• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক গল্প : বসন্তের শেষে (প্রথম পর্ব)

  রিয়ান ভাস্কো

১৮ মার্চ ২০২০, ১১:২৬
গল্প
সময় মনে হচ্ছে আলোর গতিতে দৌড়াচ্ছে (ছবি : সম্পাদিত)

- আজকে রাত বারটা থেকে সাড়ে বারটার মধ্যে কল করবি।
রনি ভাইয়ের কথা শুনে হোসাইনের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেলো। বললেই কি একটা মেয়েকে এতো রাতে কল করা সম্ভব।
- ভাই আপনি সিরিয়াসলি বলছেন তো। আমি জীবনেও কখনো এ ধরণের কাজ করিনি।
- প্রেম করবি তুই, এখন ভয় পাইলে হবে?
- ভাই একটু শিখায় দিবেন কি বলবো কল দিয়ে।
- পরিচয় দিবি, তারপর দুনিয়ার যত হাবিজাবি কথা আছে বলা শুরু করবি। চেষ্টা করবি হাবিজাবি কথাগুলোর ভেতর থেকে মেয়ের পছন্দ অপছন্দ গুলো বের করতে।
- ঠিক আছে ভাই।
- এখন দোকানে যা, পঞ্চাশ টাকা রিচার্জ করে আয়। রাখলাম।
- আচ্ছা ভাই।
হোসাইন দোকানে গিয়ে রিচার্জ করে বাসায় চলে আসলো। এখন থেকেই খুব নার্ভাস লাগছে তার। সে আগে কখনো ফোনে মেয়েদের সাথে কথা বলেনি। রনি ভাইকে কিছু বলতে পারছে না আবার ফোন করার ব্যাপারটা বাদ ও দিতে পারছে না কারণ সে গত এক মাস ধরে ভাইয়ের মাথা খাচ্ছে ভাই একটা মেয়ে খুঁজে দেন প্রেম করবো এই বলে। সময় মনে হচ্ছে আলোর গতিতে দৌড়াচ্ছে। একটু আগেই দেখলো চারটা বাজে আর এখন দেখে সাড়ে পাঁচটা। মোবাইল বেজে উঠলো আর হোসাইন বেশ চমকে গেলো।
- কোথায় তুই?
- আমি বাসায়।
- তাহলে বের হ। আমি দাঁড়িয়ে আছি।
- আজকে আর কোথাও যাবো না। তুই বরং ছাদে চলে আয় আজকে ছাদে বসি, আড্ডা দেই।
- সিগেরেট আছে তোর কাছে।
- দু‘টা গোল্ডলিফ।
- আচ্ছা আমার কাছে আছে দুটা।
- চলে আয়।
তনীমের কলটা কেমন যেন ভরসা দিলো। আচ্ছা তনীমকে কি বলবে ঘটনা। না থাক পরে বলাই ভালো হবে। সে নিজেও মেয়েদের সাথে কথা বলার ব্যাপারে শূন্য অভিজ্ঞতার মানুষ। বিকেল থেকে রাতের খাবার খাওয়া পর্যন্ত হোসাইন নিজেকে আড্ডা গান এসবে খুব ব্যাস্ত করে রাখলো। যেই মাত্র নিজের রুমে এসে ঢুকল বুকটা কেমন যেন ধুক করে উঠলো, কটা বাজে? সাড়ে এগারোটা। আর মাত্র আধ ঘণ্টা। কোন কথাই গুছিয়ে রাখা হয়নি। এখন কি হবে। লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে গত চার বছরে পড়া হুমায়ূন আহমেদের সব কটা উপন্যাসের যতটুকু মনে আছে সেখান থেকে খোঁজা শুরু করে যদি কোন বুদ্ধি পাওয়া যায়।
রাত বারোটা, দুরু দুরু কাঁপা হাতে ডায়াল করলো নওশীনের নাম্বারে। দুবার রিং হতেই ওপাশ থেকে হ্যালো বললো নওশীন। সাথে সাথে লাইন কেটে দিলো হোসাইন। বুকের ওপর হাতটা রেখে দেখে বিরতিহীন ধুক ধুক। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে আবার কল দিলো সে।
- হ্যালো
- হ্যালো, নওশীন বলছেন।
- হ্যাঁ, আপনি কে?
- আপনি আমাকে চিনবেন?
- মনে তো হচ্ছে।
- তাহলে বলেন দেখি কে হতে পারে।
- হোসাইন ভাই।
- হ্যাঁ, আমি হোসাইন।
- প্রথমবার লাইন কেটে দিলেন কেন?
- নার্ভাস লাগছিলো খুব।
- তো এখন কিভাবে কথা বলছেন?
- অনেক ভয়ে ভয়ে।
- ঠিক আছে ভয় পাওয়া লাগবে না। আমি কি জীন ভূত নাকি। রনি ভাইয়া আমাকে বলসিলো আপনি কল করবেন।
তাদের কথা চলতে শুরু করলো। সে রাতে দু’জন এক ঘণ্টা কথা বলেছে।

গল্প লিখার খাতাটা ছুড়ে ফেলে দিতে গিয়েও থেমে গেল ঋভূ। হোসাইন আর নওশীনের গল্পটা খুব ভালো জমছে বলে মনে হচ্ছে না। তার এই এক সমস্যা, গল্প লিখার সময় প্রথম দিকে গল্পটা খুব ভালো লাগে। কিন্তু একটা সময় পর থেকে সেটা আর ভালো লাগে না। ভালো লাগাটা যেন হতাশায় ভুগতে শুরু করে। এই হতাশা নিজের শিরায় শিরায় অনুভব করে ঋভূ। গত কিছুদিন ধরে ঋভূর মাথায় হোসাইন আর নওশীনের গল্পটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। খাতা কলম হাতে লিখতে বসার পর কিছুদূর গল্প খুব সুন্দর আগালেও এখন সেটা বিষাদের মত লাগছে। 

একটা সিগেরেট ধরিয়ে জানালার ওপর চোখ রেখে চিন্তার জগতে ঢুকে গেল সে। আজকাল আগের মত আর গল্প সাজাতে পারছে না। সারাদিন মস্তিষ্কের ভেতরে একজন মানুষের কথা ঘুরঘুর করে। কি এক বাজে স্বভাবে দাড়িয়েছে ব্যাপারটা। সিগেরেটে একটা লম্বা টান দিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলো। সামাজিক মাধ্যমে একজনকে দেখে যাচ্ছে আজকে প্রায় এক বছর। ঋভূ জানে নেফারতিতি কখনো তার হবার নয়। গতানুগতিক ভাবে যা হয় বাস্তবতায়। তবুও সে রোজ একবার হলেও আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করে নেফারতিতি কে। মেয়েটা অস্বাভাবিক এক আকর্ষণ ক্ষমতার অধিকারী। হিমালয়ের চূড়া থেকে দৃশ্যমান মেঘের মত ঢেউ খেলানো চুল, মহাসাগরের গভীরতার মত গভীর চোখ। নাকের ওপর শিশির বিন্দুর মত ঘাম, তার নিচে ঠোঁট গুলো যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন বিধাতা। 

আরও পড়ুন : ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৮তম পর্ব)

এজন্যই হয়তো তার চারপাশটা সবসময় খুব মুখরিত থাকে। ভালোবাসা কখনো প্রতিযোগিতা করে হয় না কিন্তু বর্তমান সময়ের হিসেবে সেটা প্রতিযোগিতামূলক। আর নেফারতিতির ভালোবাসা পাবার প্রতিযোগিতায় যদি একশো জন থাকে তাহলে সে একশো এক নাম্বার অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। নেফারতিতি হয়তো জানে একশো এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা স্বর্গীয় ভালোবাসায় তাকে সাজাবে। কিন্তু সে তো ধরণীর ভালোবাসায় সাজতে চায়। নিজের দার্শনিক মার্কা কথাগুলো চিন্তা করে নিজের হাসি পাচ্ছে ঋভূর। ঋভূ সিগেরেট শেষ করে আবার টেবিলের ওপর ঝুকে গেলো। যেভাবে হোক গল্পটা শেষ করতে হবে। এভাবে যদি গল্প গুলো থেমে যেতে থাকে তাহলে তার নিঃশ্বাস থেমে যাবে অচিরেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড