• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক গল্প : গৃহ কারাগার (১২তম পর্ব)

  ফখরুল হাসান

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:০২
গল্প
ছবি : প্রতীকী

প্রিন্সের কাছে সবকিছু জানার পর থেকে। কেন যেন আমিও উনাকে একটু সময় দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কোন কোনদিন সাতটার আগে গিয়ে হাজির হতাম। উনি হয়তো তখন টিভি দেখতেন বা ড্রয়িং রুম গোছাতেন। বেশিরভাগ কাজই নিজের হাতে করতেন। এমন নিজের কাজ নিজেই করা মানুষ খুব কমই সমাজে লক্ষ করা যায়। 

গল্প করতে করতে উনি অনেক কথাই বলতেন। উনার ছোটো বেলার কথা, স্কুল কলেজ এর কথা। বিয়ের কথা উনার আঠারো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, উনিশ বছর বয়সে বাচ্চা। উনি দুঃখ করে বলেন, উনার অনেক স্বপ্ন ছিল। লেখাপড়া করার ইচ্ছা ছিল। সেগুলা কিছুই হয়নি। উনার হাসব্যান্ড বেশির ভাগ সময় ঢাকার বাহিরে থাকে, শশুর শ্বাশুড়ির জন্য নিজের সাথে নিতে পারে না। কারণ তাঁরা বৃদ্ধ। উনাদের মধ্যে একটা দূরত্ব হয়ে গেছে সেটা বুঝতে পারলাম। 

মেয়েরা সবসময় একজন ভালো শ্রোতা খোঁজে, যাকে সব বলতে পারে। আর আমি বাজী রেখে বলতে পারি, আমি একজন খুব ভালো শ্রোতা। আমরা দু’জনেই একজন অপর জনকে খুব পছন্দ করতাম।

প্রিন্সের পড়া শেষ, সে হয়তো ঘুমিয়ে পরেছে। কিন্তু বের হতে পারছি না, প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিলো রাতে। ঘন কালো মেঘে ভেঙে পড়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছি এমন আকাশেই সৃষ্টিকর্তা খেলা করতে পারে ভালোবেসে। খাবার খেয়ে যাবেন। 

হঠাৎ এমন ঝড়ের রাতে মিষ্টি কণ্ঠস্বর ছুরির মতো বুকে বিঁধলো। মাথার ভেতরে টং করে শব্দ হয়। রক্তে আগুন দাপায়। কণ্ঠস্বর শুনে প্রথমে চমকে উঠলেও পরে তাকিয়ে দেখি পরী। তার মানে কাজের ছোট্ট মেয়েটিও মনে হয় শুয়ে আছে তার রুমে। না হলে পরী আসবে কেন! ঝড় বৃষ্টির রাতে পরীকে দেখে বুকের ভেতরের বন্ধ অর্গল খুলে গেলো। যৌবনের মহাসঙ্গীতের শক্তি চিৎকার করে উঠে যেনো। এই মুহূর্তে রণচণ্ডি মূর্তির মতো জেগে উঠা ইচ্ছা শক্তিকে কী করে প্রতিহত করি! খাবার রুমে ঢুকতেই বিদ্যুৎ চলে গেল!

(চলবে...)

আরো পড়ুন একাদশ পর্ব- ধারাবাহিক গল্প : গৃহ কারাগার

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড