• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ২৩তম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  রিফাত হোসেন

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫১
উপন্যাস
ছবি : প্রতীকী

মাথা নিচু করে আড়চোখে আদিত্যর দিকে তাকিয়ে আছে জ্যোতি। চোখদুটো ভয়ঙ্কর রকমের লাল হয়ে আছে ওর। আদিত্য কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভয়ে ভয়ে বলল, ‘কী হয়েছে জ্যোতি? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?’

জ্যোতি কিছু বলল না। নিঃশব্দে আড়চোখে আদিত্যর দিকে তাকিয়ে রইল। আদিত্য আবারও বলল, ‘বলুন কী হয়েছে?’

জ্যোতি এবার-ও নিশ্চুপ। তবে এবার চোখ দু'টো ভালো করে উপরে তুলল। আদিত্য সামনে এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘চুপ করে আছেন কেন?’

জ্যোতি হঠাৎ কিছু না বলে সামনে থেকে সরিয়ে দিলো আদিত্যকে। আশেপাশে না তাকিয়ে সামকের দিকে হাঁটতে লাগল। ‘থ’ মেরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আবারও দৌড়ে জ্যোতির সামনে গেল আদিত্য। জ্যোতিকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আরে এইরকম করছেন কেন? বলবেন তো কী হয়েছে আপনার?’

রাগী কণ্ঠে জ্যোতি বলল, ‘ইচ্ছে করছে আপনার নাকটা ফাটিয়ে দিতে। আর ভাইয়া- ভাবীকে সামনে পেলে তো খুন করে ফেলতাম।’

আদিত্য চমকে উঠল। নিজে নিজে বলল, ‘ঘটনাটা কী? কিছুই তো বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে উনি এত রেগে গেল কেন?’

জ্যোতি এবার কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল, ‘ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য হোস্টেল থেকে বের হয়েছি। আমার কাছে টাকা ছিল না বেশি। ভেবেছিলাম ভাইয়ার কাছ থেকে টাকা নিয়ে, তারপর ইউনিভার্সিটিতে যাবো। সে-জন্য যে টাকা ছিল, সেটা দিয়েই রিকশা করে ভাইয়ার বাসার কাছে এলাম। কিন্তু ভাইয়ার দরজার কাছে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে তালা দেওয়া। ব্যাগ চেক করে দেখি ফোনটা-ও আনিনি। এবার আমি কী করব বলুন? যা টাকা ছিল সাথে, সেটুকুও রিকশা দিয়ে এসে খরচ হয়ে গেছে। এখন হোস্টেল ফিরব কীভাবে?  ইউনিভার্সিটিতেই বা যাবো কীভাবে? রাগে আমার পুরো শরীর জ্বলে যাচ্ছিল। আপনি বাড়িতে থাকলে, অন্তত আপনার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিতে পারতাম। কিন্তু আপনিও ছিলেন না। অতিরিক্ত রাগের কারণে চোখ দিয়ে জল বের হয়ে যাচ্ছিল আমার। শেষে কোনো উপায় না এতটা পথ হেঁটে হেঁটে হোস্টেলে ফিরছি। হাঁটতে হাঁটতে আমার পা ব্যথা হয়ে গেছে। এদিকে পথ যেন শেষই হচ্ছে না। একেই তো রোদের তীব্র তাপ, তার উপর হাঁটা পথ এতটা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে নাজেহাল করে ফেলেছে আমাকে। এইসব কিছুর জন্য শুধুমাত্র আপনারা দ্বায়ী।’

আদিত্য এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল জ্যোতির কথা। জ্যোতি একনাগাড়ে কথাগুলো বলে ফেলল। এখন বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে ও। পুরো মুখ ঘামে ভিজে গেছে। কোনো মেকআপওয়ালী হলে এতক্ষণে যা-তা অবস্থা হয়ে যাতো৷ তবে জ্যোতিকে অসাধারণ লাগছে ঘাম মাখা মুখটায়। টপটপ করে গাল বেয়ে ঘাম পড়ছে। ঘাম মোছার কোনো তাড়াহুড়ো'ই নেই ওর মাঝে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। অন্য কেউ হলে এতক্ষণে হাতে টিস্যু নিয়ে ঘাম মুছায় ব্যস্ত থাকতো। 

জ্যোতির কথায় আদিত্য নড়েচড়ে দাঁড়াল। জ্যোতি বলল, ‘চুপ করে আছেন কেন? আমার এই নাজেহাল অবস্থা দেখে নিশ্চয় খুব মজা পাচ্ছেন আপনি!’

আদিত্য হো হো করে হেসে উঠল। জ্যোতি বিস্ময় নিয়ে তাকালো। চোখ দু'টো আগের থেকে তীক্ষ্ণ হলো। আকারে-ও কিছুটা বড় হয়ে গেল। হয়তো আদিত্যর হাসার কারণটা বুঝার চেষ্টা করছে ও। যখন নিজে থেকে বুঝতে পারল না, তখন জিজ্ঞেস করে বসল, ‘এভাবে হাসছেন কেন?’

আদিত্যর হাসি কিছু থামালেও মৃদু হাসির আবেশ এখনো মুখে আছে। ও বলল, ‘আপনি তো হাঁটতে খুব ভালোবাসেন। গ্রামে এর থেকেও বেশি পথ আপনি হেঁটেছেন। আমরাও আপনার সাথে হেঁটেছিলাম। কই, তখন তো আপনার কোনো অসুবিধা হয়নি। খুব আনন্দে হেঁটে হেঁটে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। তাহলে এখন এত সমস্যা হচ্ছে কেন?’

জ্যোতি হেসে দিলো আদিত্যর কথা শুনে। তবে কথাটাকে উড়িয়ে দিলো না। প্রতিউত্তরে বলল , ‘আমাদের গ্রামের রাস্তাঘাটের সাথে এই শহরের রাস্তাঘাটের তুলনা করাটা বিরাট বড় বোকামি। গ্রামের ঠাণ্ডা পরিবেশ। চারিদিকে গাছের ছায়া। মানুষজন-ও কম। সেই সাথে অসাধারণ সব প্রকৃতির সৌন্দর্য। একটু পর পর পুকুর। আর পুকুরের পানি এতই ঠাণ্ডা যে, ফ্রিজের রাখা ঠাণ্ডা পানিকেও হার মানিয়ে দিবে। ইচ্ছে করলেই পুকুরের ঠাণ্ডা পানিকে স্পর্শ করা যায়। খালি পায়ে মাটির রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয় আমি এক অন্য জগতে আছি। আশেপাশে কেউ নেই আমাকে দেখার জন্য। কোনো পিছুটান নেই আমার। বেখেয়ালি মনে শুধু হেঁটেই চলেছি। পুরো গন্তব্যহীন মানবের মতো। 

আর এই শহরের রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখেন! চারিদিকে এত মানুষজন, এত রোদ। বিশাল-বিশার বিল্ডিং কে ভেদ করে প্রকৃতির হাওয়া মানুষের শরীরের কাছাকাছি আসার কোনো সুযোগই পায় না। অক্সিজেন ও খুব একটা নেই। দম বন্ধ হওয়া পরিবেশ । চারিদিকে শুধু কোলাহল। হাঁটার জন্যও ভালো জায়গা নেই৷ দুই মিনিট পর-পরই জ্যাম লেগে যায়। তাও আবার রিকশার জ্যাম। সেখানেও আবার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এবার আপনিই বলুন কোন জায়গায় চলাফেরা করে মজা পাওয়া যায়?’

আদিত্য মুগ্ধ হয়ে জ্যোতির কথাগুলো শুনছিল। একটা মেয়ে ঠিক কতটা মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ হলে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে এভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে তা ওর জানা ছিল না আগে। তবে আজকে জানা হয়ে গেছে। জ্যোতির মতো অসাধারণ মেয়েরাই পারে এভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নিজের মতো করে অন্যের সামনে উপস্থাপন করতে। আদিত্য এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল জ্যোতির দিকে। দৃষ্টির তীক্ষ্ণতার সাথে সাথে জ্যোতির প্রতি ভালোলাগার তীক্ষ্ণতা ও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। ‘ইচ্ছে করলেই পুকুরের ঠাণ্ডা পানিকে স্পর্শ করা যায়!" কথাটা ভাবতেই আদিত্যর শরীরে শিরশিরে বাতাস বইতে শুরু করছে। আদিত্য মনে মনে বলল, আচ্ছা, ওর কী ইচ্ছে করছে আমাকে স্পর্শ করতে? পুকুরের পানিকে স্পর্শ করার থেকেও গভীরভাবে। তার থেকেও আলতো করে। দৃষ্টি থাকবে তীক্ষ্ণ। বাধাহীনভাবে স্পর্শ করবে। হয়তো জড়িয়ে ধরবে। অথবা কপালে, গালে কিংবা ঠোঁটে মুগ্ধতার আবেশে চুম্বম একে দিবে। নাহলে হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আলতো করে হাতের উপরে স্পর্শ করবে।’

হঠাৎ কারোর স্পর্শে চকমে উঠল আদিত্য। নিজের অজান্তেই অস্ফুটস্বরে মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল ‘উফ্’ শব্দটা। চোখ মেলে তাকালো আদিত্য। জ্যোতি ওর হাত ধরেছে। আর অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। চোখ বন্ধ করা অবস্থায় নিজের কল্পনার কথাগুলো ভাবতেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল আদিত্য। জ্যোতির দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। জ্যোতি বলল, ‘আপনি কী আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না? কখন থেকে একই কথা জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি, অথচ কোনো উত্তর দিচ্ছেন না আপনি। চোখ বন্ধ করে কীসব বিড়বিড় করে বলছেন।’

আদিত্য নিজেকে কিছুটা সামলে নিলো। জ্যোতি আবার বলল, ‘আমাকে কিছু টাকা দিন। একটা রিকশা নিয়ে হোস্টেলে ফিরে যাই। ভাইয়া বাড়িতে আসলে বলবেন আমাকে ফোন দিতে।’

আদিত্য বল, ‘আপনার ভাই বাড়িতেই আছে।’

জ্যোতি অবাক কণ্ঠে বল, ‘মানে? আমি তো দেখে এলাম দরজাটা বাইরে থেকে তালা দেওয়া।’

আদিত্য আবার হেসে দিলো। তবে জ্যোতির কথা শুনে নয়। নিজের কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের কথা ভেবে। কাল রাতে দরজাটা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে চা খাওয়ার জন্য বাইরে এসেছিল। ওর তো খেয়ালই ছিল না দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলে, তারা সকালে বের হবে কীভাবে?

জ্যোতি আবারও বলল, ‘চুপ করে আছেন কেন?’

- রিকশায় ওঠে পড়ুন তাড়াতাড়ি। আজকে কপালে কষ্ট আছে। দু'জনেই খুব রেগে আছে নিশ্চয়।

জ্যোতি কিছুই বুঝতে পারল না। প্রশ্নও করল না আর। রিকশা ওঠে পড়ল দু'জনেই। রিকশা আবার শুভর বাড়ির দিকে যেতে লাগল। 

সোফায় শুয়ে আছে শুভ। সুমাইয়া শুভর বুকে শুয়ে আছে। দু’জনেরি দৃষ্টি টিভির দিকে। সকাল সকাল দারুণ একটা মুভি দেখায় ব্যস্ত দু'জন। তবে সুমাইয়া মাঝে মাঝে দরজার দিকে তাকাচ্ছে। সুমাইয়া নড়াচড়া করছে বলে শুভ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল, ‘এত নড়াচড়া করছ কেন? চুপ করে মুভিটা দেখ।’

সুমাইয়া রাগ দেখিয়ে বলল, ‘হারামিটা কোথায় গেছে আল্লাহ যানে? আজকে বাড়িতে আসুক একবার। কান ধরিয়ে ওঠবস করাবো। মাথায় একটুও বুদ্ধি নেই ছেলেটার। আমাদের ঘরে আটকে রেখে, সে বাইরে হাওয়া খেতে গেছে।’

শুভ শব্দ করে হেসে উঠল। তারপর বল, ‘ভালো কাজই করেছে। ও যদি আমাদের আটকে রেখে বাইরে না যেতো, তাইলে কী এই মুহূর্তটা উপভোগ করার সুযোগ পেতাম আমরা। আহ্, কী যে ভালো লাগছে, বলে বুঝাতে পারব না। এই সকালবেলা বউকে জড়িয়ে ধরে এত রোমান্টিক একটা মুভি দেখার সুযোগ করে দেওয়ার ওকে আমি ধন্যবাদ দিবো।’

- ঘরে বাজার নেই। ও যদি এখন না আসে, তাহলে আমাদের আজ না খেয়েই থাকতে হবে।

শুভ সুমাইয়ার কোমড়ে হাত দিয়ে ওকে আরো কাছে নিয়ে এলো। সুমাইয়া মুচকি হাসি দিলো শুধু। শুভ বলল, ‘আপাতত ঘরে যেটা আছে। সেটাই দিয়ে কাজ সাড়তে হবে।’

সুমাইয়া শুভর বুক থেকে মাথা তুলে বলল, ‘কী আছে ঘরে?’

শুভ হাসি দিয়ে বলল, ‘তুমি আছ।’

চমকালো সুমাইয়া। মনে মনে বলল,  এই ছেলে দেখছি পাগল হয়ে গেছে। খালি পেটে আছে বলে উল্টো পাল্টা বলছে, নাকি স্ব-জ্ঞানেই বলছে এইসব।

শুভ বলল, ‘কী ভাবছ?’

সুমাইয়া বলল, ‘অন্যসব কিছু বাদ দিয়ে এখন বউকে খাওয়ার ধান্দা করছ। তুমি তো সাংঘাতিক মানুষ।’

শুভ আবার শব্দ করে হাসল। সুমাইয়া-ও হেসে দিলো। একে অপরকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল। হঠাৎ করেই দরজা খুলে কেউ ভিতরে প্রবেশ করল। সুমাইয়া পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখল, আদিত্য আর জ্যোতি দাঁড়িয়ে আছে। দু'জনের মুখই ‘হা’ হয়ে আছে। ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। শুভ সুমাইয়াকে ছেড়ে দিলো। তড়িঘড়ি করে সুমাইয়া ওঠে দাঁড়াল শুভর উপর থেকে। সবাই হাসছে। লজ্জায় সুমাইয়া ভিতরের ঘরে চলে গেল। আদিত্য শুভর দিকে এগিয়ে এসে বলল, ‘আমি ভাবলাম আপনারা রেগেমেগে আছেন। হয়তো মনে মনে আমাকে খুব বকছেন। কিন্তু ভিতরে এসে দেখি আপনারা রোমান্স করায় ব্যস্ত। বাহ্, এভাবে তালাবদ্ধ ঘরে থেকেও আপনাদের  রোমান্স করতে ইচ্ছে হলো।’

শুভ হাসি দিয়ে বলল, ‘একটা সুন্দর মন থাকলে, পৃথিবীর সবচেয়ে  অসুন্দর জিনিসটাকে সুন্দর করে দেখা যায়। আর এটা তো নিজেদের বাড়ি। বেশ আরামেই ছিলাম আমরা। তোরা তাড়াতাড়ি এসে আমাদের এত সুন্দর একটা মুহূর্ত নষ্ট করে দিলি।’

আদিত্য শব্দ করে হাসল। সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘সরি ভাই। আমার মনেই ছিল না ঘরে তালা মেরে আমি বাইরে চলে গেছিলাম। সেই রাতে তালা মেরে বের হয়েছিলাম। কিছুক্ষণ আগে মনে পড়েছে কথাটা।’

শুভ ভ্রু-কুচকে তাকালো। সুমাইয়া ড্রয়িংরুমে এসে বলল, ‘রাতে বের হয়েছিলেন মানে? আপনি কী রাত থেকেই বাড়ির বাইরে ছিলেন? আমরা তো ভেবেছিলাম ফজরের নামাযের সময়ে বের হয়েছিলেন বাড়ি থেকে।’

আদিত্য শুরু থেকে সবটা বলল। এবং এটাও বলল ওর পরিবারের সবাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। জ্যোতি বলল, ‘এটা তো খুব ভালো একটা সংবাদ। ঘরের ছেলে আমার ঘরে ফিরে যাবে।’

এইরকম আরো কিছু কথা হচ্ছিল। সুমাইয়া ভিতর থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে এসে শুভর হাতে দিয়ে বলল, ‘এবার বাজার করতে যাও তাড়াতাড়ি। আর জ্যোতিকে ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছে দিয়ে আসো। আর আদিত্য ভাইয়া, আপনি ঘরে গিয়ে রেস্ট নিন।’

শুভ আর জ্যোতি বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। আদিত্য নিজের ঘরে এসে বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিলো।

বিকেলে আদিত্য হাসপাতালে গেল। সব ফর্মালিটি শেষ হলে মিস্টার ইকবালকে রিলিজ করে দেয় হাসপাতাল থেকে। আদিত্য আর মিস্টার ইকবাল গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো। মিস্টার ইকবাল আদিত্যকে বুঝিয়ে দিলো মিস্টার জাহিদ কে কী, কী বলতে হবে। অনেকটা সময় লাগল বাড়িতে পৌঁছাতে। গাড়ি থেকে নামতে নামতে মিস্টার ইকবাল বললেন, ‘শোন, বাড়িটা যে আমার, সেটা প্রমাণ করা কোনো ব্যপার না। কারণ আমার বাড়ির দলিল, আমার কাছেই আছে। তবে তোর উপর যে অভিযোগ করেছে ও, সেটা সত্যি করা ওর পক্ষে খুব সহজ। কারণ ওর কাছে সব প্রমাণ আছে। এখন ও যদি তোর নামে থানায় মামলা করে, তাহলে তুই ফেঁসে যাবি। কারণ তোর বিরুদ্ধে ওর কাছে শক্ত প্রমাণ আছে। যদিও আমরা জানি তুই নির্দোষ। কিন্তু কোর্ট প্রমাণ চাইবে, যা আমাদের কাছে নেই। সুতরাং ঠাণ্ডা মাথায় ওকে বুঝাতে হবে। বুঝতে না চাইলে ওকে ফাঁদে ফেলতে হবে।’

আদিত্য মনোযোগ দিয়ে কাকার বলা কথাগুলো শুনছিল। কাকা শান্তশিষ্ট এবং বুদ্ধিমান একজন মানুষ। সুতরাং তার কথা এড়িয়ে যাওয়া মানে বোকামি।

গেইটের কাছে যেতেই দারোয়ান লোকটি মিস্টার ইকবাল কে সালাম দিলো। সালামের উত্তর নিয়ে মিস্টার ইকবাল ভিতরে ঢুকল। পিছন থেকে দারোয়ান লোকটি ওদের ডাক দিলো। মিস্টার ইকবাল আর আদিত্য পিছনে ফিরলো। কিন্তু এরপর দারোয়ান লোকটি যা বলল, সেটা শোনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। দু'জনেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে লোকটার দিকে। 

(চলবে...)
আরো পড়ুন ‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ২২তম পর্ব-
ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড