• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : মেঘ বর্ষণ (৩০তম পর্ব)

  রিফাত হোসেন

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৭
গল্প
ছবি : প্রতীকী

হঠাৎ রাফার হাতের ফোনটা বেজে উঠল। ফাহাদ আড়চোখে রাফার ফোন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই স্তব্ধ হয়ে গেল। বড় বড় করে ঢোক গিলে ইতির দিকে তাকালো। ইতি কৌতূহলী হয়ে তাকাচ্ছে ফাহাদ আর রাফার দিকে। 

রাফা একবার আড়চোখে ফাহাদ আর ইতির দিকে তাকালো। এরপর ফোনটা রিসিভ করে আবার তোয়ালে দিয়ে নিজের চুল মুছতে মুছতে ফোনের ওপাশের মানুষটাকে বলল, ‘হ্যাঁ বলুন কী বলবেন।’

ওপাশের মানুষটার কথা শুনতে পেলো না ফাহাদ। তবে রাফার রিপ্লাই শুনে অনুমান করতে পারছে ওপাশের মানুষটা কী বলছে। রাফা বলছে, ‘ওখানকার ঘটনা আমাকে আর বলতে হবে না। আপনি চুপ করুন। আমি জানি আপনি কী বলবেন, বা বলতে পারেন।’

রাফা দু'মিনিট চুপ করে থেকে আবারও রেগেমেগে বলল, ‘আমি কী আপনার জ্ঞান শোনার জন্য বসে আছি? যত্তসব ফাউল লোক কোথাকার। শুনুন, আমার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব ছিল, আমি ততটুকু করেছি। বাট আপনি নিজের ব্যর্থতায় সব হারিয়েছেন। আপনি আমাকে হেল্প করেছিলেন বলেই আমি আপনাকে হেল্প করেছিলাম। আমাদের মাঝের কেইশ ডিশমিশ। সুতরাং আমরা এখন আর কেউ কাউকে চিনি না। আর খবরদার, রাফাকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। রাফার জ্ঞান-বুদ্ধির অভাব পরেনি।’

এই কথাগুলো একনাগাড়ে বলে রাফা ফোনটা কেটে দিয়ে শ্বাস নিলো বড় করে। ফাহাদ বলল, ‘রোদ তোকে ফোন করেছিল কেন? তুই কেন এখনো ওর সাথে যোগাযোগ রাখছিস? ওর জন্যই তোর আজ এই অবস্থা। কেন বুঝতে পারছিস না ও তোকে ব্যবহার করেছে?’

রাফা হেসে দিয়ে বলল, ‘রাফা কারোর ইউজার হয় না ভাইয়া। রাফার ইউজার হয় অন্যরা। রোদকে ব্যবহার করে আমি সায়েমকে বিয়ে করেছিলাম।’

- রোদ-ও তো তোকে ব্যবহার করে ইতিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, তাই না?

- চেয়েছিলেন, বাট পারেনি। আমি জানতাম সায়েম আমার উপরে নজর রাখে। আমার ফোন ঘাটাঘাটি করে। গতকাল সকালে ইতি আপু যখন রোদের নম্বর সায়েমকে দিয়েছিল, আমি ভেবেছিলাম সায়েম তখনই সব ধরে ফেলেছে। কিন্তু ওর তো আবার ভুলোমন। তাই তখন মনে করতে পারেনি। তবে অনুমান করতে পেরেছিল। আর সেজন্যই তো আমাকে এই বাড়িতে রেখে গেছে। নাহলে এর আগেও যখন আমার জ্বর হয়েছিল, তখন আমাকে সারা আপুর মায়ের কাছে রেখে যেতে পেরেছে। অথচ কাল হঠাৎ করে সরাসরি এই বাড়িতে কেন নিয়ে আসবে? আমি জানতাম রোদের প্ল্যান সাকসেসফুল হবে না।

- তুই এইসব জেনেও রোদকে সাবধান করিস নি কেন?

- কারণ আমি চাচ্ছিলাম না রোদের প্ল্যান সাকসেসফুল হোক।

ইতি পাশ থেকে অবাক হওয়ার মতো করে বলল, ‘তাহলে ভাইয়াকে সাহায্য কেন করোনি?’

- ওকে সাহায্য কেন করব আমি?

ফাহাদ ধমক দিয়ে বলল, ‘কি আবোলতাবোল বলছিস? একবার বলছিস রোদের প্ল্যান সাকসেসফুল হোক, তা চাস না তুই। আবার বলছিস রোদকে ধরতে সায়েমকেও হেল্প করতে চাসনি? তোর কথার আগামাথা আমি বুঝতে পারছি না।’

রাফা নিঃশব্দে তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো। ফাহাদ ইতির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি ড্রয়িংরুমে যাও। এতটা সময় আমাদের একসাথে উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে তারা উল্টো পাল্টা ভাবতে পারে। রাফাকে আমি দেখছি।’

ইতি সম্মতি জানিয়ে চলে গেল। রাফা আবারও মাথা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ফাহাদ রাফার হাত টান দিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও বসে পড়ল। রাফা আঘাত পাওয়ায় মতো মুখটা করে বল, ‘উফ্, ভাইয়া আস্তে। হাতে লাগছে তো।’

রাফার হাত ছেড়ে দিয়ে ফাহাদ নিজের কপালে চলে আসা চুলগুলো সরিয়ে দিলো। ঠোঁটের উপরে থাকা ঘামটুকু মুছে বলল - " এবার বলতো কেন এইরকম রহস্য সৃষ্টি করছিস? কী উদ্দেশ্য তোর?"

- আমার আবার কী উদ্দেশ্য থাকবে ভাইয়া? তুমি তো জানো আমি খুবই শান্তশিষ্ট আর ভদ্র একটা মেয়ে। তোমার বেপরোয়া বোন, মায়ের বেয়াদব মেয়ে, আর..।

- আর কি?

- সায়েমের ঘৃণ্য স্ত্রী।

- দেখ রাফা, ফাজলামি বাদ দিয়ে সরাসরি বল আমাকে। কী চাস তুই?

- দেখ ভাইয়া, আমি সরাসরিই বলছি। রোদ আমাকে সাহায্য করেছে। তার বিপরীতে আমার থেকে ও সাহায্য প্রাপ্য। ও আমাকে বলেছে সায়েমের উপর নজর রাখতে। আমি রেখেছি। ওকেও জানিয়েছি সায়েম কখন কখন বাড়ি থেকে বের হয়। বাট সায়েম বাড়িতে থাকা অবস্থায় কী কী কাজ করে সেটা আমার জানানোর কথা ছিল না। আর সায়েম যে আমার ফোন চেক করে, সেটাও জানানোর কথা ছিল না৷ ইতি আপু যে সায়েমকে রোদের নম্বর দিয়েছে সেটাও জানায়নি আমি। ও শুধু বলেছিল সায়েমের উপর নজর রাখতে। আর ও কখন কোথায় যায়, সেসব আপডেট ওকে জানাতে। ও অফিসে গেলেও আমি রোদকে বলেছি। এখন ও অফিস থেকে কোথায় যায়, সেটা জানানো তো আমার দায়িত্ব না। এইসব রোদ নিজেই দেখত।

ফাহাদ আলতো করে রাফার হাত ধরল। রাফা লক্ষ্য করল ফাহাদের চোখ ছলছল করছে। ফাহাদ বলল, ‘তার মানে আমরা তোকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম, তুই ততটাও খারাপ না।’

- কে বলেছে আমি খারাপ না? এটা তোমার ভুল ধারণা। আমি তো খুবই খারাপ একটা মেয়ে। আর সেজন্যই তো তুমি আমাকে বোন বলে পরিচয় দিতে লজ্জা পাও।

রাফার কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো। ফাহাদ রাফার মাথাটা নিজের কোলে বসিয়ে দিয়ে, মাথায় হাত বুলাতে লাগল। এরপর বলল - "মনে আছে রাফা, তোকে ঠিক এভাবেই ঘুম পারাতাম আমি? কিছুদিন আগেও তো এভাবেই ঘুম পাড়িয়েছি।"

রাফা মৃদু হাসি দিয়ে বলল, ‘এগুলো বলে তুমি কী প্রমাণ করতে চাচ্ছ? কোনোভাবে তুমি আমার মনটা নরম করার চেষ্টা করছ না তো? যাতে আমি আর কোনো অঘটন না ঘটাই।’

ফাহাদ অসহায়ের মতো করে বলল, ‘এগুলো তোর ভুল ধারণা রাফা।তোর সাথে রাগারাগি করার পর থেকে আমারও ভালো লাগছিল না। ইতি’রা আসাতে যাও একটু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, সেটাও হলো না।’

রাফা মৃদু হাসি দিয়ে বলল, ‘তুমি কী খুব ভয় পাচ্ছ ভাইয়া?’

-  হুম পাচ্ছি। তোর জন্যই খুব ভয় পাচ্ছি আমি।

- আমার জন্য ভয় পাচ্ছ তুমি? কিন্তু কেন? আমাকে তো তুমি ত্যাজ্য বোন করে দিয়েছ।

- আমাকে তুই আজ-ও বুঝতে পারলি না রাফা। তবে ভবিষ্যত কোনো একদিন বুঝতে পারবি। যেদিন তোর খুব কাছের কেউ তোকে আঘাত দিবে, সেদিন তুই আমাকে অনুভব করতে পারবি। সেইদিন তুই ভাবতে বাধ্য হবি, আজকের এই দিনে আমার মনের অবস্থা কেমন ছিল? আমার মনে কী চলছে, সেটা ভবিষ্যতে কোনো একদিন বুঝতে পারবি।

- সবাই সেই সুযোগ পায় না ভাইয়া। সবার জীবনের ভবিষ্যতটা দীর্ঘ হয় না।

ফাহাদ রাফার মাথা থেকে হাত উঠিয়ে নিলো। ভয়ার্ত গলায় বলল, ‘তুই কী নিজের ক্ষতি করার প্ল্যান করছিস রাফা?’

রাফা হেসে দিয়ে বলল, ‘কি যে বলো না ভাইয়া? সবকিছু কী আর এতই সোজা। তোমাকে একটা কথা বলি, আমি হারতে একদম পছন্দ করি না। কারোর কাছে হেরে গেলে আর খুব কষ্ট হয়। সায়েমকেও নিজের করে পাওয়াটা আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। চ্যালেঞ্জ এ জিততে পারলেও আমি টিকতে পারিনি। সেজন্য আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। ঠিক সেই সময় তুমি এসে আমাকে অতগুলো কথা বললে। আমাকে মারলে। তুমি কী বুঝতে পারছ ভাইয়া, পর পর এতগুলো আঘাত আমি কীভাবে সহ্য করব? কাউকে ভালোবাসা তো অন্যায় নয়। সোজা পথে সায়েমকে পাবো না বলেই তো বাঁকা পথ বেছে নিয়েছি আমি। নাহলে শুধু শুধু কেন এতকিছু করব?’

- কিন্তু রাফা, কারোর ক্ষতি করে কাউকে পাওয়াটা কী ঠিক? সায়েমকে পাওয়ার জন্য তো এতকিছু করলি, কই সায়েম তো তোকে মেনে নিলো না। এমনিতেই তুই সায়েমের এতবড় ক্ষতি করেছিস, তার পর আবার ইতির সাথে এইরকম কিছু হলো। ইতির ক্ষতি হওয়ার পিছনে তোর সরাসরি হাত না থাকলেও বেশ কিছুটা দোষ তোর ছিল। সেটা কখনোই অস্বীকার করতে পারবি না। এবার তুইও বল, আমরা কী কখনো ওদের সাথে স্বাভাবিক হয়ে কথা বলতে পারব? সবসময় কী আমাদের মাঝে অপরাধবোধ কাজ করবে না? তুই নিজের ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য এতগুলো মানুষের জীবন এলোমেলো করে দিলি। এতকিছুর পরও ওরা ইতির আর আমার বিয়ের ব্যপারে কথা বলতে বাড়িতে এসেছে।

- তুমি শুধু নিজেরটাই ভাবছ ভাইয়া।

- তুই আমাকে ভুল বুঝছিস বোন। আমি শুধু নিজেরটা ভাবলে তোকে এতদিন সায়েমের ওখানে থাকতে দিতাম না। তোকে রাখার জন্য সায়েমের পা ধরে অনুরোধ করতাম না আমি। আমি ভেবেছিলাম তুই নিজের অন্যায়টা উপলব্ধি করতে পেরে খুব শীঘ্রই বাড়িতে ফিরে আসবি। আমি যে খুব অসহায় হয়ে পড়েছি বোন। কোনদিকে যাবো আমি? সায়েমকে জোর করার অধিকার আমার নেই। যদিও তোদের আইনি ভাবে বিয়ে হয়েছে৷ আমি চাইলেই কিছু একটা করতে পারি।

রাফা উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘প্লিজ ভাইয়া, তুমি যা করার পর। আমি শুধু সায়েমকে চাই। আমি কথা দিচ্ছি, সায়েমকে পেলে আর কোনো খারাপ কাজ করব না৷ কারোর কোনো ক্ষতি করব না। সায়েমকে ভালোবাসার দিন থেকে শুরু করে, এখন পর্যন্ত যা করেছি আমি, তা শুধুমাত্র সায়েমকে পাওয়ার জন্য। কেন জানি ইতি আপু আর সারা আপুর প্রতি আমার একটা ক্ষোভ কাজ করে। তবুও ইতি আপুর সাথে তোমার জীবনটা জড়িয়ে আছে বলে আমি মন থেকে চাচ্ছিলাম না ইতি আপুর কোনো ক্ষতি হোক। কিন্তু সায়েমকে না পেলে আমি সবরকম সম্পর্ক ভুলে যাবো।’

- তুই আমার বোন বলে এখনো বেঁচে আছিস। অন্যকেউ হলে সায়েম এতক্ষণে তোকে কেটে ফেলতো। ওকে ছোট বেলা থেকেই আমি চিনি। তাই আমি জানি ও মানুষ হিসেবে কেমন। শুধুমাত্র আমার জন্য ও তোকে, রোদকে আর কাশেমকে ছেড়ে দিয়েছে। কারণ সবদিক দিয়েই শেষে তোর নামটা ওঠে আসবে।

- তুমি তো আমাকেও ভালো করেই চেনো ভাইয়া। নিজের জিনিস ধরে রাখার জন্য আমি সব করতে পারি। আমি আসলে মন থেকে কারোরই ক্ষতি চাই না। বাট আমার পথে যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাকে বাধ্য হয়েই সরিয়ে দিতে হবে আমায়।

- সায়েম নিশ্চয়ই তোকে বারবার ছেড়ে দেবে না। আর আমিও এমন কিছু করব না, যার প্রভাবে অনেকগুলো সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

- আমিও সায়েমকে ছেড়ে দিবো না।

ফাহাদ ধমক দিয়ে বলল, ‘সবসময় সাইকোদের মতো কথা বলিস না রাফা। আমি যতবারই চাচ্ছি তোকে বাস্তবতা বুঝাতে, তুই ততবারই অবাস্তবের দিকে চলে যাচ্ছিস। কিছুক্ষণ আগে তুই ইতিকে সরাসরি থ্রেট করলি। এবার রোদ, ইতির বা সায়েমের কোনো ক্ষতি করলেও দোষটা তোর উপর এসে পড়বে। দেখ, আমিও চাই তুই একটা ধামাকা দেখা। তবে সেটা কারোর ক্ষতি করে না। সব ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে নিয়ে। তুই সায়েমকে ডিভোর্স দে। সায়েম সারাকে নিয়ে সুখে থাকুক। তুই আবারও পড়াশোনা শুরু কর। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাব। জীবনে এমন কিছু কর, যা দেখে সায়েম আফসোস করুক। শুধু আমি না, সায়েমও এটাই চায় যে, তুই ওকে ডিভোর্স দিয়ে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাব। নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যা।’

রাফা শোয়া থেকে ওঠে বসল। ফাহাদের গাল টেনে দিয়ে বলল, ‘আমাকে বাস্তবতা শেখাতে গিয়ে তুমি নিজেই অবাস্তব কথা বলছ মাই ডেয়ার ব্রাদার। জীবনটা ফিল্মিভাবে ভাবলে তো চলবে না। সায়েম আমার স্বামী। এত সহজে আমি নিজের জিনিস হাতছাড়া করব কেন? আমাকে এতটা ভালো ভেবে বোকামি করো না৷ তুমি এখন যাও তো ভাইয়া। আর এই ছবিগুলো আমি কাউকে দেখাবো না। তোমাদের শুধুমাত্র ভয় দেখিয়েছি একটু।’

ফাহাদ ওঠে দাঁড়াল। হেঁটে হেঁটে দরজার কাছে গিয়ে আবারও পিছনে তাকিয়ে বলল, ‘তোর জন্য আবার কারোর ক্ষতি হলে আমি সারাজীবনের জন্য ভুলে যাবো তুই আমার বোন।’

রাফার উচ্চস্বরে হেসে উঠল ফাহাদের কথা শুনে। ফাহাদ বিড়বিড় করে বলল, ‘স্টুপিড কোথাকার!’

ফাহাদকে আসতে দেখে সবাই নড়েচড়ে বসল। ইতি চিন্তিত চোখে ফাহাদের দিকে তাকালো। ফাহাদ মৃদু হাসি দিয়ে ইতিকে আশ্বস্ত করল। ইতি স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে ফাহাদের মায়ের পাশে বসল। মিসেস সাহানা ইতির মাথায় হাত দিয়ে বলল, ‘সত্যি বলছি, আমি ভাবিনি আমার মেয়েটা এতকিছু করার পর-ও আপনারা আমাদের সাথে সম্পর্কটা আরো গাঢ় করার কথা চিন্তা করেছেন।’

ইতি মিসেস সাহানার দিকে তাকিয়ে বল, ‘উফ্ আন্টি, আপনি প্লিজ এইসব আর বলবেন না। রাফাকে আমি আগেও বোনের মতোই ভালোবেসেছি, এখনো বাসছি, এবং ভবিষ্যতেও বাসবো। হয়তো ও অনেকগুলো অন্যায় কাজ করেছ, বাট বড় বোন হিসেবে আমি ওর একটুকু অন্যায় এড়িয়ে যাবো।’

মিসেস সাহানা মৃদু হাসি দিলেন। ফাহাদ অসহায়ের মতো করে বলল, ‘বিয়েটা কবে হবে সেটাই তো জানতে পারলাম না এখনো।’

সায়েম রাগী রাগী একটা ভাব নিয়ে বলল, ‘স্টুপিড একটা। সামনে হবু শশুর আর হবু স্ত্রীর বড় ভাই বসে আছে, অথচ লাজ-লজ্জার কথা ভুলে গিয়ে সবার সামনে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করছিস। আরে ইয়ার, একটু তো সম্মান দে।’

ফাহাদ হেসে দিয়ে বলল, ‘পাগল নাকি তুই? যে মানুষটাকে ছোট থেকে কাকু বলে ডেকে এসেছি, তার সামনে লজ্জা পাবো। আর তোকে সম্মান দেওয়ার কী আছে? যা  তোকে দাওয়াত দিলাম। আমার বিয়ের সারাদিন তোর জন্য খাওয়াদাওয়া ফ্রি।’

সায়েম তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, ‘তা বিয়েটা কবে সেটা তো বল? উল্টো পাল্টা দিনে তো আর চলে আসলে হবে না।’

ফাহাদ আমতাআমতা করে ইতির দিক তাকালো। ইতি বিড়বিড় করে বলল - " সামনের সপ্তাহে।"

ইতি কথা ফাহাদ বুঝতে না পারলেও সায়েম বুঝতে পারল। কার‍ণ ও আগে থেকেই জানতো। ওদেরকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আনিস উদ্দিন চোখ পাকিয়ে বলল, ‘এবার থেমে যাও সবাই।’

আনিস উদ্দিনের কথা শুনে সবাই থেমে গেল। সায়েম বলল, ‘তাহলে।এবার চল যাই বাবা। তুমি এখান থেকে সরাসরি বাড়িতে চলে যাও। আমি আর ইতি আমাদের বাড়িতে যাচ্ছি।’

- উঁহু, তোদের সাথে নিয়েই ফিরব আমি। বিয়েটা আমার বাড়ি থেকেই হবে।

- অসম্ভব। আমার বোনের বিয়ে আমার ওখান থেকেই হবে।

- তাহলে আমার নষ্ট হওয়া টাকাগুলো ফেরত দে?

সায়েম অবাক হয়ে জানতে চাইল, ‘কিসের টাকা?’

- তোর আর তোর বোনের বিয়ের আয়োজনে যে টাকা আমি নষ্ট করেছি, সেসব টাকা ফেরত দে।

- আমি কী তোমাকে খরচ করতে বলেছিলাম? ইতির বিয়ের আয়োজনের সময় হয়তো আমি ছিলাম। বাট আমার সাথে যা হয়েছে, সেসব তুমিই করেছে। এটার টাকার দ্বায় আমার না।

- তাহলে ইতির বিয়েতে যা হয়েছিল, সেগুলোই দে।

- হুম, দিবো। একদিন ঠিক দিয়ে দিবো। এখন আর আমি বেকার নই।

- যতদিন সব টাকা শোধ করতে না পারবি, ততদিন আমার কথা মানতে হবে। বিয়ে আমার বাড়িতে থেকেই হবে।

সায়েম রাগে গজগজ করতে করতে ইতির দিকে তাকালো। ইতি ইশারায় অনুরোধ করল সায়েমকে চুপ করতে।

আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ওরা চলে এলো সেখান থেকে। ইতি বাড়িতে ফিরে গেলেও সায়েম থেকে গেল ভাড়া বাড়িতে। অজুহাত হিসেবে বলেছে, ‘এখান থেকে আমার অফিস কাছে। তাই আমাকে এখানেই থাকতে হবে আপাতত।’

আনিস উদ্দিন কী যেন ভেবে রাজি হয়ে গেলেন।

এক সপ্তাহ পর......

(চলবে...)

আরো পড়ুন ২৯তম পর্ব- ধারাবাহিক উপন্যাস : মেঘ বর্ষণ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড