• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক গল্প : এক পলকের একটু দেখায় (১০ম পর্ব)

  সাবিকুন নাহার নিপা

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৩৭
গল্প
ছবি : প্রতীকী

নতুন কাজ নিয়ে খুব এক্সাইটেড তাওসিফ। এতদিনে স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপে পা রাখতে পেরেছে। দুটো শর্ট ফিল্মে কাজের সুযোগ ও পেয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এখন সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছে। এরমধ্যে প্রমার সাথে একদিন দেখা হয়েছিল, কিন্তু প্রমার আচরণ সেই আগের মতোই নির্লিপ্ত। একটা মানুষ সত্যিই কি এতটা ডিপ্রেসন থাকতে পারে! ও সত্যিই ভেবে পায় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রমার ব্যাপারে আর না। এখন থেকে শুধু কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আর বন্ধু-বান্ধব সেটাও সময়ের সাথে সাথে হয়ে যাবে। 

সৈকত ঘরে ঢুকেই তাওসিফকে বলল, ‘ভাই তাড়াতাড়ি কিছু খেতে দাও, খুব খুব খিদে পেয়েছে।’
তাওসিফ অবাক হয়ে বলল, বেলা এগারোটা বাজে এখন ও তোর খাওয়া হয়নি?
- না আসলে তোমার এখানে আসবো বলে খেয়ে আসিনি।
তাওসিফ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আমার ঘরে কোনো খাবার থাকে না। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আনিয়ে খাই।’
সৈকত অসহায় গলায় বলল, ‘একটা ডিম ও কি হবে না?’

ফ্রিজ খুঁজে অবশেষে ডিম পাওয়া গেল। কাঁচামরিচ পাওয়া গেল ঠিকই কিন্তু পিয়াজ পাওয়া না যাওয়ায় কাঁচামরিচ দিয়ে ডিম ভেজে সস মাখিয়ে খাচ্ছে সৈকত। 

সৈকতের খাওয়া দেখে তাওসিফের ভীষণ মায়া লাগলো। তাওসিফের মায়ের খুব পছন্দের ছিলো সৈকত। তাওসিফ আস্তে করে বলল, ‘আমি কি বাইরে থেকে তোর জন্য খাবার নিয়ে আসবো?’
সৈকত তাওসিফের মায়াময় চোখের দিকে এক পলক তাকালো। তারপর স্মিত হেসে বলল, ‘না ভাই। আমার সময় নেই তেমন। তুমি যা বলবে বলো।’
তাওসিফ দীর্ঘনিঃশ্বাস লুকিয়ে বলল, ‘তুই আজকাল কি করছিস?’
সৈকত হাসি মুখে বলল, ‘টুকটাক ছবি আঁকার কাজ আর কি!’
- এভাবে কতদিন চলবে?
প্লেটের কোনায় অবশিষ্ট সস টুকু আঙুলে নিয়ে খেতে খেতে বলল, ‘যতদিন চলে..’
তাওসিফ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সৈকতের দিকে। এই ছেলেটা তো জনম দুঃখী। ওর তো তাও পরিবার ছিলো, আর ওর!
- তুই সাতক্ষীরা যাস না এখন আর?
সৈকত চোখ লুকিয়ে বলল,
- গতো তিনমাস ধরে যাই না।
- কেনো?
সৈকত হেসে জবাব দেয়, ‘মায়ের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে ভাই। ওদের বিয়ের সম্বন্ধ আসে। তার মধ্যে আমি গেলে মায়ের স্বামী রাগ করে। বুঝতেই তো পারছ মায়ের আগের বিয়ের কথা ওনারা জানাতে চায় না।’
তাওসিফ কিছু বলার খুঁজে পায়না। বিষাদ গলায় কিছুক্ষণ পর বলে, ‘তুই আমার কাছে এসে থাকিস না কেনো সৈকত? আমি কি তোর কেউ না?’
সৈকত হেসে বলে, আমার সত্যিই সময় নেই ভাই। দুই জায়গায় আজ পেমেন্ট দেবে। নির্দিষ্ট টাইমে না গেলে লস আছে।
তাওসিফ নিজেকে সামলে বলল, ‘আমার একজন কন্টেন্ট রাইটার লাগবে। তোর পরিচিত কেউ আছে কি?’
সৈকত একটু ভেবে বলল, ‘সেরকম তো নেই..’
তাওসিফ সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল, ‘আসলে আমি চাইছি একজন ভালো কন্টেন্ট রাইটার। নিজের থিমের উপর খুব একটা আস্থা নেই। সময় ও খুব বেশী নেই। কি করা যায় বলতো?’
- সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করতে পারো!
- দারুণ বলেছিস তো! তাহলে সেটাই করি কি বলিস!
তাওসিফের চোখ চকচক করছে। প্রসন্ন হাসি হেসে বলল, ‘এইজন্যই তোকে আমার এত ভালো লাগে!’
সৈকত কিছু না বলে হাসে।

ফেরার সময় তাওসিফ হঠাৎই ডেকে জিজ্ঞেস করে, ‘সৈকত তোর সেই ছবিটার খবর কি?’
সৈকত বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে, ‘কোনটার?’
- আমেরিকা যাওয়ার মাস ছয়েক আগে যে ছবিটা তোকে আঁকতে দেখেছিলাম সেটা?
সৈকতের মুখের রঙ পাল্টে যায়। আমতা আমতা করে বলে, ‘ওটা আঁকা হয়নি।’
- কেনো?
- জানিনা ভাই। ওটা আঁকতে গেলে মাথা ভনভন করে।
তাওসিফ হেসে বলে, তুই বরং এক কাজ কর, আমার এখানে এসে থাক। খাওয়া পরার টেনশন করতে হবে না। বিন্দাস থাকবি আর নিজের কাজ করবি।
সৈকত হেসে বলল, ‘যেদিন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে সেদিন সত্যিই আসবো। তল্পিতল্পা গুটিয়ে একদম বউ নিয়েই তোমার দরজায় আসবো।’
- আমার ঘরের আর মনের দুটো দরজাই তোর জন্য খোলা থাকবে।
সৈকত হেসে ফেলে। তাওসিফ ও হাসে। তাওসিফ বলে, ‘আমি যদিও কাঠখোট্টা মানুষ। ছবি-টবি বুঝি না। তবুও তোর ওই ছবির নাম টা ভীষণ পছন্দ হয়েছে। বিষণ্ণতা!  কি সুন্দর নাম!’


ইউনিভার্সিটি থেকে ফেরার পথে কেউ একজন সিসিলিয়াকে নাম ধরে ডাকে। সিসিলিয়া পেছনে তাকাতেই প্রমাকে দেখতে পায়। প্রমা কাছে এসে বলে, ‘কেমন আছ লিয়া?’
সিসিলিয়া জবাব না দিয়ে স্মিত হেসে বলল, ‘তুমি কি কিছু বলবে? যদি সময় বেশী লাগে তাহলে চলো কোনো একটা চায়ের দোকানে বসি।’

চায়ের দোকানে বসে নাক সিটকে প্রমা বলল, ‘একটা ভালো কফিশপে তো বসতে পারতাম আমরা!’
সিসিলিয়া মৃদু হেসে বলল, ‘আসলে আমার কফিশপে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আপাতত নেই প্রমা।’
সিসিলিয়ার কথায় প্রমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কপাল কুচকে বলে, ‘তুমি নাকি বাবাকে টাকা ফেরত দিয়েছ?’
- হ্যাঁ। 
- কেন?
- কারণ টাকাটা তার প্রাপ্য।
প্রমা রেগে গিয়ে বলল, ‘আফসানা রহমান যেমন তোমার মা ছিলেন তেমনই আমার মাও ছিলেন। আমি আমার মায়ের ট্রিটমেন্টে টাকা খরচ করেছি সেটা ফেরত দেয়ার স্পর্ধা পাও কি করে? হাউ কুড!’
সিসিলিয়া মিষ্টি হেসে বলল, ‘এটা পাবলিক প্লেস প্রমা। প্লিজ কন্ট্রোল ইউরসেলফ। আর আমাকে প্লিজ পুরো ব্যাপারটা বলতে দাও।’
প্রমা শান্ত হলো কিছুটা। সিসিলিয়া বলতে শুরু করল, ‘প্রথমত মায়ের সাথে বাবার অফিসিয়ালি ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর মা আর বাবার টাকা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন না, কোনোভাবেই না।’
- ওটা আমার টাকা। 
- টাকাটা তোমার কি করে হলো প্রমা? তুমি তো কিছু করোনা। বাবার থেকে নিয়েই তো দিয়েছ!
- সো হোয়াট!
- আমি মনে করি ওই টাকায় মায়ের কোনো হক নেই। বাবার টাকা তোমার হতে পারে কিন্তু সেটা মায়ের না। তাই আমি টাকাটা ফেরত দিয়েছি।
প্রমা কিছুক্ষণ রাগে ফুসতে লাগলো। সিসিলিয়ার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,
-আমি কি বোকা না! যার জন্য জেদ করে নিজের জীবন বাজি রাখছি আর সে কিনা আমাকে....
প্রমা শব্দ করে হেসে ফেলল।
সিসিলিয়া স্বাভাবিক গলায় বলল,
- যে টাকাটা তোমাকে দেয়া হয়েছে সেটা মায়ের স্কুল থেকে পেনশন পাওয়া। তোমার ভাগের টাকা কিছুদিনের মধ্যে পেয়েও যাবে।
প্রমা আগের মতোই ক্রুদ্ধ স্বরে বলল,
- তুমি নিজেকে খুব মহান ভাবো তাই না? 
- মোটেও না।
- শোনো লিয়া অপ্রিয় হলেও সত্যি হচ্ছে তোমার জন্য আমার মা মারা গেছেন। ইয়েস তোমার জন্য! ডক্টর বলেছিল মা অপারেশন এর পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সে আর ফিরে আসেনি। এইসব তোমার জন্য হয়েছে। তাওসিফ সেদিন বিয়ের আসর থেকে চলে না গেলে ওর মা ও আত্মহত্যা করতো  না আর আমার মা ও শক পেয়ে মরে যেতো না! তুমি যদি নিজের সমস্যার কথা তাওসিফ কে আগেই বলে দিতে তাহলে এসব কিছুই ঘটতো না
সিসিলিয়া আগের মতোই স্বাভাবিক গলায় বলল,
- তোমার কথা একদন্ডও মিথ্যে না প্রমা!


আজ প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল সিসিলিয়া আর সৈকতের দেখা হয় না। সেদিন পানি ঢালার  ঘটনার পর আর দেখা হয়নি। পরদিনই সৈকত বিনা নোটিশে কোথায় যেন চলে গেছে। অনন্যাকে বলে গেছে অবশ্য আসতে দুই একদিন দেরি হবে। কিন্তু দুই একদিনের জায়গায় সাতদিন হয়ে গেল তবুও খবর নেই। সিসিলিয়া ইদানীং অনুশোচনায় ভুগছে। সৈকত কি তাহলে ওর উপর রেগেই চলে গেছে।

বিকেলে অনন্যা আর প্রতিক কি একটা কাজে যেন বেরিয়ে যায়। সিসিলিয়া তখন উপরে সৈকতের ঘরের দিকে যায়। একবার ভাবে ভিতরে যাবে না আবার ভাবে একটু গেলেই বা কি হবে সৈকত তো আর জানছে না!

ঘরে ঢুকেই মন ভালো হয়ে যায় সিসিলিয়ার। কি সুন্দর করে সাজিয়েছে! প্রথমদিন দেখে যে খারাপ ধারণা হয়েছিল আজ তার ছিটেফোঁটাও নেই। দেয়ালভর্তি পেইন্টিং। সিসিলিয়ার বুঝতে বাকি থাকে না যে এগুলো সৈকতের আঁকা। সিসিলিয়া ছবিগুলোতে আলতো করে হাত ছুইয়ে মনে মনে ভাবে, একটা মানুষ এতটা গুনী কিভাবে হয়! কি সুন্দর ছবি! কি সুন্দর গান! 

সন্ধ্যা পর্যন্ত সিসিলিয়া ওঘরেই বসে থাকে। জানালা দিয়ে দেখতে পায় সৈকত আসছে। সিসিলিয়া যেন প্রাণ ফিরে পায়। ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি চলে আসে অজান্তেই। সিসিলিয়া ছুটে যায় দরজা খোলার জন্য। 

দরজা খুলতেই সৈকত হেসে বলে, ‘ভাবি পাঁচ মিনিটের মধ্যে খাবার দিন। পাঁচ মিনিটের জায়গায় ছয়মিনিট হলেই কিন্তু আমার পেটের ইদুর ছানা এখানে আসবে।’

সিসিলিয়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে রান্নাঘরে যায়। এতদিন পর ফিরে এসেও একবার জিজ্ঞেস করল না কেমন আছে। খাওয়ার সময় সিসিলিয়া সামনে থাকলো না। সৈকত একা একা খেয়ে উঠে যাওয়ার সময় বলল, ‘ভাবি এভাবে কারও ঘরে হুটহাট যাওয়া ঠিক না। আমি কি আপনার ঘরে যাই নাকি, ইশ লোকে কি বলবে শুনলে!’

লজ্জা আর অপমানে একটা কথাও বলতে পারলো না সিসিলিয়া। সৈকতের রসিকতা বুঝতে না পেরে সারারাত না খেয়ে কাটিয়ে দেয়। পরদিন সকালেও কিছু খায়নি। অনন্যা আর প্রতিক অনেকবার বলেও খাওয়াতে পারেনি। 

দুপুরের দিকে আচমকাই সৈকত ঘরে ঢুকে সিসিলিয়ার পা জাপ্টে ধরে বলল, ‘এই যে আপনার পা ধরলাম শাবানা ভাবী। এখন তো চলুন খেতে!’
আচমকা এমন আচরনে সিসিলিয়া ভরকে গেল। বলল, ‘কি করছেন ছাড়ুন।’
- না ভাবি আপনি খেতে না গেলে পা ছাড়বো না।
সিসিলিয়া রেগে বলল,
- আপনি কিন্তু এবার চুড়ান্ত অসভ্যতামি করছেন।
পা ছেড়ে দিয়ে সৈকত বলল, ‘তাহলে বলুন কি করলে আপনি খাবেন, কানে ধরবো ১০০ বার?
- আপনি এখান থেকে যান।
সৈকত কান ধরে ওঠবস করতে শুরু করলো। দশ পর্যন্ত হওয়ার পর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘বাকিটা বরং খেয়ে করি কেমন, এইটুকুতেই ক্ষিদে লেগেছে।’
- আপনার নাটক কি বন্ধ করবেন প্লিজ!
- আপনি এতো নির্দয় ভাবি! এইজন্য আপনাকে ভাবি ডেকেছিলাম?
- আপনার এই ভাবি ডাক কবে বন্ধ হবে বলুন তো? আমার জাস্ট বিরক্ত লাগছে।
- আপনাকে দেখতে শাবানা ভাবীর মতো তাই তো ভাবি ডাকি।
- শাবানা?
- হ্যাঁ। চিনলেন না? ওই যে যার স্বামী আলমগীর থাকে সবসময় গরীব কিন্তু লটারি পেয়ে বড়লোক হয়।
সিসিলিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
- সে কে? প্রতিকের পরিচিত কেউ?
- হ্যাঁ। আরে শাবানা তো শুধু আলমগীরের না রাজ্জাকের ও বউ ছিলো। 
সিসিলিয়া এবার বুঝতে পেরে বলল,
- আপনি সিনেমার কথা বলছেন?
- এইতো বুঝতে পেরেছেন।
সিসিলিয়া কপট রাগ করে বলল,
- শাবানা প্রতিকের পরিচিত? 
- হ্যাঁ উনি বাংলাদেশের সবার কমন ভাবী। আপনাকে দেখতে ওনার মতো লাগে। আপনিও ওনার মতো শাড়ি পরে, চুল বেধে জবুথবু হয়ে থাকেন।
সিসিলিয়া রেগে বলে,
- তাতে আপনার কি? 
- আমার কি হবে, কিছুই না!
- আপনি এক্ষুনি বের হন।
শুনুন না ছোটবেলায় রাজ্জাক আর শাবানা ভাবির সিনেমা দেখে একটা ছড়া বানিয়েছি। শোনেন- ‘রাজ্জাক শাবানা/ ভাজাপোড়া খাবানা/ ইবলিশ শয়তান ডাকলে/ হাত ধরে যাবানা’
সিসিলিয়ার সব রাগ এক নিমিষেই উবে গেল। খিলখিল করে হেসে ফেলল। সৈকত বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘যাক তাহলে রাগ কমেছে। এবার খেতে চলুন।’

খেতে বসেই সিসিলিয়া দেখল ইলিশ মাছ বেগুন ভাজা আর খিচুড়ি খাবারের মেন্যু। অনন্যা ফিসফিস করে বলল, ‘লিয়া আল্লাহর নাম নিয়ে খেতে শুরু করো। সব রান্না তোমার রাগ ভাঙানোর জন্য ভাইয়া করেছে।’
সিসিলিয়া অবাক হয়ে বলল, ‘কি বলছ!’

বেগুন ভাজা দিয়ে একটু খিচুড়ি মুখে দিয়ে সিসিলিয়ার মনে হলো বহুকাল ও ভালো রান্না খায়নি। অতি আনন্দে ইলিশ মাছ মুখে দিতেই মুখের রঙ পাল্টে গেল। লবন ভর্তি!
সিসিলিয়া কে দেখে সৈকত অপরাধী গলায় বলল,
- আমার কি দোষ বলুন ভাবি, আমি তো রান্নাঘর থেকে বারবার আপনার ঘরের দিকেই তাকাচ্ছিলাম। 
অনন্যা ফোড়ন কেটে বলল,
- হ্যাঁ, ঠিকই তো আপনার দোষ নেই! যে আপনার মনে ঘেড়ে বসেছে দোষ তো তার!
সৈকত আফসোসের সুরে বলল,
- ইশ আমার এতো স্বাদের ইলিশ! 
কথাবার্তার মধ্যে কেউ খেয়ালই করল না যে সিসিলিয়া একপিস মাছ শেষ করে আরও এক পিস খেতে শুরু করেছে।

(চলবে...)

আরো পড়ুন ৯ম পর্ব- ধারাবাহিক গল্প : এক পলকের একটু দেখায়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড