• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বই আলোচনা

চন্দনাইশের ইতিহাস : একটি কালের সাক্ষী

  মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪১
প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : গবেষণমূলক গ্রন্থ ‘চন্দনাইশের ইতিহাস’

চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র এর সভাপতি  ইতিহাস-ঐতিহ্য সংগ্রাহক এবং  বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ-দীনের রচিত ‘চন্দনাইশের ইতিহাস’ গ্রন্থটি এক অনবদ্য সৃষ্টি। 

চন্দনাইশ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলাটি  দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সন্নিবেশে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। চন্দনাইশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রবহমান। এই চন্দনাইশ ছিল পটিয়া উপজেলার একটি অংশ। ১৯৭৬ সালে পটিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে চন্দনাইশ থানার সৃষ্টি করা হয়। ১৯৮৩ সালের ২ জুলাই চন্দনাইশ থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।  কথিত আছে চন্দন ও আঁশ হতে চন্দনাইশ নামের উদ্ভব। এলাকাটি একসময় চন্দন গাছের উৎপাদন ও ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিলো। 

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানান ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার মত গুণীজন উপহার দিয়েছে চন্দনাইশ। বার আউলিয়া স্মৃতি বিজড়িত এই উপজেলা বিখ্যাত আলেম ওলামা   ও বেশ কিছু জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্য সুপরিচিত। এমন কি তাদের মধ্যে অনেকেই উপমহাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সুনাম ও সুপ্রসিদ্ধ লাভ করেছেন। এই সব তথ্য বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক   সোহেল মো. ফখরুদ-দীন তার সংকলন ও সম্পাদনায় ‘চন্দনাইশের ইতিহাস’ বইটিতে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন।

এই বইটিতে আরো আছে ইতিহাস - ঐতিহ্য, সাহিত্য সাংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ভাষা, ধর্ম, সভ্যতা, রাজনীতি, মানবতা, মানবাধিকার, শিক্ষাবিস্তার, কৃষি, পাহাড় নদীর, মগ আমল, মোগল আমল, সুলতানী আমল, আরকানী আমল, বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশ, এ অঞ্চলের হাট বাজার, ধর্ম বিস্তারে সুফিবাদ, ধর্মচর্চা, চন্দনাইশের শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনীতিক যাত্রা, দেশ বিদেশে খ্যাতিমানদের কথা, মনীষীদের জীবন কর্ম, আলোকিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস, চন্দনাইশের ২টি পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়নের ইতিহাস, সফল মানুষ, শিক্ষক, পীর বুজুর্গ, সাধু ঋষীদের মানব কল্যানের ইতিহাস  এবং মানুষ মনীষী ও অবহেলা - উন্নয়নের  আলোকচিত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার চিত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে ও ইউনিভার্সিটির তালিকা গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে। তাছাড়া এই গ্রন্থটিতে  আমি অধমের দু'টি লেখা সহ স্বনামধন্য লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। এমন কি এই গ্রন্থে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ পত্রে চন্দনাইশ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সমূহ গুরুত্ব সহকারে স্থান পেয়েছে।

চন্দনাইশের ইতিহাস ও সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন এই বইয়ের কারণে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।এই গ্রন্থটি বিশেষ করে চন্দনাইশ বাসীর জন্য আত্মপরিচয়, আত্মচেতনা এবং জাতীয়তা বোধের অনুপ্রেরণা যোগাবে। শত ও হাজার বছর পর হলেও এই বইটি এই অঞ্চলের মানুষকে অতীতের সন্ধান দিবে এবং লেখককে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবেন। চন্দনাইশের অতীতের সোনালী ইতিহাসগুলো বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে  কিছুটা হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণ করেছেন।  বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম এই বইয়ের মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবে। এমন কি এই গ্রন্থটি  কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য সহায়তা কিংবা পথ পদর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দীপ্তময় পথচলায় লেখকের প্রতি দোয়া ও আন্তরিক ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে সোহেল মো. ফখরুদ-দীনরে রচিত ‘চন্দনাইশের ইতিহাস’ বইটি পাঠক প্রিয়তা কামনা করছি।

গ্রন্থ: চন্দনাইশের ইতিহাস
লেখক : সোহেল মো. ফখরুদ-দীন 
প্রকাশনী: সাজিদ আলী প্রকাশন 
প্রকাশকাল: ২৬ জুলাই ২০১৯ ইং

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড