসায় ছিল অপরিচিত তরুণ-তরুণীর আনাগোনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৭
ডিএমপি
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় (ছবি : সংগৃহীত)

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের (এ-ব্লক, রোড ২) একটি বাসা থেকে এক বৃদ্ধা (৭০) ও গৃহকর্মীর (১৭) মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে রহস্যজনক সব তথ্য উঠে আসছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে মিরপুরের ওই ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা ও তার গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে অনেক অপরিচিত তরুণ-তরুণী আসা যাওয়া করত।

ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোহেল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় জানান, মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে অপরিচিত তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। এ বিষয়টি নিয়েও তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। কাজের মেয়ের সঙ্গেই বৃদ্ধা রহিমা ওই বাসায় থাকতেন। মাঝে মধ্যে ওই বাসায় পালিত ছেলে সোহেল ও রহিমার দ্বিতীয় স্বামী কুদ্দুস মিয়া আসতেন।

এ ঘটনায় নিহত রহিমার কথিত পালিত ছেলে সোহেলকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, নিহত গৃহকর্মী সুমি আক্তারের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাদুড়তলায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মিরপুর-২ সেকশনের ওই হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃদ্ধা ও গৃহকর্মী দুজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সোহেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা সোহেলকে নিহত রহিমার পালিত ছেলে হিসেবেই জানে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। 

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই ফ্ল্যাটে অনেক অপরিচিত তরুণ-তরুণীর আনাগোনা ছিল। স্থানীয়রা মনে করছেন, সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। এ ব্যাপারেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গত রবিবার গৃহকর্মী সুমি এই বাসায় কাজে যোগ দেয়। এর আগে, সুমির পরিচিত (খালা) এখানে কাজ করতেন। আর ছয় মাস আগে বৃদ্ধা রহিমা এই বাসা ভাড়া নেয়।

রহিমা বেগমের কন্যা রাশেদা বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জে থাকি। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে ফোন করে সোহেল আমাকে জানায়, মাকে কে যেন মেরে ফেলেছে। লাশ বাসায় আছে। তিনি বলেন, আমার মায়ের কাছে কিছু টাকা ছিল। এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে ঝগড়া হয়, সে কথা মা আমাকে বলেছিল। আমার মন বলছে, ওই টাকার জন্য সোহেল এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। আমার কোনো ভাই-বোন নেই। সোহেলকে পালিত ভাই হিসেবেই জানি বলেও জানান তিনি।

মিরপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. দুলাল হোসেন বলেন, ওই ফ্ল্যাটের কারও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেঝেতে দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর ডিভিশনের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আটক সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য জানা যাবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড