• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বই আলোচনা

কবি মজিদ মাহমুদের ‘কাব্যসমুচ্চয়’ : মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা

  মোহাম্মদ আব্দুর রউফ

২২ আগস্ট ২০১৯, ১২:২১
ছবি
ছবি : কবি মজিদ মাহমুদ এবং কাব্যসমগ্র : কাব্যসমুচ্চয়

এক
নতুনত্বের আবেদন চিরন্তন। তাই কবিকেও নতুন পথ ও পাথেয় প্রসঙ্গে ভাবতে হয়। পুরাতনকে সযত্নে এড়িয়ে অথবা ভেঙেচুরে সময়, সমাজ ও সমকাল-উপযোগী শিল্পনির্মাণে মনোনিবেশ করতে হয়। তাই সার্থক শিল্পমাত্রেই কোনো না কোনোভাবে নতুনত্বের দাবিদার। কেবল নতুনত্ব হলেই নয়, অভিনবত্ব থাকতে হয়; অভিনবত্ব হলেই নয়, উপযোগিতাও থাকতে হয়। গণমানবের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠতে হয়। সত্য, শুভ্র-সুন্দর জীবন ও সমতা-ভিত্তিক মানব-কল্যাণমূলক সমাজ বিনির্মাণের সারবত্তা থাকতে হয়। তবেই তো কবিতার সঙ্গে পাঠক-হৃদয়ের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। কবিকে এই কাজটি করতে হয়। মজিদ মাহমুদ কাব্যসৃজনকলায় কাজটি সমভাবেই পরিদৃশ্যমান। তার কাব্যসত্তায় অবিরত জেগে থাকে মানবমুক্তির সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা।
  
দুই
কবিতা তো আনন্দের জন্যই, স্বস্তির জন্যই। ব্যথা-বেদনা-যন্ত্রণা, দুঃখকষ্ট থেকে মুক্তির জন্যই। তাই কবিকেও হতে হয় মানবিক, দায়িত্ববান। দায়বদ্ধতার ভেতর দিয়েই মহৎ কবিতার সৃষ্টি হয় কিন্তু কার প্রতি দায়বদ্ধতা? কিসের প্রতি দায়বদ্ধতা? বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা, স্বসময়, স্বসমাজ ও সকলের প্রতি দায়বদ্ধতা, প্রান্তিক মানুষের প্রতি, নিম্নবর্গীয় মানুষের প্রতি, শোষিত-নির্যাতিত-নিষ্পেষিত মানুষের প্রতি; অধিকারবঞ্চিত মানুষের প্রতি। কবি মজিদ মাহমুদের এই দায়বদ্ধতা সহজেই পাঠকের নজর কাড়ে। কবি বলেন-
‘কবিতা তো খালিপায়ে ফুটপাতে হাঁটার জন্য 
কবিতা তো সারিবদ্ধভাবে গার্মেন্টস কারখানায় যাওয়ার জন্য
পার্কে নেতিয়ে পড়া শিশুর সাথে ঘুমিয়ে থাকার জন্য।’ 

তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না, কবির কাব্যান্বিষ্টবস্তু মানবমুক্তির শিল্পপ্রয়াস। কবির হৃদয়ভাষ্য, ‘কবিতাকে যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যেতে চাই’। কবিতাকে মজিদ মাহমুদ কোথায় নিতে চান? কার কাছে নিতে চান? কার জন্যইবা তিনি লিখছেন? উত্তর কবিতার মধ্যেই রয়েছে- 

‘আমার যে পুত্র রাতে ঘরে ফেরেনি 
যে কন্যা ধর্ষণে অপমানে উদ্বন্ধনে মরেছে
অথচ হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি পায়নি’

অথবা ‘ইফতারের আগেই আমার বাছাকে একটু পানি দাও’। 

যারা রাতে বিছানায় ফিরতে পারেনি, যাদের দেহ সকালে রাস্তার ধারে পাওয়া গেছে অথবা যে সব মেয়েরা সতীত্ব হরণের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে অথবা যে সব মা এখনো সন্তান ফেরার প্রত্যাশায় প্রতীক্ষারত, তাদের জন্যই মজিদ মাহমুদের কবিতা। এদের কাছে অথবা এদের মত নিষ্পেষিত মানুষের কাছে অথবা এদের প্রতি সমব্যথিদের কাছেই মজিদ মাহমুদ পৌঁছে দিতে চান তার কাব্যকথন। তিনি সর্বদাই সঙ্গে রাখেন পাঠককে, মাহফুজাকে। মাহফুজাকে এড্রেস করে কবি বলেন- 

‘মাহফুজা তুমি একটু তাকিয়ে দেখো আমাদের চারপাশ ও খেলার মাঠগুলো
বাদামের খোসা ও উড়ে যাওয়া লাল পায়রাগুলো
রাতে পাহারারত পুলিশের সোর্সগুলো
সংসদ ভবনে ডায়বেটিসগুলো
আমাদের চারপাশে ক্রন্দনরত শিকলসমূহ
রাতে ফিরে না আসা সন্তানসমূহ।’

অথবা
‘মাহফুজা তুমি তাকিয়ে দেখো আমাদের ঘরগুলো 
বিশ্বায়নে বেচে দেওয়া আমাদের কন্যাদের যৌবনগুলো
নেতাদের পকেটে হারিয়ে যাওয়া আমাদের দেশগুলো।’ 

বলতেই হয়, মজিদ মাহমুদের বাকপ্রতিম ভঙ্গিমা অনন্য। তিনি ডিটেলে যান না; রেখে যান কিছু প্রতীক-সংকেত; কিছু ইশারা-ইঙ্গিত। পাঠককে এড্রেস করে সমকালীন সময় ও সমাজের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকসহ যাপিত জীবনের সমগ্রতাকে তুলে ধরতে চান কবি।           

তিন
শৈশব-কৈশোর থেকে বৃদ্ধাবস্থা পর্যন্ত নারীসৌন্দর্য বর্ণনা করে কত কবিই তো কবিতা লেখেন অথবা সমবেতনারী দেখলেই নারীবন্দনায় পঞ্চমুখ হন কিন্তু নারীনির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি কাব্যচরণও লিখছেন না তারা। এসব কবিদের প্রতিও মজিদ মাহমুদের মৃদু ক্ষোভ। কিছুটা প্রতিবাদী ঢঙে বলেন-

‘যে সব কবি তনুজাকে নিয়ে কবিতা লিখতে পারে না
তাদের কবিতার প্রতিটি শব্দের আরেকটি মানে
বিকৃত কাম, ধর্ষণ ও নারীহত্যা।’ 

নববধূর প্রতিও কবির সমবেদনাবাণী-
‘ও নববধূরা শোন! আজ তোমাদের জরায়ুর পথ রাখ রুদ্ধ 
অসতর্কে কোনো এক ঘাতক ঢুকে যেতে পারে বধ্যভূমে
তোমার অনাগত সন্তানকে ছড়িয়ে দিতে পারে বাতাসে।’ 

প্রেমেই প্রেম মেলে, অন্য কভূ নয়। কর্তব্যকরণীয় প্রসঙ্গে কবি বলেন-
‘মানুষের পাশে থাকো, করো মানবীর যত্ন
দেখবে প্রেম তোমাকে চকিত আনন্দিত করে মিলিয়ে যাচ্ছে।’ 

এক সময় মানুষ বনে যেতে, শিকার করতো বন্যপ্রাণী। এখন বন নেই, নেই বন্যপ্রাণী।  তাই বলে শিকার থেমে নেই, বন্দুক থেমে নেই। মানুষ বন্য হয়ে উঠছে; শিকার করছে মানুষকে। কবি বলেন- 
‘তোমাদের বয়লারে বেড়ে উঠছে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড
তোমরা অরণ্যে যাওনা বলে
মাঝে মাঝে নিজেদের করো শিকার
তোমাদের বন্দুকগুলো ঘরের মধ্যে গর্জে ওঠে
তোমরা নিরস্ত্র মানুষের সঙ্গে করো বন্দুকযুদ্ধ।’
মানুষ তো মানুষের জন্যই। এসব বিপন্ন মানুষের জন্য কবির রক্তক্ষরণ হয়। 
দানববধের মন্ত্র জানা আছে কবির। মানবমুক্তির জন্য সমাজকে দানবমুক্ত করতে চান। সে কথাই তো কবি আপনসুর ও স্বরে বলেন- 
‘মারো-মরো নিজের মৃত্তিকায়
আমরা সাথে আছি-তোমাদের ভাই
দানব বধের মন্ত্র আমাদের আছে জানা
মানুষ বিপন্ন হলে আমরা নিশ্চুপ থাকি না।’ 

এই কবি পঞ্চেন্দ্রীয়ের আড়ালে ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তুলতে চান। তিনিও নজরুলের মত ঋণপরিশোধের বার্তাটি পৌঁছে দিতে চান এভাবে-
‘যারা দিয়েছে মার ফিরিয়ে দিন দ্বিগুণ আসলে।’ 

ভাবি, মজিদ মাহমুদের কাব্যভাবনা কী করে এত সুন্দর কাব্যরূপে সিদ্ধিলাভ করে। জবাব কবিতায়ই মেলে। কবি যখন বলেন- 
‘সব ভালো কবিতা দুঃখীদের অধিকারে
 কবিতা লিখতে গেলে যেমন কিছুটা দুঃখ লাগে
 পড়তে গেলেও কিছুটা দুঃখের প্রয়োজন।’ 

দুঃখ থেকেই তো কবিতার উৎপত্তি। কিন্তু কবির কিসের এতদুঃখ? কবি বলেন-
‘দুঃখ দিছে সতীর্থরা দুঃখ দিছে শিক্ষাগুরু 
দুঃখ দিছে সহকর্মী দুঃখ আমার কেবল গুরু।’ 

তবে কবি দুঃখকে ভয় পাচ্ছেন না, বরং গুরুবিবেচনায় সম্বোধন করছেন এবং দুঃখের বাড়িই ফিরছেন। কবি বলেন- 
‘যারা আমায় দুঃখ দিছে হোক না তরা দূরের লোক
সুখে থাকুক তারা সবাই দুঃখগুলো আমার হোক।’ 
এই হল কবি মজিদ মাহমুদ। বাল্মীকিমুনির সেই আদি কবিতাটির উৎপত্তিও দুঃখ থেকেই। পক্ষির দুঃখ বাল্মীকির হৃদয়ে ঝড় তুলেছিল। সমকালীন মানবদুঃখও মজিদ মাহমুদের কবিমনে তদ্রুপ ঝড় তুলে। বাল্মীকির মতোই নির্মাণ হতে থাকে অমর সব পঙক্তিমালা।  

চার
কবি মজিদ মাহমুদ ইতিহাসকারও। সনতারিখ ছাড়া ইতিহাস লেখেন, ইতিহাসের হাত ধরে চলেন। তাঁর প্রতিটি শব্দবস্তুতে রয়েছে হত্যার ইতিহাস, হত্যাকারীর ইতিহাস। এতে কবিকে হতে হয় পরিহাসের মুখোমুখি কিন্তু তারাও তো একদিন হয়ে যাবে ঘাস। কবি বলেন- 

‘সকল প্রাণের মধ্যে রয়েছে হত্যাকারীর ছায়া
আমরা রেখেছি ধরে হত্যার ইতিহাস
যদিও তারা আমাদের করিতেছে পরিহাস
তবু একদিন তারাও হয়ে যাবে ঘাস।’ 

মানুষের ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস, বিপর্যয়ের ইতিহাস। মারি ও মরার ইতিহাস, চেঙ্গিস-নেপোলিয়ান-আলেকজান্ডার বোনাপার্ট- এদের সময় যুদ্ধই ছিল মহৎ পেশা। উৎপাদনের চেয়ে যুদ্ধেই আগ্রহ ছিল বেশি। সেসব যুদ্ধের অবসান হলেও রক্তে রয়েছে নেশা। তাই ভাগবিভাজনের মধ্য দিয়ে মানুষ যুদ্ধে মেতে ওঠে। এতে কবির মাথা ঠিক থাকলেও হৃদয় থাকে না। সেখান থেকে রক্ত ঝরতে থাকে অবিরত। বন্ধ হলেও আবার নতুন করে শুরু হয়। কাব্যচরণ তো তাই বলে- 

‘যদিও এই যুদ্ধে আমাদের মাথা থাকে অক্ষত
তবু হৃদপি- থেকে রক্ত ঝরে অবিরত।’ 

এসব মানবহত্যা দেখেই হয়তো কবি বলেন,
‘পৃথিবীর পুরোটাই ঈশ্বরের অধিকারে নেই।’ 
খানিকটা চলে গেছে মানবরূপী অসুরের দখলে। তাই  ঈশ্বর ফুল, নদীনালা, সমুদ্র পছন্দ করলেও মানুষের নাম অপছন্দ করেন। মজিদ মাহমুদ বলেন- ‘প্রভুও ফুলের নামে পাখির নামে
নদী ও সমুদ্রের নামে ভাস্কর 
তবে মানুষের নাম তার সব থেকে অপছন্দ।’ 

মজিদ মাহমুদ জাতপাতপ্রথা, ধর্মাধর্ম বর্ণগ্রোত্রকে ঠাঁই দেন না। সকলকে সমভাবে সমমর্যাদায় বিবেচনা করেন। এর বিরোধীপক্ষকে নাকচ করে দেন। মজিদ মাহমুদের সোজাসাপটা কথা- 

‘মুসলমান আমার ভাই হিন্দু আমার দাদা 
যারা বলে ঠিক নয়- তারা হারামজাদা।’ 

পাঁচ
মজিদ মাহমুদের কাব্য উৎস কবি নিজেই। নিজের দিকে তাকিয়েই তিনি কবিতা লেখেন, নিজেদের দিকে তাকিয়ে লেখেন। বাংলার দিকে তাকিয়ে, বাঙালির দিকে তাকিয়ে দেখেন। তাই মজিদ মাহমুদের কাব্যসত্তায় সমগ্রটা জুড়ে থাকে বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্বপ্রাণ। এই দেশ, জনপদ, জনপদের বাসিন্দারা, তাদের যাপিত জীবনধারা, কর্মপদ্ধতি; নানা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই, সময়ে সময়ে শত্রুকে বিধ্বস্ত করে বিজয় নিশান ওড়ানোর মধ্য দিয়ে শির উন্নত রেখেছে বাঙালি। সেই বাংলা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ই মজিদ মাহমুদের ভেতর জেগে ওঠে; জেগে ওঠেন কবি নিজেও। তুমুলভাবে আলোড়িত-বিলোড়িত হন, বিমোহিত হন। এসময় কবির সৃজনকাল। ধ্বনির পর ধ্বনি বসিয়ে, শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠে তাঁর ওমর সব কাব্যচরণ। কবির কাব্যশক্তির মর্মমূলে জাদুমন্ত্রের মত কাজ করে তাঁর বাকপ্রতিম-কৌশল। তাই মজিদ মাহমুদ অনায়াসেই লিখতে পারেন- 

‘বাংলাকে মারতে এলে আমরা মেরে দিই
 বাংলা আমার মায়ের মা, পিতার পিতা
 তাদের প্রতিটি চিহ্ন রেখেছে ধরে এই বাংলা
 বৈদিক চেয়েছিল সংস্কৃত হও 
 ব্রিটিশরা চেয়েছিল ইংরেজ হও
 পাকিরা চেয়েছিল উর্দু হও
 আমরা বাঙালি ছিলাম বাঙালি হয়েছি।’ 

জাদুকরের মতো কি অপূর্ব ভাষিক কাব্যকৌশলে মজিদ মাহমুদ হাজার বছরের একটি জাতিসত্তাকে কয়েকটি কাব্যচরণে উপস্থাপন করেন। সমসাময়িক আর্থ-সামাজিক, জিয়ো-পলিটিক্যাল প্রসঙ্গগুলো কবিতায় জুড়ে দেন অনায়াসে। কবিতাকে ভাষিক দুর্বোধ্যতা থেকে মুক্তি দেন। পাঠক নিজেকেই আবিষ্কার করতে পারে কবিতায়, দেখতে পায় তাকে। অনুসন্ধান করতে পারে জাতিসত্তার উৎসশেকড় ও ক্রমবিকামানশধারা। এটি মজিদ মাহমুদের কাব্যশক্তির পরিচয়। এর চেয়েও বড় কথা, দেশ ও দশের প্রতি, মানুষের প্রতি কবির অফুরন্ত ভালোবাসার অঙ্গীকার।    

কবিতা মজিদ মাহমুদের কাছে হাতিয়ার স্বরূপ। কবিতা দিয়েই মজিদ মাহমুদ পাঠককে জাগিয়ে দেন, আশান্বিত করে তুলতে পারেন। ভবিষ্যতের একটি শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারেন। অতীত থেকেই সাহস সঞ্চয় করতে হয়। বাঙালি হারে না, বাঙালি জিতে। একটা উইকেট পড়লে আরেকটা, তিরিশলক্ষ পড়লে আরো ত্রিশকোটি- এভাবে এরকম কয়েকটি শব্দবন্ধে কীভাবে মজিদ মাহমুদ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে চিক্রকল্পে রূপায়ন করেন। কবি বলেন- 

‘বাংলাদেশ হারে না- হারতে হারতে জিতে যায়
একটা উইকেট পড়ে গেলে আরেকটা থাকে
সবগুলো পড়ে গেলেও
ঘুরে দাঁড়াবার আকাঙ্খা থাকে  
তিরিশ লক্ষ পড়লেও  
আরো ত্রিশ কোটি পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে।’ 

এর চেয়ে মহৎ কবিতা আর কী হতে পারে? মুক্তিযুদ্ধের কত কবিতাই তো আমরা পড়েছি। সেগুলো কোনো না কোনোভাবে চোখের জলে ভেজা কিন্তু এই কবিতাটি সবজল মুছে দিতে চায়, শক্তি সঞ্চয়ে প্রেরণা জোগাতে চায়। অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দিতে চায়। মানুষের ভেতরের সুপ্তশক্তিকে সম্ভাবনাময় করে তুলতে চায়। ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকার দায়িত্ব পালন করতে চায়। বলতেই হয়, অভিনবত্ব। এই অভিনবত্বের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য।

ছয়
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতায় এই প্রকৃতির অভিনবত্বের প্রাচুর্য্য বিদ্যমান। বল উপাখ্যান, আপেল কাহিনী, গোষ্ঠের দিকে, ধাত্রী ক্লিনিকের জন্ম, সিংহ ও গর্দভের কবিতা, অনুবিশ্বের কবিতা, ভালোবাসা পরভাষা, মাহফুজামঙ্গল, গ্রামকুট, দেওয়ান-ই-মজিদ, কাটাপড়া মানুষ, লঙ্কাবিযাত্রা, শুড়িখানার গান, সমীরণজেঠুর বারান্দা, বায়োস্কোপ- এরকম পনেরোটি কবিতাগ্রন্থ একটি মলাটে আশ্রম প্রকাশনা প্রকাশ করেছে মজিদ মাহমুদের কাব্যসমুচ্চয়। পাঠক এখানে কবি মজিদ মাহমুদের কাব্যবোধের সমগ্রতাকে দেখে নিতে পারবে একপলকে; সঙ্গে নিজেদেরও খুঁজে পাবে। পাবে স্বসমাজ, স্বসময় ও স্বকালের সুখদুঃখ, ব্যথাবেদনার কাব্যবয়ান। ইতিহাস-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি, ভূরাজনৈতিক, আর্থসামাজিক, পুরাণ ও মিথের প্রয়োগশৈলী ইত্যাকার নানাবিধ অনুষঙ্গ থাকলেও এ সবকিছুর কেন্দ্রমূলে রয়েছে মানবসত্তার ক্রন্দনকথা ও মুক্তির বিপুল আকাঙ্ক্ষা। কাব্যান্বিষ্টবস্তু, বিষয়বিন্যাস, উপস্থাপনাশৈলী, নান্দনিক সুর ও স্বর সংযোজনে, ভাষিক বোধবুদ্ধির গভীরতা এবং মানবমুক্তির সুতীব্রতায় গ্রন্থটি অনন্য। কবি মজিদ মাহমুদের কাব্যসমুচ্চয় পাঠকের কাছে সমাদর লাভ করবে- এটি আমার আন্তরিক বিশ্বাস।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড