• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বই আলোচনা

নন্দিত শকুনের উল্লাস : একটি বিপ্লবের আগ্নেয়াস্ত্র

  এরশাদ জাহান

০৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:৩২
প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘নন্দিত শকুনের উল্লাস’

সমসাময়িক কবিদের মাঝে যে ক’জন ‘মানুষ’ নামক দায়বদ্ধতা থেকে দেশ মা মাটি ও মানুষের কথা, অধিকারের কথা অবিরাম লিখে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কবি লুৎফুল বারী রেজভী। কবিতাকে যিনি বেছে নিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আগ্নেয়াস্ত্র  হিসেবে। আর জগতের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য মাত্রই বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ের আর্তনাদ ও কান্না। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, ব্যঙ্গ, শ্লেষ, প্রতিবাদ দ্রোহের শব্দমালায় উচ্চারিত লুৎফুল বারী রেজভীর এই তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নন্দিত শকুনের উল্লাস’।

কবি তার মাতৃভূমিতে জন্ম নিয়েই কণ্ঠে তুলে নিয়েছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ দু’চোখ জুড়িয়েছিলেন সবুজের বুকে লাল খচিত পতাকা দেখে। হৃদয়পটে এঁকে নিয়েছিলেন প্রিয় বাংলাদেশ নামক একটি মানচিত্র; যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ থাকবে নিরাপদ। সবার অধিকার থাকবে সুরক্ষিত এবং স্বাধীনতা নামক ফুলটিও তার স্বমহিমায় প্রস্ফুটিত হতে থাকবে। কিন্তু কই? স্বাধীনতার চার দশক পরেও যখন কবি দেখেন - গণতন্ত্রের দোহায় দিয়ে জাতির জনকের সোনালী স্বপ্নগুলোকে ভূলুণ্ঠিত করে প্রতিনিয়ত জনগণের অধিকার হরণ করে রক্তের হুলি খেলায় মগ্ন হয়ে পাশা খেলার ন্যায় পালাক্রমে মসনদ মসনদ খেলা খেলছে ঠিক তখনিই কবি উচ্চারণ করেন-
‘স্বাধীনতা আজ মরফিনে আসক্ত
বালকের মত; কখনো অস্থির কখনো নিথর,
কখনো আবার পতিতালয়ের চামড়া বিক্রেতা।’
                                 (স্বৈরাচার সমাচার)

স্বাধীনতা তো মানুষের দোয়ারে দোয়ারে পৌঁছে দিবে সুরক্ষিত অধিকার; নিরাপদ নির্বিঘ্নে বাঁচা, খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্থান। তাহলে এর উল্টোটা ঘটছে কেনো! নাকি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা লুট হয়েছে কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ মোড়লের ঘরে বন্দি হয়ে ডানা ঝাঁপটাচ্ছে? জনগণ যখন স্বাধীনতার সুফল দূরে থাক গন্ধও পাচ্ছে না ঠিক তখনই দুঃখে রাগে ক্ষোভে উচ্চারণ করেন-
‘যা বলেছি আবোল তাবোল
বদ্ধ পাগলের প্রলাপ
স্বাধীনতা, বাঙ্গালীর স্বাধীনতা
কী যে বলেন মশাই
কোথায় পাব, হা হা হা!’
              (কোথায় পাব স্বাধীনতা)
স্বাধীনতার সাথে গাঁটছড়া বেঁধে মানুষের অধিকারগুলোও যখন হরণ ও হারিয়ে যায় তখন জনগণের কোথায় গিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে? প্রতিনিয়ত গুম খুন সন্ত্রাস ও ধর্ষণের মতো পৈশাচিকতা চলছে রাষ্ট্রীয়। কিন্তু এর সূক্ষ্ম বিচার তো হবে নাকি? তাও তো হচ্ছে না।হবেই বা কি করে? অপরাধী যদি হয় আমরা আর মামুরা! এবং কি তাই নয় যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় নিয়েও যখন হস্তক্ষেপ, অদৃশ্য আঙুলের ইশারা চলে। আইন- আদালত হয়ে যায় হাতের পুতুল তখন কবি রাগে ক্ষোভে ব্যঙ্গ জুড়ে দিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেন-
‘এসো সবাই সমস্বরে গাই
জয় পেটিকোট,  জয় পেটিকোট!
কেন নয়, সমস্ত কোর্ট ঢুকে গেছে
একটিমাত্র পেটিকোটের ভেতর।’
                   (জয় পেটিকোট)

কবি গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পড়েছিলেন ‘জনগণের সরকার, জনগণই সরকার’ অতএব, জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ, ভাত ও ভোটের অধিকার বাস্তবায়নই হবে গণতান্ত্রিক সরকার/ রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল কাজ। অথচ, সেখানে কিনা জনগণের ন্যায্য প্রাপ্যতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হয়! তখন শাসককুলের পক্ষ থেকে ঘুমন্ত, কলুর বলদগুলোর মতো দুর্ভাগা জনতাকে কবি শোনান-
‘শালা শুয়োর
পানির দামে আলু কিনে খা,
ভাত খাবি মাড় খাবি?
নে তবে মার খা।’
            (স্বাধীনতার ঘোষণা)

ভোটে বিনাভোটে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধিরা যখন জনঅধিকার হরণ করে অনধিকার চর্চা করে,
ব্যাংক বীমা লুট করে, রিজার্ভ ভানিস! শেয়ার বাজার ধ্বংস করে,সোনাকে তামা বানাতে পারদর্শী হয়ে উঠে এবং চুরির সীমানা  কয়লাতে
গিয়ে ঠেকে আর থলের বিড়াল বের হলে দোষী সাভস্ত করে প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণীর নির্দোষ কর্মচারীকে! তখন কবি ব্যঙ্গবোমা ও প্রতিবাদ নিক্ষেপ করেন এভাবেই-
‘জানোয়ার যখন জনপ্রতিনিধি
ব্যাংক লুট হবে
রিজার্ভ লুট হবে
সোনা চুরি হবে
কয়লা খেয়ে ফেলবে,
অথচ, আমানতের খেয়ানত করার অপরাধে গর্দান যাবে নেতু মিয়ার;
সমস্ত কয়লা নাকি তার বৌ দাঁত মেজে সাফ করে ফেলেছে।’
                                          (জানোয়ার যখন জনপ্রতিনিধি) 

যারা প্রতিনিয়ত দেশটাকে অজগরের মতো আস্ত গিলে খাচ্ছে! মুখে স্বাধীনতা স্বাধীনতা চিৎকারে মানুষ পাখি পতঙ্গ ও পরিবেশকে ঝালপালা করে তুলছে ওরা আসলে কারা? কবির ভাষায় ওরা হলো-
‘ওরা আসলে মানুষ নয়
এদেশে ফেলে যাওয়া বিহারীদের উচ্ছিষ্ট বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কালকেউটে কুলাঙ্গার
নিশ্চয় শালারা চমৎকা হারামখোর।’
                             (স্বরাজখেকো)

নিগূঢ়তত্ত, গুরুবাদী ও মুক্তচিন্তার কবি তার চারপাশে চেয়ে দেখে প্রতিবেশী অর্ধাহার অনাহারে দিন কাটায়, পথের শিশুটা খোলাকাশের নিচে রাত কাটায় কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে  অথচ তাদের মুখে অন্ন তুলে না দিয়ে বর্বর বকধার্মীকেরা মাটির অকেজো ঈশ্বরের মুখে খাবার তুলে দেয়। লক্ষলক্ষ টাকা ব্যয়ে নামের আগে  আলহাজ্ব টাইটেল লাগাতে সৌদি যায়! কোটিকোটি টাকায় মসজিদ মন্দির নির্মাণ করে অদেখা ঈশ্বরের পূজা করে অথচ, ঈশ্বর পথের শিশু ও অনাহারী পড়শির সাথে অনাহার যাপন করে। তাই তো মনান্ধ বকধার্মিকদের উদ্দ্যেশে কবি বলেন-
‘জেনে রাখ হে বর্বর বকধার্মিকেরা
মৃত ঈশ্বর তোমাদের পরিত্রাণ দেবে না!
জীবিত ঈশ্বরের পায়ের ধুলো নাও,
মৃত ঈশ্বরের মুখের গ্রাস কেড়ে এনে
অর্ঘ্য সাজিয়ে দাও জীবিত ঈশ্বরের পায়ে।’
                        (মৃত ঈশ্বর ও বকধার্মিক)

প্রতিবছর আগস্ট এলে শোক নয় সুখ রেলী বের হয়। নেতায় ভাগবাটোয়ারায় ব্যস্ত থাকে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা সংগঠনগুলোকে খুশি রাখতে। এমপি মন্ত্রী আমলা কামলাগুলো পিতার কবরের পাশে গলাবাজি ও মেকি কান্নার রোল করে! এসব দেখে কবির দুঃখ হয় তাই তো পিতার প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে পিতাকে শুধায়-
‘আজ আর আক্রোশ নয়
আক্ষেপ প্রকাশ করছি,
আমি চাইনি তোমার রক্তে
হায়েনার মেশিনগান স্টেনগান গোসল করুক;
আমি চেয়েছিলাম তোমার তর্জনী আর
সততার গর্জনে সুভদ্রে পরিণত হোক বাঙালি
কাঙালিপনা ধূলিসাৎ হোক চিরতরে।’
                      (হে আমাদের প্রিয়তম পিতা)

ক্রসফায়ার গুম, খুন যখন আমাদের আলুভাত সেখানে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাওয়াও বিব্রতকর! এবং আরও অতীতের ট্রাজেডিকে মনে করি

ক্রসফায়ার গুম, খুন যখন আমাদের আলুভাত সেখানে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাওয়াও বিব্রতকর! এবং আরও অতীতের ট্রাজেডিকে মনে করিয়ে দেয়। কবি ভাবেন যেখানে মুজিব, জিয়ার মূল্যায়ন করতে পারেনি বাঙালি সেখানে পরিবর্তনের পাখি কিভাবে পাখা মেলবে? তাই তো কবি বলেন-
‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তো কেবল বোকারাই চায়
যেখানে জাতির পিতার ঝাঁঝরা লাশ
সিঁড়িতেই পড়ে ছিল ছাব্বিশ ঘণ্টা,
প্রেসিডেন্ট জিয়ার নিথর দেহ
সাক্ষী দিয়ে যায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর!
তারপরে আরও কতশত মুক্তমনা
বিচার বহির্ভূত, নামীবেনামী কত হত্যা
আমাকেও অস্বাভাবিক মৃত্যুর
দলিল দিয়ে যায় প্রতিনিয়ত।’
(অস্বাভাবিক মৃত্যু)

গুম,খুন, ক্রসফায়ারে যখন প্রিয়তমা বধূর সিঁথির সিঁদুর মুছে যায়, স্নেহময়ী মায়ের বুক খালি হয়, বৃদ্ধ পিতা স্বাধীনতার আঁতুড়ঘরের স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতিগুলো মনে করে করে চোখের জলে বুক ভাসায় তখন আর্তনাদে ভারি হয় আকাশ বাতাস! তখন গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বুঝি না রাষ্ট্রের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাওয়াটাই হয়ে উঠে ব্যথিতের জন্য নয় শুধু প্রতিটি নাগরিকের জন্যই আর্তনাদ ভুলবার মন্ত্র ও একমাত্র চাওয়া।তাই তো কবি ব্যথিত ও জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে বলেন-
‘স্বাধীনতা
গণতন্ত্র
স্বার্থের মন্ত্র
তোদের থাক,
আমার পাওনা বুঝিয়ে দেহে পিশাচীরা
পিশাচ সামলা, দরকার নেই আমার সোনার হরিণ
স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দে এই বঙ্গে।’
(স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি)

সাম্রাজ্যবাদ, দালাল, পদলেহনকারী শেয়াল শকুনদের উদ্দেশ্যে কবি লক্ষ্যভেদী তীর ছুঁড়ে দেন এভাবেই-
‘শৃগালের লেজ ধরেধরে আসে
এখানের প্রতিটা নতুন ভোর;
আমি নপুংসক সুর মিলাই তালি বাজাই
পা চেটে যাই বেশ্যাপাড়ার দালাল নামক
লালসার পূজারি কর্তাবাবুদের।’
(দালালীপনা)

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি সাজিয়ে যখন গলা উঁচিয়ে  মাউথপিছ ও মঞ্চ কাঁপিয়েছে ভোটের পর তারা জনগণের দোয়ারে যাওয়ার পথও চেনে না! তখন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিগুলো অধিকার বঞ্চিত আমজনতার কাতারে দাঁড়িয়ে একবুক ঘৃণাসহ কবি এভাবেই ফিরিয়ে দেন-
‘সে বলেছিল আমাদের কেড়ে নেওয়া
অধিকার ফিরিয়ে দেবে
সাথে দেবে সাত টাকা কেজি লবণ
আর দশ টাকা কেজি চাল,
অথচ, এখন হন্যে হয়ে হাতড়ালেও একগাছা
মরা মানুষের বালও পাওয়া যায় না!’
(বিশ্বাসঘাতক)

দেশের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ খবরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রিন্ট ও প্রেস মিডিয়াগুলো যখন নিজের চামড়া বাঁচাতে ও নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে হাসিল করতে বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে সরকারের আজ্ঞাবহ দাস হয়ে যায়। কতিপয় প্রগতিশীল নামক অতিপ্রগতি ‘শীল’রা বিবেক ও লাজ শরমের মাথা খেয়ে সাফাই গাইতে শুরু করে তখন কবি ক্ষোভ শ্লেষ ও খিস্তিখেউর মিলিয়ে এভাবেই তীর ছুঁড়েন-
‘দেখি আর দেখি, চেখেচেখে দেখি
চর্ম চক্ষু দিয়ে
পত্রিকার হেডলাইনগুলো ভোর হবার আগেই
খেয়ে ফেলে সতিনের সৎ ছেলেগুলো,
অবশেষে হুলোর মত সাংঘাতিক কলম যোদ্ধারা
গায়ে খেটে চেটেচেটে পরিষ্কার করে দেয়;
ঈশ্বরমাতার নিম্নাঙ্গ হতে ঝরে পড়া
লালচে নোনা নোংরা সব আবর্জনা।’
                   (ঈশ্বরমাতা ও জারজ সন্তান)

সংবিধান, গণতন্ত্রকে একনায়কতন্ত্রের হেমলক পান করিয়ে যখন সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে জেল, জরিমানা, গুম, খুন ক্রসফায়ার ও বন্দুকের নিশানা করেন। ধর্মগুলোকে বানান ক্ষমতায় আরোহণের তুরুপের তাস তখন কবি উচ্চারণ করেন -
‘এখানে রাজনীতি নিষিদ্ধ
এখানে ধর্ম কথা নিষিদ্ধ
এখানে প্রসিদ্ধ দালালেরা কামাল করুক,’
(বাংলার জারজ সন্তান)

মহাবিশ্বকবি খ্যাত কবি কাজী নজরুল ইসলাম হারমোনি গলায়  বেধে রাজপথে ঘুরে ঘুরে যখন আর বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের গান বাজান না। দ্বিতীয় নজরুল খ্যাত ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যখন ধূমকেতুর মতো নিভে গেলেন বাঙালি ও বাংলার বিদ্রোহ যেন মেঘ ও আঁধারের আড়াল হতে লাগলো। সুভাগ্যবসত, নতুন করে মেঘ ও আঁধারকে কচুকাটা করে বিদ্রোহ ও প্রতিবাদকে জাগিয়ে তুলতে এলেন তরুণ কবি লুৎফুল বারী রেজভী। সবশেষে,
এই তরুণ কবির সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি এবং তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত জাগরণের নতুন গান উপহার দিবেন এই আশা রাখি।

কাব্যগ্রন্থ : নন্দিত শকুনের উল্লাস
লেখক :  লুৎফুল বারী রেজভী
প্রকাশক : হরিৎপত্র
প্রকাশ কাল : জাতীয় গ্রন্থমেলা ২০১৯

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড