• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গল্প : স্কুল দপ্তরী

  মুহাম্মদ বরকত আলী

০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০২
গল্প
ছবি : প্রতীকী

ঢং ঢং ঢং ছুটির ঘণ্টা বাজতেই ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে ছুটি ছুটি বলতে বলতে বাড়ির দিকে ছুট দিল। বৃষ্টি নামলে ছাত্রছাত্রীরা ভিজে যাবে বলে ছুটিটা নির্দিষ্ট সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই ঘোষণা করলেন প্রধান শিক্ষক। আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে গেছে, এখনি নামবে ঢল। রবি ঠাকুরের সেই বিখ্যাত কবিতাটা এখন বেশ মানায়। ‘নীল নব ঘনে আষাঢ় গগণে তিল ঠায় আর নাহি রে।’ ঠিক তাই আজকের আকাশটাও এক বিন্দু তিল ধারণের জায়গা নেই। এখন অবশ্য আষাঢ় মাস না। শ্রাবণ মাস। আষাঢ়ের ছোঁয়া এখনো শেষ হয়নি। কখন বৃষ্টি নামে আবার কখন রোদ হয় বলা কঠিন। 

স্কুলে তিন জন ম্যাডাম এক সাথে তড়িঘড়ি করে বের হলেন। প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাগে ঢুকিয়ে অফিস থেকে বের হতে হতে বললে, ‘আকাশে  প্রচণ্ড মেঘ করেছে। সব কিছু গুছিয়ে চলে এসো।’ আমি মাথা দুলিয়ে জী স্যার, বলে সায় দিতেই স্যার বাইকে চেপে চলে গেলেন। এখন স্কুল ফাঁকা। 

টিউবওয়েলের হাতল খুলে, টয়লেটের দরজায় তালা লাগিয়ে পতাকাটা নামাতেই দুএক ফোট বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। শ্রেণি কক্ষ আর অফিস রুমটা তালা বন্ধ করে বাড়ির দিকে পা বাড়াতেই ঝমঝম বৃষ্টি শুরু হল। অবেলায় ভিজে লাভ নেই। একটু অপেক্ষা করা যাক। চুপচাপ স্কুল বারান্দায় দেওয়ালে ঠেস দিয়ে তেমাথা হয়ে বসে অপেক্ষা শুরু করলাম। স্কুলটা যখন টিনের চালা ছিল তখন বৃষ্টির শব্দটা বেশ ভালোই লাগত। এখন এই কনক্রিটের ছাদে বৃষ্টির সেই শব্দ শোনা যায় না। সব বদলে গেছে। স্কুলের চেহারা বদলেছে, প্রকৃতি বদলেছে, মানুষ বদলেছে। পরিস্থিতি বদলেছে। বদলেছে আমারও ভাগ্য। চোখে একটু ঝিমুনি আসতেই হাত থেকে চাবির গোছাটা ঝুপ করে পড়তেই চোখ দুটো মেলে ধরলাম। নানান ব্যস্ততায় চাবিগুলোর দিকে নজর দেওয়া হয়নি। চাবির রিংটা বদলানো খুব জরুরি। বেশ দুমড়ে মুছরে গেছে। আবার কত দিন চলে? সময়ের সাথে সাথে সব যখন বদলেছে তখন চাবির রিং কেন নয়? স্কুলের সূচনা লগ্ন থেকে অনেক কিছুই বদলালে এখনো চাবিটার রিং কিংবা চাবিগুলো বদলানো হয়নি। স্কুলে আমার আগমনের পর থেকেই এই চাবির গোছাটা আমার সবচাইতে বেশি পরিচিত। সমস্ত কিছুর  সাক্ষী হিসাবে আমার সঙ্গী এই চাবি। যখন আমি ছাত্র ছিলাম তখন অনেক কিছুই ছিলো অজানা। জানা ছিলো না যে, আবেগে জীবন চলে না। 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে পকেটের খরচের চাহিদা বাড়তে থাকে সেটা আমার বোধগম্য ছিল না। এটা টের পাই ধীরে ধীরে। অষ্টম শ্রেণী পড়া সময় বাবা বিদায় নিলেন। বাবার পিছু পিছু মাও গেলেন আট মাসের ব্যবধানে। ভাইয়ের আশ্রয়ে আর অনুগ্রহে পড়ালেখা চলতে থাকল। 

বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসা, বাজার করা এগুলোই আমার কাজ ছিল। যখন পকেটের চাহিদা শুরু হলো তখন বাজার করে ফেরত আসা টাকা থেকে দশটাকা চেয়ে নিতাম। তখন পঞ্চাশ টাকা হাত পেতে চেয়ে নেওয়ার সাধ্য ছিল না। এতগুলো টাকা চেয়ে নেওয়া আমার নিকট দুঃসাধ্য ছিল। এভাবে আর কত দিন? এস এস সি পাশ দিয়ে শুরু করলাম গ্রামের কিছু কচিকাঁচা পড়ানো। মাইনে পঞ্চাশ টাকা নির্ধারিত হলেও সবাই দিতো না। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে পড়ানোর মাইনে চেয়ে নিতে বেশ লজ্জাবোধ করতো। মাস শেষে যে যা দিতো তাতেই মোটামুটি চলে যেত। অন্তত বাড়িতে হাত পাততে হতো না। 

এভাবেই শেষ করলাম এইচ এস সি। ভর্তি হলাম বি এ পাশ কোর্সে। দ্বিতীয় বর্ষে এসে বেশ অবসর সময় পার করতাম। অন্যদের মত মাচায় বসে তাস খেলে কিংবা এলোমেলো সময় পার করা আমার বদ অভ্যাস ছিল না। 

ঐ যে আগেই বলেছি, বসয় বাড়ার সাথে সাথে পকেটের চাহিদা বেড়ে যায়। আর সেই চাহিদার তাগিদে নানান চিন্তা মাথায় এসে জমা হত। একদিন গ্রামের রাস্তার কোল ঘেঁষে বসে আছি একা। অনেক আগেই শুনেছি পাশের গ্রামে একটা প্রাইমারি স্কুল চালু করা হয়েছে। আমার ইচ্ছে হলো সেখানে আমি ক্লাস নিলে ক্ষতি কি? প্রধান শিক্ষককে পেয়েও গেলাম। প্রস্তাব দিতেই তিনি আগ্রহের সাথে আমাকে স্বাগত জানালেন। 

‘চলে এসো না কাল থেকে। বেশ ভালোই হবে। এখন স্কুলে শিক্ষকের সংকট। একজন ম্যাডাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছে বলে এখন আসেন না। আরেক ম্যাডাম একটা বিশেষ কারণে চার মাস ছুটিতে আছেন। বর্তমানে আমি আর একজন ম্যাডাম মিলেই চালাচ্ছি। তুমি এলে খুব ভালো হবে।’

কালবিলম্ব না করে পরের দিন সকাল নয়টার সময় হাজির হলাম। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা দরজার কোল ঘেঁষে ধাক্কা-ধাক্কি করছে। প্রথম বেঞ্চ দখলের লড়াই। আমরাও ছোটবেলায় এমনটি করেছি। 

পাশে যে একটা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে তা আমার জানা ছিল না। একই মাঠ সংলগ্ন দুটি বিদ্যালয়। দুটো বিদ্যালয় স্কুল মাঠের দুই পাশে। একই ব্যক্তিদের উদ্যোগে দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামের স্কুল গুলো এভাবেই নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে। সাড়ে নয়টায় প্রধান শিক্ষক সাইকেলে চেপে হাজির হলেন। ফনিক্স সাইকেল শিক্ষকদের জন্য বেশ মানানসই। একজন মহিলা কাঁধে ভ্যানিটি ব্যাগ ফেলে স্কুল মাঠে হাজির হল। 

প্রধান শিক্ষক আমার হাতে চাবির গোছাটা দিয়ে বলল, ‘এই হল স্কুলের চাবি। রুমগুলো খুলে দাও।’ প্রত্যেকটা ক্লাস রুম, অফিস কক্ষ, টয়লেট খুলে দিয়ে টিউবওলের হাতল লাগিয়ে অফিস কক্ষে ঢুকলাম। প্রধান শিক্ষক ম্যাডামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। অফিস কক্ষে চারিদিকে চোখ বোলাতে শিক্ষকদের ছবিসহ শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা চাট দেখতে পেলাম। প্রধান শিক্ষক চাটে হাত দিয়ে পরিচয় করে দিলেন। কোন ম্যাডাম এবার এইচ এস সি দিচ্ছে (তখন মেয়েরা এস এস সি পাশে প্রাইমারিতে নিয়োগ পেত), কোন ম্যাডাম ছুটিতে আছে। 

পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ম্যাডামদের অনুপস্থিতির কারণে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হল পঞ্চম শ্রেণির বাংলা, গণিত, ইংরেজি পড়াতে হবে। 

শুরু হল আমার খণ্ডকালিন শিক্ষকতার জীবন। শিক্ষকদের বেতন না থাকায় ক্লাসের ব্যাপারে একটু গড়িমসি হত। আমি যেহেতু নতুন সেহেতু ক্লাস নিতে আমার কোনো অনীহা থাকতো না। পঞ্চম শ্রেণির তিনটা ক্লাস একটানা নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির গণিত ক্লাস নিতাম। 
ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় থেকে প্রিয় হয়ে উঠলাম। সকল ছাত্রছাত্রীর মধ্যমণি হয়ে গেলাম। ক্লাস নেওয়া, অফিসের ছোটখাটো কাজে প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতা করা, মেহমান এলে তাদের যত্ন করে নাস্তা করানো, এগুলোর জন্য আমার বিপরীতে কেউ ছিল না। 

কিছু টাকা মাইনে দেওয়ার শর্তে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময়ের আবেদন করলে রাজি হয়ে গেলাম। এলাকাটা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় মাসিক সম্মানীর জন্য কাউকেই চাপাচাপি করতাম না। যে যা দিত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতাম। বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পড়াতাম। 

ম্যাডামের এইচ এস সি পরিক্ষা শেষ। আরেক ম্যাডামের চার মাসের ছুটির পরিবর্তে পুরো বছরটা ছুটি কাটিয়ে দিলেন। সবার উপস্থিত নিশ্চিত হলেও আমার ক্লাসের বহর কমলো না। পি এস সি পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি পঞ্চম শ্রেণির দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ হলো। তিনটা ক্লাস, ছুটির পর অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় দেওয়া, শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোজ খবর নেওয়া আমার নিত্য কাজ হয়ে উঠল। শহরের পার্শ্ববর্তী আর দরিদ্র এলাকায় স্কুলটা হওয়াতে খুব দুর্বল শিক্ষার্থীগুলো এখানে ভর্তি হতো। এদেরকে পড়াতে বেশ বেগ পেতে হতো। এরপরও কঠোর পরিশ্রম আর শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায় পরপর তিন বার পি এস সি‘তে শতভাগ পাস করা, প্রতিবছর দু‘একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়ায় স্কুলের বেশ শুনাম ছড়িয়ে পড়ল। 

সেকেন্ড ডিভিশনে বি এ পাস দিলাম। এম এ ভর্তি হলাম। চাকুরির জন্য আবেদন করতে লাগলাম। আমার তীব্র ইচ্ছে শিক্ষকতা আর না হয় আদালতে চাকুরী করা। আদালতে একটা নিয়োগ এলে আবেদন করলাম। ভাগ্য আমার সাথে উপহাস করে সেবার আমার গ্রামের অষ্টম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেটে নিয়োগ পেল একটা ছেলে। জানি না সে আদৌ অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছে কিনা। তবে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
  
স্কুল আধা সরকারির বেতন ভুক্ত হলো। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী পরের বছর নব্য সরকারীর প্রাথমিকের তালিকায় প্রথম সারিতে স্থান পেল। স্কুল কমিটির আবদারে একদিন আনন্দ মধ্যহ্নভোজের আয়োজন করল। 

সেদিন সকাল থেকে সামিয়ানা টাঙ্গানো, রান্নার কাজের সহযোগিতা করা, কমিটির লোকদের খাওয়ানো সব করেছি। অতিথিরা বিদেয় হলে আমাকে একলা খেতে দিল। আমি সেদিন কোনো মতে খেয়ে চলে এসেছিলাম। খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার। 

বছরের শেষ সময়। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দু’একদিন ছুটি চলছে। প্রধান শিক্ষক ফোনে জানালেন উপজেলা থেকে স্কুলের জন্য নতুন বই সংগ্রহের যেতে হবে। সাথে নিতে বললেন শহরে বসবাসরত একজন ম্যাডামকে। সাইকেলে চেপে ছুট দিলাম স্কুলের নিকটবর্তী ম্যাডামের বাসায়। যেতেই দেখি ম্যাডাম ও ম্যাডামের বাবা দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রধান শিক্ষক ফোনে জানিয়ে দিয়েছেন।  একটা রিক্সা ডেকে ম্যাডাম চেপে বসতেই ম্যাডামের বাবা ম্যাডামের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘স্কুল এখন সরকারি হয়ে গেছে, তাই কাজ করতে হবে খুব সাবধানে। ওখানে যদি কেউ ওর কথা জিজ্ঞেস করে, বলবি নিম্ন মাধ্যমিকের পিয়ন।’ অর্থ্যাৎ উপজেলায় কোনো অফিসার যদি আমার পরিচয় জানতে চায় যে, আমি কে? তবে আমার পরিচয় আমি প্রাইমারির পার্শ্বে প্রতিষ্ঠিত নিম্ন মাধ্যমিকের পিয়ন। ম্যাডামের বাবা স্কুল কমিটির উচ্চপদস্থ একজন। কথাটা শুনে আমার চোখদুটো লাল হয়ে এল, কান দুটো গরম হয়ে গেল। ঝাপসা চোখে সাইকেলে উঠে প্যাডেল করতে লাগলাম। 

স্কুলের চিত্র বদলে গেছে। শিক্ষকেরা নিয়মিত আসছে, ক্লাস নিচ্ছেন। সরকারি আওতায় আসার পর আমার ক্লাসের বহর কমে এল। তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম শ্রেণির গণিত ক্লাস আমার দায়ীতেই রইল। 

সবার ভাগ্য পরিবর্তন হলেও আমি সেই আগের অবস্থানেই পড়ে রইলাম। স্কুলের দরজা জানালা খোলা আর বন্ধ, টয়লেট দরজা খোলা আর বন্ধ, টিউবওলের হাতল খোলা আর লাগানো, পতাকা উঠানো আর নামানো আর ছাত্রছাত্রীদের সাথেই আমার সখ্যতা গড়ে উঠল। 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক ঘণ্টা পড়িয়ে যা আসতো তাদিয়েই চাকুরীর আবেদন করতাম। এর শেষ হত ভাইবা বোর্ড পর্যন্ত। আবেদনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যেতে লাগল। 

এরই মধ্যে একদিন নিম্ন মাধ্যমিক থেকে একটা অফার এল। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালটা নন এমপিও হওয়াতে ওখানেও শিক্ষকের সংকট দেখাদিল। মাসিক এক হাজার টাকা সম্মানিতে কয়েকটা ক্লাস নিতে হবে। প্রাইমারি এখন সরকারি। তাই শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির একটা ক্লাস নিয়ে নিম্ন মাধ্যমিকের ক্লাসে নিয়োজিত হলাম। নিম্ন মাধ্যমিকে ক্লাস নেওয়তে প্রাইমারির সাথে কিছুটা মনের দূরত্ব হয়ে গেল। 

আমার সার্টিফিকেটের সরকারি চাকুরির বয়স শেষের দিকে। এমন সময় প্রাইমারিতে দপ্তরির নিয়োগ এল। কোনো দিকে আশার আলো না পেয়ে আমিও আবেদন করলাম। আমার আবেদন করা দেখে এলাকার অন্য শিক্ষিতরা আবেদন করল না। ওরা চায় অন্তত দপ্তরির নিয়োগটা আমার হোক। কিন্তু কমিটি নিজেদের লোক নিয়োগ দিতে চায়। আমার প্রাক্তন ছাত্র, স্কুল এলাকার কিছু লোকের চাপে শেষ মেষ আমাকেই নিয়োগ দেওয়া হলে।  
‘আব্বু, ছাতা নিয়ে এসেছি, বাসায় চলেন।’ 

ছেলের ডাকে মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি রাতের অন্ধকারে ছেয়ে গেছে সব। বৃষ্টির তোড় কিছুটা কমলেও পুরোপুরি থামেনি। 
ছেলেরা খুব কষ্ট পায় তখন, যখন তার সামনে তার বাবা কাঁদে। 
‘তুমি যাও, আজ আমার বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে।’
ছেলেটা বিদেয় হতেই নেমে পড়লাম বাইরে।  
কান্নার দাগ মুছে ফেলতে বৃষ্টিতে সারা শরীর এলিয়ে দিলাম। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড