• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৪তম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  রিফাত হোসেন

১০ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৫
গল্প
ছবি : প্রতীকী

হঠাৎ কোত্থেকে যেন একটা বাচ্চা মেয়ে শুভ ভাইয়া বলে চেঁচিয়ে আসছে। মেয়েটা শুভর কাছে এসে দাঁড়াল। খুব হাঁপাচ্ছে ও। শুভ বলল, ‘কিরে কী হয়েছে?’

মেয়েটা তখনো হাঁপাচ্ছে। বড় করে নিশ্বাস নিলো। তারপর বলল, ‘পুকুর ঘাটে কেউ আছে। আমি জানালা একটা আলো দেখেছি পুকুর ঘাটে।’

পাশ থেকে আদিত্য বলল, ‘পুকুরটা কোথায়?’

মেয়েটা হাত দিয়ে দেখালো আদিত্যকে। আদিত্য সেদিকে দৌড় দিলো। পিছনে শুভ, সুমাইয়া, ইরা সহ আরো অনেকেই আসছে। সুমাইয়াদের বাড়ির পাশ দিয়ে একটু সামনে যেতেই আদিত্য দেখলো একটা আলো জ্বলছে। সম্ভবত মোমবাতির আলো। মাঝে মাঝে কাঁপছে আলোটা। কেউ একজন হাত গিয়ে আগলে রাখছে, যেন নিভে না যায়। আদিত্য আরো কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর মোমবাতির আলোয় মায়াবী একটা মুখ দেখতে পেলো৷ যত এগিয়ে যাচ্ছে, মুখটা আরো স্পষ্ট হচ্ছে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঘাটের কাছে দাঁড়াল আদিত্য। ওর সামনে মোমবাতির আলোটা জ্বলছে। তার পাশেই হাটু এক করে বসে আছে মায়াবী মুখের মানুষটা। কিছুক্ষণ পরই শুভ সহ বাকি সবাই চলে এলো। শুভ তড়িঘড়ি করে জ্যোতির সামনে দাঁড়াল। চমকে উঠল জ্যোতি। বসা থেকে ওঠে দাঁড়িয়ে বিস্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সবার দিকে। সবার মোবাইলের আলোতে মুহূর্তের মধ্যেই পুকুর পাড়টা আলোকিত হয়ে গেল। জ্যোতির চোখেমুখে বিরাট কৌতূহল।  এতগুলো মানুষ একসাথে, এখানে কী করছে তা কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না ও। হঠাৎ করে শুভ জ্যোতিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল জ্যোতি। ভাইয়া কাঁদছে কেন, তা বুঝতে পারছে না ও। ভয়টা ক্রমশ ওর মনেও জায়গা করে নিয়েছে। নিজের মনে মনে বলল, ‘ভাইয়া এভাবে কাঁদছে কেন? বিয়ে বাড়িতে কোনো ঝামেলা হয়েছে কী?’

পিছন থেকে সুমাইয়া রাগী কণ্ঠে বলল, ‘ওদিকে আমরা তোকে খুঁজে না পেয়ে টেনশনে মরে যাচ্ছি, আর তুই এদিকে পুকুর ঘাটে বসে আছিস। এগ বেখেয়ালি কেন তুই? কাউকে বলে আসতে পারিসনি।’

জ্যোতি হাসতে হাসতে বলল, ‘আরে এত টেনশন করার কী আছে? গ্রামটা তো আমারই। আর এমন তো নয় আমি গ্রামের পথঘাট চিনি না।’

- তাই বলে এভাবে না বলে এখানে চলে আসবি। তাছাড়া এখানে একা একা কী করছিস তুই?

জ্যোতি আবারও হেসে বলল, ‘ভালো লাগছিল না। তাই ভাবলাম এখানে এসে একটু বসে থাকি। তাই সাথে একটা মোমবাতি নিয়ে চলে এলাম এখানে। তাছাড়া আগে তো প্রায়ই এখানে এসে বসে থাকতাম।’

- তখন তো আমিও সাথে থাকতাম। এখন তুই কাউকে না বলে এখানে এসেছিস। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করে যখন তোকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তোর ভাই তো কেঁদেই ফেলেছে। কী মজা পাশ সবাইকে চিন্তায় ফেলে দিয়ে?

শুভ জ্যোতিকে ছেড়ে দিলো। জ্যোতি শুভর দিকে তাকিয়ে কানে হাত দিয়ে বলল, ‘সরি ভাইয়া। আসলে আমি বুঝতে পারিনি ওদিকে সবাই আমাকে খুঁজছে। আমি ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ বসে থাকি এখানে, তারপর তোদের ওখানে যাবো। আসলে সাথে ফোন আনিনি তো, তাই অনেকটা সময় যে পার হয়ে গিয়েছে তা বুঝতে পারিনি।’

শুভ কিছু বলল না। সুমাইয়া বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। এবার তাড়াতাড়ি চল। লঞ্চ তো আর আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে না।’

সবাই ওখান থেকে চলে এলো। সুমাইয়া নিজের বাবা-মা সহ বাড়ির সবার সাথে কথা বলল কিছুক্ষণ। তারপর সবাই শুভদের বাড়িতে গেল। শুভ আর জ্যোতি বাবা-মা'র সাথে কিছুক্ষণ কথা বলল। বিয়ের ড্রেস চেঞ্জ করে নিলো শুভ আর সুমাইয়া। তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা দিলো। লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত ওদের বন্ধুরা এগিয়ে দিয়ে গেল। এদিকে লঞ্চ এ ছাড়ার সময় হয়ে গেছে, তাই আর দেরি না করে সবাই ওঠে পড়ল লঞ্চে। 

রাত প্রায় ১২ টা বাজে। কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো আদিত্য। মাথাটা একটু ব্যাথা করছে। তাই এখন চা খাওয়াটা খুবই প্রয়োজন। কেবিনের দরজা লক করে দিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে এসে দেখল জ্যোতি কেবিনের বাইরের চেয়ারে বসে আছে। বাতাসের তীব্রতায় জ্যোতির এলোমেলো চুলগুলো খাঁচা ছাড়া পাখিদের মতো করে উড়ে বেড়াচ্ছে। জ্যোতিকে মুগ্ধ হয়ে দেখছে আদিত্য। কিছুক্ষণ এভাবে তাকিয়ে থাকার পর আদিত্য সামনে এগিয়ে গেল। জ্যোতির পাশের চেয়ারে বসে বলল, ‘না ঘুমিয়ে এখানে কী করছেন?’

আকস্মিক ভাবে চমকে উঠল জ্যোতি। পাশে তাকিয়ে দেখে আদিত্য বসে আছে। মলিন হাসি দিয়ে বলল, ‘ওহ্, আপনি।’

মুচকি হাসি দিলো আদিত্য। তারপর বলল, ‘অন্য কাউকে আশা করেছিলেন?’

জ্যোতি উত্তর দিলো না। আদিত্য আবার বলল, ‘কী হলো বলুন?’

- আমি কাউকেই আশা করছিলাম না। ইনফ্যাক্ট একা থাকতেই ভালো লাগছিল আমার। আপনি এসেছেন, এখন কেমন যেন লাগছে। বুকটা কেমন ধুকপুক করছে। আমার এত সুন্দর মুহূর্তটা আপনি নষ্ট করে দিলেন।

-  নীরবতা আর একাকীত্ব কখনোই কারোর সুন্দর মুহূর্ত হয় না।

- কিছু মানুষের কাছে এই দু'টোর গুরুত্ব'ই সবচেয়ে বেশি। অনেকে তো এই দু'টোকে সাথে নিয়েই সারাজীবন বেঁচে থাকে।

হেসে উঠলো আদিত্য। জ্যোতি বিড়বিড় করে বলল, ‘গাধা একটা। এইরকম ঠাণ্ডা একটা পরিবেশে কোথায় চা খাওয়ার অফার করবে, তা না করে বলছে, না ঘুমিয়ে এখানে কী করছেন? আরে ভাই, আমি তো তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমি তো জানি তোর রাতে চা খাওয়ার অভ্যেস আছে। ইনফ্যাক্ট  ঘুমই হয় না রাতে চা না খেলে।’

জ্যোতি বিড়বিড় করে কথা বলছে আর আদিত্য হাসছে। জ্যোতি বলল, ‘আবার হাসছেন কেন?’

- একা একা বিড়বিড় না করে চলুন  চা খেয়ে আসি।

জ্যোতি বসা থেকে ওঠে দাঁড়াল। আদিত্যকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘ওকে।’

আদিত্যও ওঠে দাঁড়াল। পাশের সিটে বসা একজন কে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘চা বা কফির দোকানগুলো কোনদিকে একটু বলবেন প্লিজ?’

লোকটা বলল, ‘তিন তলার দক্ষিণ দিকে সব কিছুই পেয়ে যাবেন।’
লোকটাকে ধন্যবাদ দিয়ে আদিত্য তিন'তলায় যেতে লাগল। পিছনে জ্যোতিও। তিন'তলায় গিয়ে দেখল এখানে অনেক দোকানই আছে। একপাশে কিছু ভিআইপি কেবিন। আর অন্যপাশের পুরোটাই দোকানপাট। বেশ বড় একটা রেস্টুরেন্ট ও আছে। আদিত্য আর জ্যোতি রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে  একপাশের একটা টেবিলে বসল। এখানে সিলিংফ্যানের বাতাসের কোনো প্রয়োজন নেই। বাইরে থেকে যে পরিমাণে বাতাস আসছে, তা বেশিক্ষণ শরীরে লাগলে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। জ্যোতি বলল কফি ছাড়া আর কিছু খাবে না। তাই আদিত্য দু'জনের জন্য দুই কাপ কফি অর্ডার করল। হঠাৎ করে জ্যোতি বলল, ‘আপনি একটু বসুন, আমি আসছি।’

আদিত্য অবাক কণ্ঠে বলল, ‘আপনি আবার কোথায় যাবেন?’ 

- আরে একটু বসুন। আমি দুই মিনিটের মধ্যেই চলে আসবো।

- আচ্ছা।

জ্যোতি চলে গেল। একটা ছেলে এসে দু’কাপ কফি দিয়ে গেল। আদিত্য অপেক্ষা করতে লাগল জ্যোতির জন্য। কিছুক্ষণ পরেই জ্যোতি এসে আদিত্যর হাত ধরে বল, ‘তাড়াতাড়ি চলুন। ছাদে যাবো।’

- এত রাতে ছাদে যাবো মানে? তাছাড়া এই লঞ্চটা আগেরটার তুলনায় অনেক উন্নতমানের। নিয়মকানুন ও নিশ্চয়ই কিছুটা কঠিন। কোনোভাবেই এত রাতে ছাদে যেতে দিবেন না পাহারাদার’রা।

জ্যোতি হাসি দিয়ে বলল, ‘আপনাকে এত কিছু ভাবতে হবে আমি। সেই ছোটবেলা থেকে যাতায়াত করছি লঞ্চে। কীভাবে কী করতে হবে, তা আমি ভালো করেই জানি। এইটুকু অভিজ্ঞতা আমার আছে।’

- শুভ ভাই জানতে পারলে বকবে। তাছাড়া আমি শুনেছি পাহারাদাররা খুবই কড়া। যত, যাই করুন না কেন? তারা ছাদে যেতে দিবে না এত রাতে।

- আমি অনুমতি নিয়েই এসেছি। প্রথমে না করেছিল অবশ্য।

- তাহলে ম্যানেজ করলেন কীভাবে?

- বললাম আমি এবং আমার স্বামী কিছুক্ষণের জন্য ছাদে দাঁড়িয়ে সময়  কাটাবো। এইরকম আরো কিছু কথা বলাতে রাজি হয়ে গেল তিনি। তাছাড়া লোকটাও আমাদের বয়সী। তাই আমাদের বিষয়টা বুঝতে পেরেছে।

আদিত্য চোখ বড় বড় করে জ্যোতির দিকে তাকাল। মনে মনে বলল, ‘বিয়ে হলো না, অথচ সে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে আমি নাকি উনার স্বামী। যত্তসব পাগলের দল।’

জ্যোতি আদিত্যর হাত টান দিয়ে বলল, ‘চলুন না প্লিজ।’

- কিন্তু কফি?

- বিল মিটিয়ে কফি নিয়ে চলুন।  ছাদে দাঁড়িয়েই না হয় কফি খাবো।

অতঃপর কফির দাম দিয়ে ছাদের দিকে হাঁটতে লাগল দু'জনে। গেইটের কাছে যেতেই লোকটা হাসি দিয়ে গেইট খুলে দিলো। জ্যোতি বলল, ‘ধন্যবাদ ভাইয়া।’

লোকটা আদিত্যকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘স্যার, আগে জানলে আমার বউটাকে সাথে নিয়ে আসতাম।’

আদিত্য কৌতূহলী কণ্ঠে বলল, ‘আগে জানলে মানে?’

- ম্যাডাম যেভাবে বর্ণনা দিলো, তাতে মনে হচ্ছে ওইসব আগেই জানা উচিত ছিল আমার। খুব বড় একটা ভুল হয়ে গেছে।

আদিত্য জ্যোতির দিকে আড়চোখে তাকাল। জ্যোতি হাসছে। আদিত্য বলল, ‘কী বলেছে আপনার ম্যাডাম?’

- ম্যাডাম বলল, বিশ্বের বিখ্যাত সব ব্যক্তিরা তাদের প্রথম প্রেম লঞ্চের ছাদে দাঁড়িয়েই করেছে। অনেকের নামও বললেন তিনি। তারা নাকী বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রেমিক-প্রেমিকা। তারাও নাকি লঞ্চের ছাদে দাঁড়িয়ে প্রেম করেছে। তাই বললাম খুব বড় ভুল করেছি। সারাদিন, সারারাত এই লঞ্চের ছাদে দাঁড়িয়ে থাকি। অথচ এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানি না। পড়াশোনা ও করিনি তেমন। গ্রামের ছেলে। ছোটবেলায় বাবা লঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকেই লঞ্চ, জাহাজ, এইসব কিছুর সাথেই সম্পর্ক। ইতিহাস জানার চেষ্টাও করিনি কোনোদিন। আগে জানলে আমিও বউয়ের সাথে প্রথম প্রেম শুরু করতাম এই লঞ্চের ছাদে।

শব্দ করে হাসতে লাগল জ্যোতি আর আদিত্য। লোকটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর, সে নিজেও হেসে উঠল। 

কিছুটা সামনে এগিয়ে গেল আদিত্য আর জ্যোতি। আদিত্য জ্যোতির হাতে কফি দিয়ে দিলো। জ্যোতি বলল, ‘আচ্ছা আমাকে যখন সবাই খোঁজাখুঁজি করছিল, আপনি তখন কী করছিলেন?’

কফিতে চুমুক দিয়ে আদিত্য বলল, ‘আমিও সবার সাথেই আপনাকে খুঁজছিলাম।’

জ্যোতি আড়চোখে আদিত্যর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনি খুব ভয় পেয়েছিলেন, তাই না?’

আদিত্য আবার কফিতে চুমুক দিলো। তারপর বলল, ‘হ্যাঁ। খুব ভয় পেয়েছিলাম আমি। ভেবেছিলাম আপনার কোনো বিপদ হয়েছে।’

জ্যোতি মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘আপনার মনে খুব অস্থিরতা কাজ করেছে, তাই না? নিশ্চয় ভেবেছিলেন আপনার জীবন থেকে কাছের একজন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে ? বেশ টেনশনে পড়ে গেছিলেন আপনি। চোখের কোণে নিশ্চয়ই জল এসেছিল। আমি জানি এমনটাই হয়েছিল। এটা প্রেমের আরেকটা ধাপ। আপনি একটু একটু করে আমার প্রেমের পড়ছেন।’

আদিত্য ইতস্তত বোধ করল। 
আমতা-আমতা করে বলল, ‘মোটেও না৷ একটু টেনশন হচ্ছিল ঠিকই, তবে বাকিগুলো আপনার ধারণা। তা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হবে না।’

জ্যোতি কিছু বলল না। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা দু'জনের মধ্যে। নীরবতা ভেঙে আদিত্য বলল, ‘কফিটা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে?’

জ্যোতি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘চুমুক দিবো?’

- দিন।

জ্যোতি কাপটা আদিত্যর হাতে দিলো। আদিত্য দু’টো কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে জ্যোতি আদিত্যর অনেকটা কাছে চলে এলো। আদিত্যর পায়ে নিজের পা রেখে আদিত্যর গলা জড়িয়ে ধরল। তারপর আদিত্যর ঠোঁট স্পর্শ করল। নিজের গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট দু'টো আদিত্যর ঠোঁটের মধ্যে ডুবিয়ে দিলো। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু অনুভব করছে আদিত্য। ওর পা রীতিমতো কাঁপছে। হাত থেকে কফির কাপ দু'টো নিচে পড়ে গেল। দীর্ঘ সময় নিয়ে আদিত্যর ঠোঁটে চুমু খেলো জ্যোতি। 

কিছুক্ষণ পর আদিত্যর ঠোঁটের মাঝে থেকে নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিলো জ্যোতি। আদিত্যর গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছিল তখনও। জ্যোতি মুচকি হাসি দিয়ে আদিত্যর কানে ফিসফিস করে বলল, ‘কেমন লাগল মি. আদিত্য।’

একটা ঘোরের মধ্যে ছিল আদিত্য। জ্যোতির কথায় বাস্তবে ফিরল ও। হাত দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল, ‘এটা কী হলো?’

- আপনি নিজেই তো বললেন চুমুক দিতে।

আদিত্য অবাক হয়ে বলল, ‘আমি তো কাপে চুমুক দিতে বলেছি।’[

আদিত্যর নাকের সাথে নিজের নাক ঘষা দিয়ে জ্যোতি বল, ‘কিন্তু আমি আপনার ঠোঁটে চুমুক দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আপনি বুঝতে পারেননি, এতে আমার কোনো দোষ নেই।’

আদিত্য কিছু বলল না। জ্যোতি আদিত্যর ঠোঁটে আরেকটা চুমু দিয়ে বলল, ‘আমি কেবিনে যাচ্ছি।’
কথাটা বলে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না জ্যোতি। দৌড়ে গেইটের কাছে আসতেই দেখল সেই পাহারাদার ওর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটা চোখেমুখে কৌতূহল নিয়ে বলল, ‘বিখ্যাত ব্যক্তিরা বুঝি এভাবেই লঞ্চের ছাদে দাঁড়িয়ে প্রেম করত?’

জ্যোতি শব্দ করে হাসতে লাগল। তারপর আবার নিচের দিকে যেতে লাগল।

আদিত্য নদীর দিকে তাকিয়ে আছে। যতদূর চোখ যায় শুধু অন্ধকার। মাঝে মাঝে কোথাও ছোট ছোট আলো জ্বলতে দেখছে। আবার মাঝে মাঝে দূরে কোথাও থেকে অন্য লঞ্চের শব্দ ভেসে আসছে। নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল আদিত্যর। আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের কেবিনে চলে গেল।

বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে জ্যোতি। মাঝে মাঝে হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট স্পর্শ করে দিচ্ছে। পাশে শুয়ে আছে ইরা। ইরাকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ল জ্যোতি।
 

সকালে ইরার ডাকে ঘুম ভাঙল জ্যোতির। জ্যোতি চোখ কচলাতে-কচলাতে ওঠে বসল। ইরা বলল, ‘সকাল হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে।"’
- হুম।

জ্যোতি আর ইরা বাইরে এলো। ফ্রেশ হয়ে আবার নিজেদের কেবিনে এলো দু'জনেই। রেডি হয়ে শুভর কেবিনের দিকে গেল জ্যোতি আর ইরা। শুভর কেবিনের কাছে গিয়ে দেখল আদিত্য দাঁড়িয়ে আছে। ইরা বল, ‘এখনো ওঠেনি উনারা দু’জন?’

- না।

আদিত্য জ্যোতির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ঠোঁট মুছল। জ্যোতি হাসতে হাসতে আদিত্যর কাছে এসে বলল, ‘আমি ঠোঁটে লিপস্টিক দেই না। তাই আপনার ঠোঁটে লিপস্টিক লেগে থাকার কোনো কারণই নেই। অযথাই ঠোঁট মুছবেন না। তাছাড়া আমার ঠোঁটের আবেশ লেগে থাকলেও তা দেখতে পাবে না কেউ।’

চমকে উঠল ইরা। হা করে একবার আদিত্যর দিকে, আবার জ্যোতির দিকে তাকাচ্ছে। কিছুক্ষণ এভাবে তাকিয়ে থাকার পর জ্যোতির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, ‘এইসব কী বলছিস তুই?’

- যা শুনছিস, তাই বলছি।

ইরা আদিত্যর দিকে তাকাল। আদিত্য অসহায়ের মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কারোর মুখে কোনো কথা নেই। শুভ কেবিনের দরজা খুলল। জ্যোতি বলল, ‘অবশেষে তোদের বাসর শেষ হলো।’

- বাসর আবার কোথায় হলো?

জ্যোতি ধমকের স্বরে বলল, ‘তাহলে সারারাত কী ঘরে লুডু খেলেছিস, যে সকালে ঘুমই ভাঙছে না তোদের।’

আদিত্য ইতস্ততভাবে উত্তর দিলো, ‘তোরা অপেক্ষা কর। আমরা ফ্রেশ হয়ে আসছি।’

ফ্রেশ হয়ে সবাই রেডি হয়ে নিলো। হালকা খাওয়া দাওয়া করে বাড়ির দিকে যেতে শুরু করল সবাই।

(চলবে...)
আরো পড়ুন ‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৩তম পর্ব -
ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড