• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

বই আলোচনা

‘বত্রিশের সবুজ পাতা’ একটি শোকগাথা ইতিহাসের নাম

  ফখরুল হাসান

১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৩:১২
প্রচ্ছদ
কিশোর উপন্যাস : বত্রিশের সবুজ পাতা

পৃথিবীর ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে অনেক শিশুকিশোর। তাদেরকে নিয়ে রচিত হয়েছে হয়তো অনেক গ্রন্থ। অনেক ইতিহাস গৌরবের, আনন্দের। আবার এমন কিছু ইতিহাস আছে যা লজ্জার ঘৃণার শোকের। শেখ রাসেল হত্যাকাণ্ডও তেমনি এক ঘৃণিত অধ্যায়। 

এদেশের শান্তিকামী দেশপ্রেমিক জনগণ চিরকাল ঘৃণা ভরে উচ্চারণ করবে শেখ রাসেলের হত্যাকারীদের। শেখ রাসেলকে নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে, লিখেছেন দেশের অনেক নামীদামী লেখকগণ। এ যাবত তাকে নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক গল্প। অজস্র ছড়া। নিবন্ধ। লেখা হয়েছে জীবনী। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবেই মোজাম্মেল হক নিয়োগীই প্রথম দাবিদার। শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়দের জন্যও এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শিশুতোষ উপন্যাস। সেই ছোট্ট রাজকুমার শেখ রাসেলের জীবনের কথাগুলো সাজিয়ে সর্বপ্রথম উপন্যাসটি লেখেন কথাসাহিত্যিক মোজাম্মেল হক নিয়োগী। যেন ইতিহাসের পাশে রাখা আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিনি। 

মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই। পরিবারে সবার প্রিয়, সবচেয়ে আদরের। মায়ের বুকের ধন। সোনা মানিক। চাঁদের কণা। সবাই আদর করে ডাকত রাসুমণি। বত্রিশের সবুজ পাতা রাসুমনিরই জীবনআখ্যান। রাসুমনির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অজস্র বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে ছোট ছোট গল্পের আনন্দ, সুখ-আহ্লাদের কথামালা শেষ পর্যন্ত বুকফাটা কষ্ট ও বেদনার স্রোতের সঙ্গে মিশে হয়ে উঠেছে এক কালজয়ী শিশুতোষ বা কিশোর উপন্যাস ‘বত্রিশের সবুজ পাতা’। 

একজন পাঠক হিসেবে লেখককে সাধুবাদ জানাই এমন দুঃসাহসিক কাজ করার জন্য। দুঃসাহসিক বলছি এই কারণে যে, শেখ রাসেলকে নিয়ে উপন্যাস লেখা আর অন্য দশটি উপন্যাসের মতো নয়। বাঙালির সহস্র বছরের মহানায়ক-জাতির জনক তিনি। দেশপ্রেম, সাহসিকতা, সততা, দয়া মমত্ববোধ ও মানবিক সৌন্দর্যে দেদীপ্য অতুলনীয় সেই মৃত্তিকা পুরুষের ঘর আলো করা সবচেয়ে কনিষ্ঠ শিশুপুত্র রাসেল। শেখ রাসেল। সেই রাসেলকে নিয়েই রচিত এক অনন্য আখ্যান ‘বত্রিশের সবুজ পাতা’। এই চরিত্রটি ঐতিহাসিক, তাই ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ঠিক করে যে কল্পকাহিনী তৈরি করেছেন তা কষ্টকর। সাহসেরও প্রয়োজন। ইতিহাস এমনকি শেখ রাসেল সম্পর্কে সঠিকভাবে পাঠককে জানাতে হবে। লেখক উপন্যাসের কাহিনিটি পরিণতিতে নিয়ে দাঁড় করালেন করুণ ইতিহাসের চোখ-ভেজা এক আসরে। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার স্বাধীনতা বিরোধী দৈত্যরূপী নরপশুর দল কীভাবে হত্যা করেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যবৃন্দকে। কীভাবে চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে শেখ রাসেলের ফুলেল ঠোঁটের দীপ্র হাসি। বাস্তবে দেখার মতোই সেইসব মর্মস্পর্শী করুণ চিত্র লেখক এমনভাবে ইতিহাসের অংশটি চিত্রিত করেছেন যেখানে পাঠক কষ্টের জালে জড়িয়ে যায়। আমি মনে করি লেখক সেই কাজটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। শেখ রাসেলের জন্ম থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন সুনিপুণভাবে কখনও কল্পনায় এনেছেন শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক কথোপকথন, কখনও ইতিহাসের সিঁড়ি বেয়ে উঠেছেন বত্রিশ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে। 

বত্রিশের সবুজ পাতা কিশোর উপন্যাসটি পড়লেন যে কোনো পাঠকও বুঝতে পারবেন উপন্যাসটি লেখকের অসাধারণ একটি গ্রন্থ। যদিও লেখক ভূমিকায় লিখেছেন, ‘আমি ইতিহাস লিখিনি, লিখেছি উপন্যাস। তাই অনেককিছুই কল্পনায় সৃষ্টি। ইতিহাস জানতে হলে ইতিহাসের বই পাঠ করতে হবে।’ আগেই বলেছি, শেখ রাসেলের জীবনভিত্তিক সর্ব প্রথম রচিত উপন্যাস এটি। শিশুসাহিত্য জগতে এক অনন্য সৃষ্টি। গ্রন্থটি পাঠ করার পর আলোচনা না করলে একজন সচেতন পাঠক ও ক্ষুদ্র লেখক হিসেবে নিজের কাছে অপরাধী মনে হবে। 

তাই অনেকটা দায় মুক্তির জন্য হলেও শেখ রাসেলের জীবনী নিয়ে লেখা কিশোর উপন্যাস বত্রিশের সবুজ পাতা নিয়ে আলোচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমি আমার ব্যক্তিগত পাঠ অভিজ্ঞতা ও পাঠ পর্যবেক্ষণ থেকে কিশোর উপন্যাসটির সামগ্রিক ঘটনার কিছুটা বিশ্লেষণ বা আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি। আশা করি এই কিশোর উপন্যাসটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখক, পাঠক এবং শেখ রাসেলকে নিয়ে যারা গবেষণা করতে চাইবে তাদের জন্যে মৌলিক উপাদান হিসাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

কিশোর উপন্যাস : বত্রিশের সবুজ পাতা 
লেখক: মোজাম্মেল হক নিয়োগী 
প্রকাশ কাল : জাতীয় গ্রন্থমেলা ২০১৬
প্রচ্ছদ : মামুন হোসাইন 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড