• শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সানাউল্লাহ সাগরের তিনটি কবিতা

জীবন, অন্য নামে ডাকলে বিড়বিড় করে কাঁদে

  সানাউল্লাহ সাগর

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৪৮
কবিতা
ছবি : জীবন, অন্য নামে ডাকলে বিড়বিড় করে কাঁদে (প্রতীকী)

টাইমিং

জীবন আশ্চর্য এক দূরত্বের নাম কখনো কলকলিয়ে নেমে যায় চাঁদের চৌকিতে আবার কখনো খিলখিলিয়ে সরে যায় আপাত শরমের নিপলে। জীবন, অন্য নামে ডাকলে বিড়বিড় করে কাঁদে ফুটে থাকা কান্নায় হাত বুলিয়ে গেয়ে ফেলে নি:সঙ্গ রেস্তোরার যৌবন।

কিছুটা অলিখিতই থাকে ফুল ও ফলের দৃষ্টিদানে এবং আংশিক প্রলোভন পেড়িয়ে উড়ে যায় খড়ের মোলায়েম যাদুঘরে। জীবন মায়াহীন অংকের বেওয়ারিশ চামচার পেখম। অল্প ঢাকেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় রোদে। কাঁপতে কাঁপতে চৈত্রের খৈলানে ছড়িয়ে যায়। আর বেহুশ ঘানি রেখে তাহতালি বাজায় জ্বলে...

জীবন আমাদের পাড়ার হান্নানের নাম। বউ বাজানো রাত শেষে চুপচাপ গোসল করে সকালে ক্রি ক্রি দৌড়ে যায় ট্রলারে। সারাদিন রোদে পোড়ে। সুগন্ধার স্নেহভংয়ে দুনিয়া ঘুড়িয়ে বাড়ি আসে রাত বেলালের সাথে। ততক্ষণে সন্ধ্যার পরিরান্না শেষে তৈরি হয়ে যায় কুহকিনী। জীবন এক চোট্টামির নাম। জীবন অন্ধকারে একত্রিত একগুচ্ছ রয়ানির নাম...

রয়ানি

যতবার তোমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চিন্তা করি। অগ্রহায়ণের মতো উড়ে উড়ে পালানোর ইচ্ছে করে। ঠিক পিছনে এসেই তুমি দাঁড়িয়ে যাও। অলংকারিত ঢেউ নাচিয়ে ছুঁয়ে দাও বিস্ময়। আলোতে আলোতে মেখে যাই আমি। অর্ধেক আহ্লাদ রেখে উচ্চস্বরে বেজে উঠি ফের। কোনোভাবেই তোমাকে ছেড়ে যাওয়া হয় না।

যতবার তোমার চুরি যাওয়া আমিকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করি। নিঃসঙ্গ রাতে ব্যালকনি গিয়ে মিথ্যা আকাশের হাতে গল্প লিখি। নাচ্ছর কেচ্ছার মুখে উবু হয়ে ঘ্রাণ নিতে চেষ্টা করি। অবহেলার ক্রি ক্রি বিজনেসে নেশাগ্রস্থ ভুলের কাছে ফিরে আসি। চুরি যাওয়া আমাকে আমার আর কোথাও খুঁজে পাওয়া হয় না।

শেষ অব্ধি আমিতে তুমি আর তুমিতে আমি! লাঙলের বিশ্বাসে চাষ হতে থাকি বিশ্রমহীন। জোয়ালের ফোঁপানো ঈদ থেকে বাড়ি ফেরা মুদি স্বপ্নের কাছেও কোনো হাতপাখা মেলে না। জেলে পাড়ায় ইলিশের ছবি এঁকে, পাড়া বেড়ানো আঁচলের দিকে তাকিয়ে থাকি। দূরত্বের অভাবে আবার নিজেকেই ঘিরে রাখি। অযত্নে ভয়ের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাছাই করে রাখি আমাকে আর তোমাকে হারানোর শোধ নিতে।

আইলের সন্ধি

চলে যাওয়াটাই মুখ্য। বিন্দুতে বুঁদ হওয়াও কিছুটা ভৌতিক। তারপরও দৃঢ় হয় না-দৃশ্য; জ্বলজ্বলে অন্ধকারে ডুব নেয় সহসা ভাইসা ওঠা মৌবন। সারাবেলা জড়িয়ে থেকেছে তাথই। এবং শাদা যন্ত্ররা বিজ্ঞাপিত হচ্ছে বিরল। গতি অঞ্চলে নিন্দিত সহবাস রেখে বৈঠকি আউলা- ঝাউলা গেলো। বিলবোর্ডে দাঁড়ালো কর্তিত রহস্য দোলক। আর্য ডাকে হে বালক ঘূর্ণিতে মন দাও। বিকশিত হও অনার্যের ঘুড্ডিতে। আরো অনেক তাথই সাজে নিষিদ্ধ পারাপার ঘোরে। জমিনের অক্ষরে বাকলা ভিজে ভিজে ক্ষুধার্ত এখন। ফিরে দেখা জটলা খরচের খাতায় গেঁথেছে দুর্বার। দেয়ালের দরদাম নিম্নগামী হাওয়ায় জ্বলে; ব্যকুল সন্ধ্যায় গন্তব্য জালে প্রবীণ ক্ষত কার!

আরও পড়ুন- বিষ্ণু দের ‘জল দাও’

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড