• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (৮ম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

১২ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৫
গল্প
ছবি : প্রতীকী

ইভান সকোলভ থমথমে মুখে হলরুমের সামনের ডায়াসে গিয়ে দাঁড়ান আবার। পুরো হলরুমে পিনপতন নিস্তব্ধতা। এই নৈঃশব্দের মধ্যে মাইক্রোফোনে ইভানের কণ্ঠস্বর যেন উপস্থিত সবার ভেতরে বিঁধে যাচ্ছে। 
- কোন ফরমালিটি করবো না। আপনারা নিজেরাই কিছুক্ষণ আগে দেখেছেন টিম ইন্ডিয়ার প্রোগ্রামার শিল্পা খুরানা এসে আমাদের জানায় ফিমেল ওয়াশরুমে তিনি একটি মৃতদেহ দেখেছেন। সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে শিল্পা খুরানা যাকে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি হচ্ছেন....
- ওহ্ না! ক্লাউড যেন না হয়! 
আয়েশা ফিসফিস করে প্রার্থনা করে। ইভানের কণ্ঠ পরমুহূর্তেই আয়েশার প্রার্থনাকে ভেঙে দেয়। 
- টিম কোরিয়ার কাউদক ইয়ুন দুয়ো। 
আয়েশা কেঁদে ফেলে এবারে। 
- শি ইজ ডেড? 
 হলরুম থেকে কেউ একজন প্রশ্ন করে। 
- না। শিল্পা খুরানা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চলে আসেন বলে বুঝতে পারেননি। ইয়ুন দুয়ো বেঁচে আছেন। অন্তত এখনো পর্যন্ত। এইটুকুই আশার কথা।
কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আবার বলতে শুরু করেন তিনি, ‘এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনার পরে আজকে ইভেন্ট চালানো সম্ভব না, বুঝতেই পারছেন। টিম কোরিয়ার জন্য আমি অরগানাইজার টিমের পক্ষ থেকে সহানুভূতি জানাচ্ছি। তবে বুঝতেই পারছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ইভেন্টটি শেষ করারও প্রয়োজন.... কিন্তু....’
ইভান সকোলভ দ্বিধা বোধ করছেন কেন, তা বুঝতে কারোরই সমস্যা হয় না। আচমকাই তখন টিম কোরিয়ার তায়ে হি উঠে দাঁড়ায়। দাঁড়িয়ে পুরো হলের উদ্দেশ্যে বলে, ‘আমরা, টিম কোরিয়া আজকের এই ঘটনায় মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। কিন্তু আমরা এটা জানাতে চাই, প্রোগ্রামিং দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই কনটেস্ট এই ঘটনার জন্য যেন বন্ধ না হয়, সেই ব্যাপারে আমরা পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করতে রাজি আছি। ধন্যবাদ।’
 
হলরুমে আবারও নীরবতা নেমে আসে। তখন স্টিফান উঠে দাঁড়ায়। টিম কোরিয়ার দিকে তাকিয়ে হাত তালি দিতে শুরু করে। এরপর স্টিফানের পাশে থাকা মাহিরাও উঠে তালি দেয়। এরপর ধীরে ধীরে হলরুমের প্রতিটি মানুষ উঠে দাঁড়ায়। টিম কোরিয়ার প্রতি স্ট্যান্ডিং ওভেশন ও করতালি দিয়ে সবাই জানান দেয়, মানুষ একা হয়ে যেতে পারে না। তারুণ্য সংহতির।
 
ইভান সকোলভ সামনের এই তিরিশ দেশের তরুণদের দেখে চোখ মোছেন সবার অগোচরে। তারপর মাইক্রোফোনে আবারও বলেন, ‘ধন্যবাদ। তবে আজকের মতো ইভেন্ট স্থগিত থাকুক। ইয়ুন দুয়ো যেন আমাদের মধ্যে ফিরে আসতে পারে সেই প্রার্থনা করি। আগামীকাল সকাল আটটায় প্রবলেম রিলিজ হবে। এবং আপনারা সলিউশন লিখবেন জুলিয়াতে, দু ঘন্টার মধ্যে। আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনারা সবাই টিম গাইডদের সাথে হোটেলে ফিরে যান।’

টিম বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ফিউদরের ভ্যানে উঠে বসার পরও প্রথমটাতে কেউই কোন কথা বলতে পারে না। কির এখন ড্রাইভারের পাশের সিটে না বসে পেছনে সবার সাথে বসেছে। হালকা চাপাচাপি হয়ে গেছে যদিও এজন্য। 
- মাশা 
দীপ্ত মাশার দিকে তাকায়। 
- ক্লাউডের কি হয়েছে আসলে? 
মাশা কিছুটা চমকে ওঠে। দীপ্ত গলাটা একটু পরিষ্কার করে নেয়। তারপর বলে, ‘শিল্পা যেভাবে ভয় পেয়েছিলো, তা দেখে মনে হচ্ছে ও খুব ভয়ংকর কিছু দেখেছে৷ ওয়াশরুমে একটা বডি পড়ে থাকতে দেখা ভীতিকর, কিন্তু এত বেশি আতঙ্কিত হওয়ার মতোও তো না, তাইনা?’
মাশা কিছুটা দ্বিধা করে। তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে স্থির হয়ে তাকায় সামনের দিকে। 
- ঠিকই ধরেছো। শিল্পার সাথে ছিলাম আমি কিছুক্ষণ। ও বলেছে, ক্লাউডের মুখের একপাশ নাকি একদম পুড়ে ছিলো। আর পা জুড়ে আঁচড়ের মতো বিভৎস দাগ।
ভ্যানে বসে থাকা প্রত্যেকে শিউরে ওঠে। 
- তুমি কি বলতে চাইছো? তারিকুল প্রশ্ন করে। 
- হ্যাঁ।  মাশা বলে, ‘সম্ভবত এটেম্পট টু মার্ডার।’ 

সামনে বসে গাড়ি চালাতে চালাতে ফিউদর ভাবতে থাকে। হামাজিয়ান রাম নামের রহস্যময় সেই ব্যক্তির কাছ থেকে সেদিন রেড রুমে সে নির্দেশ পায়; গতবছরের চ্যাম্পিয়ন কোরিয়াকে এবারে স্যাবোটেজ করতে হবে। কোরিয়া যেন এমনকি নক আউট পর্যন্তও উঠতে না পারে। ফিউদর প্রশ্ন করেছিলো, এই কাজের জন্য কোরিয়ার কোন গাইডকে এসাইন করলেই তো ভালো হতো। ফিউদর কেন? 
হামাজিয়ান রাম তখন হেসেছিলো। কলজে কাঁপানো হাসি।
- স্মিরনোভ, তোমার মতো একটা শকুন থাকতে আমি অন্য ইঁদুরকে কেন শিকারের দায়িত্ব দেবো?  
স্মিরনোভ একটা ভুল করেছিলো সেদিন। ডার্ক ওয়েবের এই রুলারকে প্রশ্ন করেছিলো, ‘যদি কাজটা না করি?’
হেডফোনে তখন আবারও হাসির শব্দ আসে। 
- নিজেই দেখো। 
ফিউদর দু’চোখে অবিশ্বাস নিয়ে দেখে ওর শিল্ড ভেঙে মাত্র পয়তাল্লিশ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বিটকয়েন চলে গেছে হামাজিয়ান রামের দখলে। 
- তু... তুমি কে? 
 স্মিরনোভ সেদিন দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্ন করেছিলো তার পরিচয়। কিন্তু উত্তরে কোন পরিবর্তন আসেনি। 
- হামাজিয়ান রাম। 

সাথে সাথেই স্ট্রিমটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্মিরনোভ ঘাবড়ে গেলেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে খোঁজ নিতে থাকে হামাজিয়ান রামের সম্পর্কে। 
জানতে পারে, মাত্রই ছয়মাস আগে হামাজিয়ান রামের আবির্ভাব ডার্ক ওয়েবে। নিজেকে সে স্বঘোষিত ডার্ক ওয়েব রুলার আখ্যা দেয়। রেড রুমের মিথটা কাজে লাগিয়ে ফিউদরের মতো কিছু এক্সপার্ট নকল রেডরুম বানিয়ে বিটকয়েন প্রতারণা করলেও সম্ভবত হামাজিয়ান রামই প্রথম রেড রুম তৈরি করেছে। ফিউদরের দেখা ভিডিওটা যে সত্যিই লাইভ ছিলো, তা ফিউদর নিশ্চিত হয় পরেরদিন সকালে। টেলিভিশনে যখন মস্কো ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া তরুণের রহস্যজনক আত্মহত্যার খবর প্রচারিত হয়। অত্যন্ত বিভৎস এই আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো রাশিয়া স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।
 
প্রায় সাথে সাথেই কিছুদিনের পুরনো আরেকটি আরবান মিথ, ব্লু হোয়েলের সাথে ঘটনার সম্পৃক্ততা খুঁজতে শুরু করে অনেকেই। ফিউদর নিজেও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। 

আদতেই এই ভয়াবহ গেমটি কেউ খেলছে? হামাজিয়ান রাম?

(চলবে...)

‘দ্যা গেম’-এর ৭ম পর্ব- ধারাবাহিক গল্প : দ্যা গেম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড