• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (৭ম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩৬
উপন্যাস
ছবি : প্রতীকী

শিল্পার কথায় পুরো হলরুমে স্তব্ধতা নেমে আসে সাথে সাথেই।
- ডেড?
ইভান সকোলভ শিল্পার কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন যেন। ইতোমধ্যে সামনের দিকে যারা নাচছিলো তারাও কৌতূহলী হয়ে শিল্পার কাছাকাছি এসে ভিড় জমায়। মানুষজনের এই ভিড় ঠেলে কৃষ্ণাঙ্গী আরেক ভারতীয় মেয়ে সামনে আসে। মাশা মাথা ঝাঁকিয়ে মেয়েটিকে শিল্পার কাছে আসতে দিয়ে নিজে সরে যায়।

ইভান সকোলভ প্রচণ্ড অস্বস্তিবোধ করছেন। তিনি মিনিস্ট্রির কেউ নন। মস্কো ইউনিভার্সিটিতে আইটি পড়াতেন। মাসখানেক হলো চাকরি ছেড়েছেন। নিতান্ত সিভিল শ্রেণীর মানুষ তিনি, প্রোগ্রামিং কনটেস্টের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তার, এতবছরে কোন কনটেস্টেই অন্তত মৃত মানুষ সামলাতে হয়নি তাকে। মাশা শিল্পার কাছ থেকে সরে এসে ইভানের পাশে দাঁড়িয়েছে। 
- বাবা, এখন কি করবে?
ইভান একটা মুহূর্ত মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই গাঝাড়া দিয়ে ওঠেন। নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মধ্যে ফিরে আসেন। 
দৃপ্ত গলায় উপস্থিত ভীড়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সবাই প্লিজ মেয়েটির কাছ থেকে সরে যান। আপনারা নিজেদের মতো থাকুন, কেউ ভয় পাবেন না। আমি নিজে গিয়ে দেখে আসছি ঘটনা, অবশ্যই পুলিশ সহ। আপনারা অনুগ্রহ করে কেউই এরমধ্যে এই ঘর থেকে বের হবেন না।’

পরমুহূর্তে শিল্পাকে ধরে রাখা রুশ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘নাতানিয়া, ওকে নিয়ে ভালো একটা চেয়ারে বসাও। কফির ব্যবস্থা করো। যত্ন নাও মেয়েটির।’ 
নাতানিয়া মাথা নেড়ে শিল্পাকে ধরে নিয়ে যায় সবচে কাছের টেবিলের উদ্দেশ্যে। ইভান তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সিকিউরিটি এজেন্টকে ফিসফিস করে কিছু একটা বলেন। এরপর দ্রুতপায়ে তারা দু’জন বেরিয়ে যান। বাইরে আরও তিনজোড়া বুটের শব্দ শোনা যায়। সম্ভবত, মোট চারজনকে নিয়ে ইভান ঘটনাস্থলে গেছেন।

বাংলাদেশের টিমটিও তখন নিজেদের টেবিলে সবাই একসাথে বসেছে আবার। স্টিফানও ওদের সাথেই। 
- কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে?
আয়েশা প্রশ্ন করে। এত হইচইয়ের মধ্যে আয়েশা মাহিরারা শিল্পার কথা শুনতে পায়নি।
- ইন্ডিয়ান মেয়েটা নাকি ফিমেল ওয়াশরুমে একটা লাশ দেখেছে।
তারিকুলের মুখে কথাটা শুনে চমকে ওঠে অন্যরা। হলরুম জুড়ে ফিসফাস শব্দ। কেউ জোড়ে শব্দ করছে না, অথচ কথা বলা বন্ধও করতে পারছে না।
ইভান সকোলভ ফিরে এলেন দশ মিনিট পর। টিম কোরিয়াকে ডাকলেন। কোরিয়ান ছয়জনের সাথে ইভানের আলোচনাটা এতদূর থেকে শোনা যাচ্ছে না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তায়ে হি নামের তরুণটি হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে নতজানু হয়ে বসে পড়ে। বাকি পাঁচজনও পাণ্ডুর হয়ে গেছে।

আয়েশা সেদিকে তাকিয়ে অস্ফুট একটা আর্তনাদ করে ওঠে বলে, ‘ক্লাউড!’ 
বাকিরা আয়েশার দিকে তাকাতেই আয়েশা জলভরা চোখে বলে, ‘ক্লাউডের কিছু হয় নাই তো? ওকে কেউ আসার পর থেকে দেখে নাই।’

মুখে কেউ কিছু না বললেও, মনে মনে অন্যরাও সম্ভবত ঠিক এই আশঙ্কাটিই করছিলো। ইয়ুন দুয়োর দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকা, এমনকি এখনো; এবং শিল্পার ভাষ্যে ফিমেল ওয়াশরুমে একটি লাশ পড়ে থাকা। সবচেয়ে খারাপ কিছু ওরা কেউই ভাবতে চাইছে না। কিন্তু তারপরও একটা প্রশ্নই এখানকার সবাইকে বিক্ষত করে দিচ্ছে। লাশটা ইয়ুন দুয়োরই নয়তো?


(চলবে...)

‘দ্যা গেম’-এর ষষ্ঠ পর্ব- ধারাবাহিক গল্প : দ্যা গেম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড