• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গল্প : পাগলীর সংবাদ

  কাজী সাবরিনা তাবাস্সুম

০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৩৮
গল্প
ছবি : প্রতীকী

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে শুয়ে থাকা পাগলীটার পেট ফুলেছে আবারো । মা হবে কিছুদিনের মধ্যেই। এ পর্যন্ত কতবার এই ঘটনা ঘটছে তা কেউ সঠিক বলতে পারবে না। পাগলীটার জীবিত সন্তান কয়টা, সেটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন। এ তল্লাটে যতগুলো শাক সবজি বিক্রেতা রয়েছে, যতগুলো চা দোকানদার, চালডালের আড়তদার, বাস ট্রাকের ড্রাইভার হেলপাররা রয়েছে; ব্রিজের তলার ঐ পাগলীকে সবাই চেনে! পাগলীটার পেট ফোলা মাত্রই সবার গল্পের একটা বিষয়বস্তু পাওয়া যায়। 

পাগলীটারও শক্তি আছে বৈকি। বছর বছর সন্তান জন্ম দিয়েই যাচ্ছে! কিভাবে কি হচ্ছে কোন হুঁশ নেই তার। সন্তানকে কিছুদিন বুকে আগলে রাখে। তারপর কোথায় যে চলে যায়! ব্রিজের তলায় নবজাতকের কান্নার শব্দ কেবল পাওয়া যায়। কারো গরজ পড়েনা ক্রন্দনরত সেই শিশুকে কোলে তুলে নিতে। কিংবা শিশুটির মাকে খুঁজে বের করতে! হঠাৎ গায়েব হয়ে যাওয়া পাগলীর মত হঠাৎ নবজাতকের কান্নাও গায়েব হয়ে যায়। কেউ জানতেও চায়না কোথায় ঠাঁই হয়েছে পাগলীটার সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানটির।

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপরে আর নিচে শত শত বাস ট্রাকের গতি কেবল কমে না। বাস কাউন্টার গুলো উপচে পড়া যাত্রীর ভিড় সামলাতে পারুক আর না পারুক, ব্যাগ কাঁধে আর স্যুটকেস হাতে কোন নতুন যাত্রীকে দেখলে দৃষ্টি আকর্ষণের ১০১টি মন্ত্র পড়তে ভলে না কেউ। এরমধ্যে দূরপাল্লার সবজি ফলমূল বোঝাই ট্রাকগুলোও দেখা যায়। গরু ছাগল বোঝাই ট্রাকগুলোও চোখে পড়ে। পঁচা সবজির জায়গা হয় ব্রিজের নিচেই, কুকুর বেড়ালের সাথে অপেক্ষাকৃত কম পঁচা সবজি আর ফলমূল খুঁজে বেড়ায় ছোট বড় পথশিশু, দিনমজুরের দল এবং আরও কিছু নাম না জানা অথচ মুখচেনা পাগল পাগলী! 

আমি বসে আছি এমনই এক বাস কাউন্টারে। চট্টগ্রাম যাবো। টিকেট করেছি আগেই; কিন্তু বাসটিই আটকা পড়ে আছে কাঁচপুর ব্রিজের ওপর কোন এক এক্সিডেন্টকে সাক্ষী করে। যার কারণে ঢাকা থেকে না পারছে গাড়িগুলো বের হতে, না পারছে দক্ষিণের গাড়িগুলো ঢাকায় গমন করতে। আধঘণ্টা লেইট হবার কথা শুনে অপেক্ষা করতে বসেছি, এখন দুই ঘণ্টা হতে চললো।

এমন কোন উচ্চ বেতনের চাকরি করিনা আমি, তাই আমার ননএসিই ভরসা। এসিবাসের ভাড়ার তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্য কম। কিন্তু ননএসি বাসগুলোর ওয়েটিং রুম যে সুবিধার নয় তা গত দু’ঘণ্টায়  বোঝা হয়ে গিয়েছে আমার! আশ পাশের মানুষগুলোর অপ্রয়োজনীয় অহেতুক কথা বার্তায় আমার প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের চারদিকের খবরাখবর। 

পেট মোটা পাগলীকে নিয়ে সবার উত্তেজনা দেখে অবাক হতেও ভুলে গেছি আমি। যেন এখানকার স্থানীয় বিক্রেতা, আড়তদার,  ড্রাইভাররা , এমনকি পুলিশ কনস্টেবল সবাই চায় পাগলীটা বছর বছর মা হোক। যে মা নিজের সন্তানের ব্যাপারেই বেঁহুশ, সেই মায়ের সন্তানকে নিয়ে কে চিন্তা করবে? চাইলেই বিনে পয়সায় সুবিধা ভোগ করতে পারার এমন বাঁধাধরা অফারকে নিয়েই তো মাতামাতি হবার কথা। হচ্ছেও তাই! 

আমি না পারছি জায়গা ছেড়ে চলে যেতে, না পারছি এইসব মশলাযুক্ত কিন্তু ময়লায় পরিপূর্ণ আলাপচারিতা উপেক্ষা করতে। অফিসের কাজে চট্টগ্রাম গেলে টিকেটের তোয়াক্কা না করেই উঠে পড়তাম। হয়ত তখন এসি বাসেও ভ্রমণ করার আনন্দ পেতে পারতাম। কারণ, তখন টাকাটা আমার পকেট থেকে যেত না, অফিসের অ্যাকাউন্ট থেকে যেত! 

আমি যাচ্ছি আমার প্রয়োজনে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে। আমিও তার অংশীদার হতে যাচ্ছি। আমার প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আমার কষ্টে অর্জিত গ্রাজুয়েশন ডিগ্রীর স্বীকৃতিটা নিতে যাচ্ছি। আমার মনে যারপরনাই আনন্দ। দেখা হবে প্রিয় বন্ধু ও সহপাঠীদের সাথে। বিশালাকার পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা আমার বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ের মায়ায় বাঁধা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিল্ডিং, প্রতিটি রাস্তা যেন কিছু বলতে চায়! পাঁচ বছর পড়াশোনা করেও আমি পাহাড়ের ভাষা বুঝতে পারিনি। একদণ্ড কেবল অনুভব করতে পেরেছিলাম পাহাড়ের আকর্ষণ। আমি বুঝেছিলাম পাহাড় কেউকে ফিরায়না। সবাইকে তার বিশালাকার পেটে ঠাঁই দেয় ! আমিও পাহাড়ের বুকে-পেটেই বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সব কি আর চাইলেই পাওয়া যায়? চাকরি খুঁজতে খুঁজতে সেই যে কাঠখোট্টা ঢাকা শহরে ঠাঁই নিলাম। আর আমাকে পায় কে? পাহাড় যে তখন অনেক পেছনে! 

এইবার তাই সমাবর্তনের দু’টো দিন আগেই টিকেট কেটেছি, ছুটি নিয়েছি। এতবড় বাহানা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ত আর যাওয়াই হতোনা। বন্ধুদেরও বলে রেখেছি। সবাই নিজেদের ব্যস্ততা থেকে সময় বাঁচিয়ে একসাথে নিজেদের জন্যই কিছু সময়ের ব্যবস্থা করতে তৎপর। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে শহর থেকে যাতায়াত করার জন্য রয়েছে ট্রেনের ব্যবস্থা। উত্তেজনায় আমার ঘুম হয়নি গত রাত; সেই শাটল ট্রেনে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো। যাওয়ার সময় স্টেশন থেকে তেহারী খেতে ভুলবো না। বন্ধুরা মিলে আইয়ুব বাচ্চুর উড়াল দিবো আকাশে গাইতে গাইতে ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দকে মাতিয়ে তুলবো! 

কত পরিকল্পনা আমার, মেজবানি মাংস দিয়ে ভাত খাবো। ডিসি হিলেও একটা চক্কর দেওয়ার খুব ইচ্ছে! সময় পেলে পতেঙ্গা সী বিচে যাবারও সাধ জাগে। এখন নাকি অন্যরকম করে সাজিয়েছে। টিভি আর ইন্টারনেটে সেই অন্যরকম পতেঙ্গা দেখতে মন্দ লাগেনি। সাগরপাড়ের ঐতিহ্যবাহী গুড়া পিঁয়াজু আর কাঁকড়া ফ্রাই খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখার পরিকল্পনাটাও বহাল আছে! শুধু চট্টগ্রাম যাবার দেরি।

আর এখন বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে তিন ঘণ্টা হতে চললো। চট্টগ্রামের পাহাড়ি বাতাসে মোহিত হবার স্বপ্ন ভুলে যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারের নিচের বাস কাউন্টারে বসে অক্টেন আর ডিজেলের পোড়া বাতাস হজম করছি। সাথে আছে শত পেশার শত রকমের মানুষের সিগারেটের ধোঁয়া আর এক বস্তা নোংরা গল্প। 

কখনো কোন পাগলী, তো কখনো কোন কড়া লিপস্টিকের রমণী। কখনো মদগাঁজার গল্প কিংবা কখনো চুরি ডাকাতির গল্প! কোন বিষয়েই এই মানুষগুলোর মুখে লাগাম নেই! যেন ঘটনা ঘটুক আর না ঘটুক; বলতে পেরেই আনন্দ। 

কাছেই কোথাও মসজিদ থেকে ভেসে এলো যোহরের আজানের সুর! অনবরত বাস ট্রাকের প্যাঁ পোঁ শুনতে শুনতে ক্লান্ত আমি একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলাম। সকাল দশটার বাস এখনও এলোনা! এমনই কপাল নিয়ে আজ আমি বসে আছি, সব বাসই নাকি কাঁচপুর ব্রিজের রাস্তায় আটক!  বদলী কোন বাসও নেই যে যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়! 

এমতাবস্থায় অসহনীয় দুর্ভোগ শুধু আমারই নয়, ভোগান্তী দেখছি প্রচুর মানুষের। গরমে, অতিরিক্ত মানুষের নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডে, পঁচা শাক সবজি ফলমূলের গন্ধে সবাই অতিষ্ঠ! ছোট ছোট বাচ্চাগুলো কান্নার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এসবের মধ্যে কতিপয় যাত্রীর সাথে ব্যাগের উপস্থিতি ছাড়াও ছোট খাঁচা দেখা গেল। খাঁচার ভেতর থেকে ছোট ছোট দুটো চারটে মোরগ মুরগী কক কক করে বেড়াচ্ছে।

আমি আর কাউন্টারে বসতে পারলাম না। কাঁধের ল্যাপটপ ব্যাগ আর হাতের ট্রাভেল ব্যাগটা কোনমতে সামলে কাউন্টারের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। চারদিকে এত এত মানুষ, একটুও স্বস্তির অবকাশ নেই। মানুষের সাথে সমানতালেই যেন বেড়ে চলছে ঢাকা শহরের গাড়ির সংখ্যা। সকাল থেকে আমার সাথে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এই শিডিউল বিপর্যয়ে আমি যখন বিপর্যস্ত; দাঁড়িয়ে আছি ফুটপাথে, কাঁধের দিকে হ্যাঁচকা টান অনুভব করলাম! 

কি থেকে কি হয়ে গেল জানিনা, কাঁধের ল্যাপটপ ব্যাগটি অদৃশ্য হয়ে গেল। সব দিকেই মানুষ হাঁটছে, দৌড়াচ্ছ, কোন দিকে তাকাবো বুঝে উঠতে পারলাম না। আমার ব্যাগটি একটু অন্যরকম, সাধারণ কাল রঙের ল্যাপটপের ব্যাগের মতো নয়। আমি যতদূর চোখ যায় মানুষের কাঁধে বা হাতে আমার নীল রঙা ব্যাগটি খুঁজতে লাগলাম। আমাকে ঘিরে মুহূর্তেই জটলা বেঁধে গেল। গল্পগুজব আর সুখটান ভুলে মানুষগুলো আমায় দেখছে। আমি চিৎকার করে তাদের আকুতি জানালাম আমার ব্যাগটা খুঁজতে। 

পাগল হয়ে দিগ্বিদিক অযথা তাকাতে লাগলাম আমি। আমার অফিসের ল্যাপটপ, অফিসের ফাইলে ভরা সেই ব্যাগ। মাত্র ছ’মাস হলো জয়েন করেছি, নতুন চাকরি। এখন ল্যাপটপ হারালে কি বলবো। তার উপর আমার নিজের কত কাজ সংরক্ষণ করা সেটাতে। কখনো হাতছাড়া করিনা আমি ল্যাপটপটি। কখন যে কোথায় লাগে, অফিস থেকে ছুটিও পেয়েছিলাম কিছু কাজ অবসরে বসে এগিয়ে রাখবো এই শর্তে! এখন ল্যাপটপ ছাড়া আমি তো নিঃস্ব। চাকরিটাও যাবে আমার। চিৎকার করে কাঁদতে চাইলাম, কান্না আটকে রইলো গলায়! 

ঠিক তখন আমার বাসটাও কাঁচপুরের জ্যাম ঠেলে যাত্রাবাড়ি পৌঁছেছে। কানে বাজছে আমার বাসের নাম ধরে হেলপার চেঁচাচ্ছে। যাত্রীরা সবা‌ই বাসের দিকে যাত্রা করলো। আমি বেকুবের মত দাঁড়িয়ে রইলাম। চট্টগ্রাম গিয়ে সমাবর্তন উদযাপন করার স্বপ্ন যে আমার এখানেই সমাপ্ত।

হঠাৎ কিছু চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পেছনে তাকালাম। যাত্রাবাড়ী কোলাহলপূর্ণ অঞ্চল; চিৎকার থাকবেই। কিন্তু এইবারের চিৎকারটা কানে লাগলো! পেছন থেকে কারা যেন হৈ হৈ করছে! তাকিয়ে দেখি উষ্কখুষ্ক ম্যাগি নুডুলসের মত চুলওয়ালী এক পাগলী এক হাতে একটা দা আর অন্য হাতে আমার নীল রঙা ল্যাপটপের ব্যাগটা নিয়ে আমারই দিকে ছুটে আসছে! ভীষণ ভয়ে চিৎকার করতে যাবো, গলা আটকে গেল! ততক্ষণে সে আমার অতি নিকটে পৌঁছায়। আমি কিছু বোঝার আগেই  আমার পায়ের কাছে ব্যাগটা রেখে দা হাতে উল্টো দিকে ভোঁ দৌড়।
 
আমি তখনও হতভম্ব, আমার ব্যাগটা আমি তুলব কিনা, যেন কারও অনুমতির অপেক্ষায় আছি। আশপাশের স্থানীয়রা ততক্ষণে বুঝে গিয়েছে আমি ভয়ে কাঠ হয়ে আছি!

কয়েকজন আমার কাছে এসে ব্যাগটা তুলে আমার হাতে দিলো, বললো এই পাগলীটা নাকি এমন। কেউকে ছিনতাই করতে দেখলেই দা নিয়ে তেড়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ই ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করতে পারে। তখন যার জিনিস তাকে খুঁজে বের করতে হন্যে হয়। বেশিরভাগ সময়ে লোকে জিনিস হারিয়ে পুলিশ খোঁজে, এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে, পাগলী আর তাদের খুঁজে পায়না। আজ আমি নিজের জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলাম বলে পাগলী আমায় জলদি পেয়ে গেল। আমিও আমার ব্যাগ পেলাম! 

বাসের হেলপার তখনও আমার জন্য দাঁড়িয়ে। যা নাটকটা হলো আজ আমাকে কেন্দ্র করে। সবাই যেন অপেক্ষা করছিল নাটকের শেষ দৃশ্যে কি হয় তা দেখার জন্য। হেলপারের ডাকে বাসের অভিমুখে ছুটলাম। সমাবর্তনের স্বপ্ন আবারো পাখা মেললো। বাসে যেতে যেতে হঠাৎ মনে হলো দা নিয়ে দৌড়ে আসা পাগলীটার তো পেট মোটা ছিল। সে কি তবে গর্ভবতী? এই পাগলীটার গল্পই কি শুনছিলাম সকাল থেকে? যার নিজের পেটের বাচ্চার প্রতি হুঁশ নেই, কিন্তু সে অন্যের জিনিস রক্ষায় ব্যাপক সচেতন, কি অদ্ভুত কাণ্ড! 

আমি জানালার ধারে আমার নির্ধারিত সিটে বসেছি। বাস ছেড়ে দিয়েছে, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করছি। জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম। চোখ বুজে চিন্তা করলাম গর্ভবতী পাগলীটার কথা। সে হয়ত এই ব্রিজের নিচেই বসে বসে মাথার উকুন মারছে এখন! হয়ত আবার কারো ব্যাগ কোন ছিনতাইকারী টান মারলো কিনা; তা পাগলীর চোখ খুঁজে বেড়াবে ঠিকই। 

আচ্ছা, সে এই কাজটা কেন করে? পাগলের কি দোষগুণ বিচারের বুদ্ধি থাকে? চোখ মেলে তাকালাম এ শহরের মানুষগুলোর দিকে। ঐ পাগলটা আমাদের জিনিসপত্রের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করছে বিনা স্বার্থে, বিনা বেতনে; আর আমরা সুস্থ মানুষেরা তাকে প্রতি রাতে ব্যবহার করছি নিজেদের অসুস্থ বিকৃত পশুত্বকে তৃপ্তি দেওয়া স্বার্থে। বাহ মানুষ বাহ, কি নির্মম তোমার ঋণশোধের নমুনা! 

আমার বাস ছুটে চলছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে! অন্তঃসত্ত্বা পাগলীটাকে ধন্যবাদ দেওয়া হলো না। আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম, বাস ধরার উত্তেজনায় পাগলীকে খুঁজে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা কি মাথায় ছিল আমার? আমরা যে সুস্থ মানুষ; আমাদের যে বড় বেশি স্বার্থ নিয়েই মাথাব্যথা! পাগলী, তুই ক্ষমা করিস না সুস্থ এই মানবজাতিকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড