• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বই আলোচনা

বিদ্রোহী বিক্ষোভ: কাব্যে সুন্দরের আরাধনা

  নাসিম আহমদ লস্কর

১৯ জুন ২০১৯, ১৩:০১
প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘বিদ্রোহী বিক্ষোভ’

বসন্তকাল যেমন প্রকৃতিকে নানা রঙের খেলায় লিপ্ত করে ঠিক তেমনি প্রকৃতি, সমাজ, সংস্কৃতি, প্রেম-ভালোবাসা ভাবুক মানুষদের সৃষ্টির খেলায় লিপ্ত করে। সৃষ্টিই মূলত সৃষ্টিশীল মানুষদের নেশা ও পেশা। সৃষ্টিশীল মানুষ নতুন কিছু সৃষ্টির সন্ধানে উন্মুখ হয়ে থাকে। নতুনত্বের পুঁজ করে তাঁরা পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করে।

কবি ফাহমিদা ইয়াসমিন একজন নতুনত্বের সৃষ্টিশীল পূজারী। তার চিন্তার সমুদ্রে নিত্য হোলি খেলে নতুন কিছু সৃষ্টির ভাবনা। দীর্ঘদিন থেকে রচনা করে আসছেন কবিতা, গল্প ও উপন্যাস। সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ ঝোঁক। প্রবাস জীবনে শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সাহিত্য সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। প্রেম ও প্রকৃতির এই কবি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়কাপন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। অমর ২১শে বইমেলা ২০১৯ এ ‘লিখন প্রকাশন’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘বিদ্রোহী বিক্ষোভ’।

বইটিতে মোট ৫২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলোতে স্থান পেয়েছে প্রেম, বিরহ, ভালোবাসা, দ্রোহ, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও নস্টালজিয়ার কথা। এ নিবন্ধে কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
সমাজে কিছু মুখোশধারী মানুষ রয়েছে যারা সবসময় নিজের সুবিধা আদায় করে। পরোপকারের কোনো লক্ষ্য তাঁদের মধ্যে বিরাজ করেনা। কবি তাঁর কাব্যিক ভাষা দিয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন এসব মানুষগুলোর প্রতি।
‘ধর্ম কর্ম কেন করো
সাপ যদি হও তবে,
মানুষ হওগো আগে বন্ধু
নয়তো পঁচে রবে।’
        ‘সাপ’

ভালোবাসা এক রহস্যময় শব্দ যা মানতে নারাজ কোন বাঁধা-বিপত্তি। প্রিয়জন যদি হাজারো কষ্ট দেয় তারপরও মানুষ তার প্রিয়জনের একটুখানি সঙ্গ পেতে চায়। ভালোবাসায় রাখতে নেই কোন অভিমান আর আর্তনাদ। শুদ্ধ প্রেমিক-প্রেমিকা তাঁর ভালোবাসার মানুষটির সাথে কাটিয়ে দিতে চায় জীবনের অষ্টপ্রহর। কবির কবিতা শুদ্ধ প্রেমেরই আরাধনা করে।
‘ভালোবাসি বলে
ভাসাতে পারো জলে
কষ্টের নীল সমুদ্রে বার বার কাঁদাও।

ভালোবাসি বলেই
তোমার তরে কেটে যায়
জীবনের অষ্টপ্রহর।’
        ‘ভালোবাসি বলে’

দেশপ্রেম প্রতিটি কৃতজ্ঞ মানুষের কখনো সুপ্ত কখনোবা জাগ্রত অবস্থায় থাকে। বাংলা ভাষার প্রতি প্রতিটি বিবেকবান বাঙালীর রয়েছে শুদ্ধ ভালোবাসা। প্রবাসের মাটিতে গিয়েও কবি ভুলতে পারেননি তাঁর আপন মাতৃভাষা বাংলাকে। লিখেছেন বাংলা ভাষা নিয়ে কবিতা।
‘বাংলা আমার প্রথম বুলি
বাংলায় বলি মা,
বাংলা ছাড়া বললে কথা
পরাণ জুড়ায় না।’
        ‘বাংলা আমার মায়ের ভাষা’

সত্য সবসময়ই সুন্দর কিছু উপহার দেয়। সত্যই পৃথিবীকে স্বর্গময় করে তুলতে পারে। কবি তাঁর কবিতায় সত্যের আরাধনা করেছেন।
‘সত্যের জন্য এগিয়ে যাও
সুন্দর সৃজিত হোক বন্ধু
...চাষ করো পৃথিবীর শান্তি
ভ্রান্তিরা ঘুমে যাক।’
            ‘অভিনয়হীন বাস্তবতার’

যা কিছু সত্য ও সুন্দর; যা প্রেম ও সাম্যের গান গায় তারই জয়গান গায় কবিতা। কবিতায় ফুটে উঠে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেতনা। বইটির বাকি কবিতাগুলোতেও ফুটে উঠেছে সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ও মানবজীবনের চিন্তা-চেতনার নানা দিক। কবি এ বইটিতে সত্য ও সুন্দরের আরাধনা করেছেন এবং বেশিরভাগ কবিতায় সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন কামনা করেছেন। বইটি পাঠ করলে পাঠকমনে ইতিবাচক চিন্তা চেতনার উদ্রেক ঘটবে। আমি বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড